নির্বাচনী টুকিটাকি বিভক্ত কমলগঞ্জ বিএনপি

প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

দলীয় কোন্দলে দীর্ঘদিন ধরে দুই ধারায় বিভক্ত রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। নেতৃত্ব নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বিধাবিভক্তির এ খেলা চলছে নবম সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই। নেতাকর্মীরা জানান, আগামী একাদশ নির্বাচনেও বাড়বে এর রেশ।
২০০৯ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন করার পর দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নেয়। রাজনীতির মাঠে গুঞ্জন রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য হাজী মুজিব ও অপর সদস্য জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান বলয়ে মাঠে রয়েছেন। এ অবস্থায় গত ৩০শে আগস্ট কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর ২৬শে সেপ্টেম্বর পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি-পাল্টা কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপিতে নতুন করে দেখা দেয় কোন্দল। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির পাশাপাশি প্রকাশ্যে ও ফেসবুকে চলে একে অপরকে ঘায়েল করার প্রতিযোগিতা। তাতে ক্ষোভ ঝাড়ছেন পদ-পদবি বঞ্চিতরা।

এতে রাজনীতির মাঠের সঙ্গে সরব হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, গত ৩০শে আগস্ট গোলাম কিবরিয়া শফিকে সভাপতি ও আলম পারভেজ চৌধুরী সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীর অভিযোগ ওই কমিটিতে ঠাঁই হয়নি দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের। পরে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা দুরুদ আহমদকে সভাপতি ও আবুল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা বিএনপির পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে। ১০১ সদস্যের এ কমিটি গত ২৬শে সেপ্টেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অনুমোদন দেন। জেলা বিএনপি অনুমোদনকৃত শফি-সোহেলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ঘোষণার ২৭ দিনের মাথায় দুরুদ-আবুলের নেতৃত্বে গঠিত কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পাল্টা এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি পাল্টা কমিটি ঘোষণার খেলায় দলীয় নেতাকর্মীর চেয়ে বিএনপি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন মন্তব্য দলীয় কর্মীদের। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) কমলগঞ্জ শাখার সভাপতি সাজ্জাত পারভেজ (মনি) বলেন, বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এখানে নেতৃত্বের পছন্দ-অপছন্দ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যক্তি স্বার্থে যারা দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব কোন্দল সৃষ্টি করে তারা কখনো বিএনপির আদর্শের সৈনিক নয়। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, জেলা বিএনপি কমিটি অনুমোদন দেয়ার পর অপর একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে দেয়া কমিটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারপরও আমরা জেলা নেতারা কেন্দ্রে যোগাযোগ রাখছি যাতে একটা সমাধানে পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। নির্বাচন আর দেশনেত্রীর কারামুক্তিকে সামনে রেখে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কমিটি-পাল্টা কমিটি ঘোষণা নিয়ে নেতাকর্মী বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নেতা-কর্মীদের কথা- একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন কোন্দল দলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নেতাদের দ্রুত এর সমাধানে পৌঁছা উচিত।manobjomin 26.10.18

আরও পড়ুন