নিউইয়র্ক গভর্নরকে ক্ষমা চাইতে বললেন এনওয়াইপিডি প্রধান

,
প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২০     আপডেট : ২ বছর আগে

এমদাদ চৌধুরী দীপু (নিউইয়র্ক)
এনওয়াইপিডি (নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট)প্রধান ট্যারান্সি মোনাহন নিউইয়র্ক গভর্নরের এ্যান্ড্রো কোমোর সমালোচনা করেছেন,তাকে এনওয়াইপিডির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। এনওয়াইপিডির প্রধানের বক্তব্যের জবাব দেননি গভর্নর কোমো। বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্কে কার্ফ্যুর মধ্যে সমাবেশ ব্ক্ষিাভ অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটনডিসিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল,ব্যাপক সমালোচনার পর সেনাবাহিনী আবার ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ৪০টি অঙ্গরাজ্য অশান্ত হয়ে রয়েছে,অর্ধ্যশতাধিক ছোট বড় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।গত ৩দিনে নিউইয়র্কে গ্রেফতার প্রায় একহাজার।
সোমবার রাতে কার্ফ্যুর মধ্যে গণলুটপাট হয়েছে,লুটপাট হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ একক প্রতিষ্টান ম্যাসিতে,বৃহৎপরিসরের প্রতিষ্টান ব্লুমিংডেলসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা লুটপাট হয়েছে। মঙ্গলবার এনওয়ািিপডি আরো ৩শ ব্যাক্তিকে আটক করেছে। তবে সোমবার পুলিশের ভুমিকা ছিল রহস্যজনক। নিউইয়র্ক মেয়র পুলিশকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেননি বলে মনে করেন নিউইয়র্ক গভর্নর এ্যান্ড্রো কোমো। এসময় গভর্নর এনওয়াপিডির কড়া সমালোচনা করেন। সোমবার রাতে টাইম স্কয়ার,ইউনিয়ন স্কয়ার,ইস্টভিলেজ,আপার ইস্ট সাইড,কুইন্স,ব্রুকলীন,ব্রংকসএ ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। ৩৮ হাজার এনওয়াপিডি সদস্য থাকা স্বত্তেও দূস্কৃতিকারীদের মোকাবেলা করতে না পারায় এনওয়াপিডির সমালোচনা করে গভর্নর প্রয়োজনে ন্যাশনাল গাড সদস্যদের মোতায়েন করার দাবী জানিয়েছেন। এদিকে এনওয়াপিডির সূত্রে জানা গেছে সোমবার লটপাট এবং বির্শংখরা সৃস্টির জন্য ৭০০জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভ হয়েছে বিচ্ছিন্ন লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ম্যানহাটন ব্রীজে সমাবেশ হয়েছে,এসময় মেয়র ব্লাজিও কাছাকাছি একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন। এসব লুটপাটে ব্রংকস,ব্রুকলীনের বিভিন্ন গ্রুপের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ৮টা থেকে তৃতীয় দিনের মত কারফিউ চলছে। এই কার্ফ্যু ভোর চারটা পর্যন্ত চলবে।
এদিকে যুক্তরাস্ট্রের সামগ্রিক অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা তারা বলেছেন এটি যুক্তরাস্ট্রের নের্তত্বশূন্যতাকে প্রমান করছে,এতে বিশ্বে যুক্তরাস্ট্রে ইমেজ মারাতœকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ট্রাম্পের বর্তমান এবং সাবেক ডিফেন্স সেক্রেটারী কড়া সমালোচনা করেছেন।ট্রাম্প জাতিকে বিভক্ত করছেন এবং ঐক্যব্দ¦ করার কোন চেস্টা করছেননা বলে তারা তন্ব্য করেছেন।
নিউইয়র্ক এর কুইন্সে আজ বুধবার কুইনব্রীজ পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে,আগামীকাল বৃহস্পতিবার কুইন্স হলে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হবে।
বর্ণবাদ ইস্যুতে উত্তাল যুক্তরাস্ট্রের ১৭টি শহর,১২টি শহর অগ্নিগর্ভ হয়েছে।œ৭৭টি ছোট-বড় শহরে বিক্ষোভ পালন করছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সাদা-কালো মানুষ বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দমনে চার হাজার ৫শ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এই আন্দোলনে বাংলাদেশী কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্টান হামলা এবং লটপাট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পেনসেলভেনিয়ার ফেলাডেলফিয়া,এবং মেনিসোটায় বাংলাদেশীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। গভর্নরদের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পে এর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক এর গভর্নর এ্যান্ডো কোমো। তিনি সেনা মোতায়েনের নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে সিএনএন বার্তা সংস্থায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে টেক্সাস পুলিশ প্রধানের প্রতিক্রিয়া নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে আন্দোলন বিষয়ে মেয়র ডি ব্লাজিওর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমক্রেট দলীয় মেয়র আন্দোলনের অনুমতি দেয়ায় রহস্যের সৃস্টি হয়েছে। মেয়র করোনার কারনে ধর্মীয় আনুষ্টানিকতায় আইনের কঠোর প্রয়োগ করেছেন কিন্তু আন্দোলন ইস্যুতে পুলিশ-জনতাকে মুখোমুখী করেছেন। মেয়র তার সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে তার বক্তব্য তুলে ধরছেন। এদিকে মেয়রের মেয়ে আন্দোলনের সময় আটক হওয়ার ব্যাপারে মেয়র কিছু জানেনা বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।


আরও পড়ুন