নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র শবে মি’রাজ উদযাপন

প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে গত ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মি’রাজ উদযাপিত হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনসহ রাতব্যাপি ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যতে পবিত্র শবে মি’রাজ উদযাপন করেন। বিভিন্ন মসজিদে এ উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করেন। সৃষ্টিকর্তার রহমত কামনা ও গুনাহ মাফের জন্য পবিত্র এ রজনীতে এবাদত-বন্দেগী ছাড়াও ধর্মপ্রাণ নারী-পুরুষগণ পরদিন নফল রোজাও পালন করেন।
এদিকে, ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদে পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে আলোচনা, যিকির মিলাদ ও দোয়ার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়ার পরিচালনায় মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মোফাচ্ছিরে কোরআন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের ইসলামী ভাষ্যকার, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আল্লামা ড. কাফিল উদ্দীন সালেহী সরকার।
মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে মি’রাজের তাৎপর্য বিষয়ক আলোচনায় আল্লামা কাফিল উদ্দীন সালেহী সরকার বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন সকল দার্শনিকের বড় দার্শনিক, সকল বৈজ্ঞানিকের বড় বৈজ্ঞানিক। যুগে যুগে বিজ্ঞানকেও হার মানিয়েছে তার জীবনে প্রতিফলিত নানা ঘটনা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অলৌকিক ও আলোড়ন সৃষ্টিকারী মি’রাজ। নবুয়তের দশম বর্ষের আরবি রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা হতে বায়তুল মোকাদ্দাসে (জেরুজালেম) উপনীত হন এবং সেখান হতে সশরীরে সপ্তাকাশ ভ্রমণ করে মহান আল্লাহ্ পাকের সান্নিধ্যে উপস্থিত হন। উভয়েই একান্তে মিলিত হন। পবিত্র মি’রাজকালীন রাসুল (সা.) প্রভুর দীদার লাভে ধন্য হয়ে আনন্দে বিভোর ছিলেন। তখনো তিনি উম্মতে মোহাম্মদীর কথা ভুলেননি। মহান আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধুর মনের কথা অনুধাবন করতে পেরে বললেন, আমার সাথে আপনার যেমন দীদার হয়েছে, তেমনি আমার সাথে আপনার উম্মতদেরও দীদার হবে সালাতের মাধ্যমে। মহান আল্লাহ পাকের এ কথায় রাসুল (সা.) অত্যন্ত খুশি হন। পবিত্র মি’রাজ হতে ফিরে এসে ঘোষণা দেন সালাত (নামাজ) মু’মেনদের জন্যে মি’রাজ স্বরূপ।
ড. কাফিল উদ্দীন সালেহী সরকার বলেন, পবিত্র মি’রাজ রজনীতে মহান আল্লাহর নিকট থেকে রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য পাওয়া শ্রেষ্ঠ নেয়ামত বা উপহার হচ্ছে সালাত। এ সালাতের মাধ্যমেই উম্মতে মোহাম্মদীগণ আল্লাহর দীদার লাভের সুযোগ পান। তাই সালাত কায়েমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর দীদার লাভের চেষ্টা করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। আমরা যেন সবসময় মহান আল্লাহর দীদার লাভে ধন্য হতে পারি। এটাই হোক আমাদের মি’রাজের শিক্ষা।
বিপুল সংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মাহফিলে বিশেষ দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা কাফিল উদ্দীন সালেহী সরকার। দোওয়া-মোনাজাতে দেশ, প্রবাস ও বিশ্ব মানবতার শান্তি, কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে তবারুক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালা শেষ হয়।

আরও পড়ুন



সুনামগঞ্জে চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ শহরের...

Criteria Of Mail Order Wife – The Options

The marriage ceremony is a...

Adventures of Mariana Trench

 Naima Showkat Setu: হে বন্ধুরা,...