‘নাদেল’ ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ২ মাস আগে  
  

মুহিত চৌধুরী:পরিচ্ছন্ন ও তরুণ রজিনীতিবিদ শফিউল আলম নাদেল ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এখন তিনি উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে ছিলেন এড.মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ। মিছবাহ উদ্দীন সিরাজ যে আর এ পদে আর থাকবেন না এটা অনেকটা নিশ্চিত হওয়া গেলেও শফিউল আলম নাদেল কেন্দ্রীয় সংগঠনিক সম্পাদক হবেন এটা কেউ ভাবেন নি। মিডিয়াতে সিলেটের অন্যান্য নেতাদের নাম এবং সম্ভাবনা নিয়ে অনেক রির্পোট প্রকাশ হলেও নাদেলকে নিয়ে তেমন কোন সংবাদ প্রতিবেদন দেখা যায়নি।
স্বল্পভাষী এই নেতা নিজেও উচ্চারণ করেননি কিংবা এই পদ পাবার কোন আগ্রহ প্রকাশ করেননি। নেত্রীর উপরই ছিলো তাঁর ভরসা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে স্মার্ট রাজনীতিক জননেত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই খুজে নিয়েছেন তাকে। আর সে জন্য বিস্মিত হয়েছেন অনেকেই।এখানে বিস্মিত হবার মতো সত্যিকার অর্থে কিছু নেই। কারণ শফিউল আলম নাদেল ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ক্যারিশমেটিক জনপ্রিয় নেতা ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল সফলতা পায় না।
মোজাফফর হোসেন, আবুল মনসুর আহমদের মতো তাত্ত্বিক রাজনীতিক, মাওলানা ভাষানীর মতো নেতা থাকার পরও বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের উপর ভর করেই।
বিষয়টি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জানেন। আর জানেন বলেই নাদেলকে তিনি পছন্দ করেছেন।
শফিউল আলম নাদেল রাজনীতিতে উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। এ পর্যন্ত আসতে তাকে অনেক ঝড় ঝঞ্ঝা পোহাতে হয়েছে। একজন লড়াকো ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন সময় কারাবরণও করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাহানারা ইমামের নামে হলের নামকরণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির পাঁয়তারা প্রতিহত করার আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন তিনি।

স্কুলজীবনেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হন শফিউল আলম নাদেল। ১৯৮৬ সালে তিনি নিজের স্কুল সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারি কলেজ এবং এমসি কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেন তিনি। পরে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য হন নাদেল।

১৯৮৭ সালে তিনি এমসি কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। পরে ১৯৯৭ সালে হন সভাপতি।

ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়ান নাদেল। ছাত্রলীগের জেলা শাখায় রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের মহানগর শাখায় যুক্ত হন তিনি। মহানগর আওয়ামী লীগে প্রথমে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হন নাদেল।

২০০৪ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে এখন অবধি এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

শফিউল আলম নাদেল রাজনীতির বাইরে ক্রীড়াঙ্গন, সাংবাদিকতা,সাহিত্য-সংস্কৃতির সাথেও জড়িত রয়েছেন। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন নাদেল।
তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক। ছিলেন সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক।

মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর রয়েছে দৃঢ় বিশ্বাস। শত ব্যস্ততার মাঝেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে তাঁর অবহেলা নেই। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়ায় খবর জেনে তিনি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে ফেসবুকে একটি মাত্র শব্দ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পোস্ট দেন।

শফিউল আলম নাদেল তাঁর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ জাতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এটাই আজ সুধীমহলের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন



ঈদ মানবিকতার ও মনুষ্যত্বের সেতু

মোহাম্মদ আব্দুল হক: ঈদ এলো।...

রাতারগুল: বার বার ছুটে যেতে চায় মন

সুলায়মান আল মাহমুদ: নিঝুম ঝকঝকে...

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধা যুবকমান্ড‘র দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার...