ধর্ষকের ফাঁসির আইন ও ধর্ষক তৈরির আঁতুর ঘর-সুদীপ্ত শাহিন

,
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

এক্সপ্রেস সাহিত্য ডেস্ক বিগত সপ্তাহ দেশজুড়ে রাজপথ ব্যস্ত ছিল ধর্ষণ বিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশে। মূলতঃ স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন এই আন্দোলনের অগ্রভাগে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষিতে ফুঁসে উঠে বিশেষত তরুণ সমাজ। সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কল্যাণে দেশব্যাপী এই তরুণ সমাজের বিক্ষোভ ও বক্তব্য জানা- শোনার সুযোগ তৈরি হয়। কোথাও প্রতীকী অর্থে ধর্ষকের মূর্তি বানিয়ে গলায় ঝুলানো হয়েছে ধর্ষকের ফাঁসি চাই নামক ফেস্টুন, কোথাও বা কোন ব্যক্তি বিশেষকে ধিক্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছে অপরিপক্ক স্লোগান। প্রথমদিকে মনে হয়েছিল রাজনৈতিক অসচেতন হওয়ার দরুন শিক্ষার্থীরা এধরণের অদূরদর্শী স্লোগান, বক্তব্য ও দাবি তুলছে। কিছুটা তলিয়ে দেখা যায়, এর পেছনেও রয়েছে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড। কিন্তু প্রশ্ন হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারীর নির্যাতনের বিভৎস চিত্র দেখে যেসব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাস্তায় নামলো তাদেরকে বিভ্রান্ত করতে কোন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে কোন লক্ষ্যে গাইড করা হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতেও বেশী সময় লাগেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০০০ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) উপ-ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়। ওই আইনে বলা ছিল “যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে তাহলে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ-ে দ-িত হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদ-ে দ-িত হবেন।” সংশোধিত আইনে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- শব্দগুলির পরিবর্তে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- শব্দগুলি প্রতি স্থাপিত হয়েছে। ফলে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের বিধান রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে আনন্দ মিছিল ও র‌্যালীও দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে চোখে পড়ার মতো। একই সাথে দেশে ক্রিয়াশীল কথিত কয়েকটি বামপন্থি সংগঠনের জোট বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কের পত্রিকায় প্রকাশিত এক মন্তব্যে জানা যায় -“আসলে জনগণ চায় ধর্ষণকারীর এমন সাজা যেন কেউ আর এই ধরনের অপরাধে না জড়ায়। এই চাওয়া থেকেই মৃত্যুদ-ের দাবি করা হচ্ছে। যদি প্রকাশ্যে দুই একজনের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হবে। কেউ আর ধর্ষণে জড়াবে না।” সুতরাং রাজনৈতিক অংকে যারা দুই আর দুইয়ের যোগফল সম্পর্কে ধারণা রাখেন তাদের কাছে পরিষ্কার ধর্ষণ ইস্যুতে রাজনৈতিক বেনিফিশিয়ারি কারা এবং এই প্লাটফর্ম গাইডেন্স কারা ছিলেন? অথচ এর বিপরীতে যদি দেখি ধর্ষণ ইস্যুতে আড়াল হয়ে গেছে কি কি ইস্যু? সে হিসেবও কঠিন নয়। পেঁয়াজ ১০০টাকা, কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা, মোটা চাল ৫০ টাকা -এইসব ইস্যু যেমন আড়াল হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের প্রেক্ষিতে, তেমনি আড়াল হওয়ার উপক্রম মজুরি ও চাকুরি নিশ্চয়তার দাবিতে পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন, চা শ্রমিকদের আন্দোলন, নৌযান শ্রমিকদের আন্দোলন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-সহ সামগ্রিক নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি ও দুঃশাসন-দুর্নীতি-দুর্যোগ। দেশের মোট শ্রমশক্তির এখনো প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কর্মহীন। এনজিও, মহাজন ও সুদখোরদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কোনরকমে জীবনযাপন করছে এসব কর্মহীন গরীব মানুষেরা। অর্ধাহারে-অনাহারে কাটছে তাদের জীবন। প্রায় অর্ধকোটি প্রবাসী শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। কর্মের নিশ্চয়তার অভাবে ছাত্র-যুবকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে কেউ কেউ আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে। অসময়ের বন্যায় দেশের মোট আমন ফসলের প্রায় ৮০ ভাগ বিনষ্ট হয়েছে। পথে বসেছে লাখ লাখ কৃষক পরিবার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা প্রায় পথে বসেছে, অবাধ লুটপাট ও ঋণ খেলাপির কারণে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে ব্যাঙ্কগুলি- এসব কোন কিছু আর ইস্যু হচ্ছেনা। কারণ এসব বিষয় বস্তু ইস্যু হিসেবে সামনে আসলে টান পড়বে প্রচলিত ব্যবস্থার কানে, আর অবধারিতভাবে সামনে চলে আসবে এই ব্যবস্থা রক্ষার মাথাগুলি।
নারী শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক দিবসে মহামতি ভ.ই. লেনিন বলেন- “মানবজাতির অর্ধাংশ নারী দ্বিবিধ পীড়নে পীড়িত। নারী শ্রমিক ও কৃষাণীরা পুঁজির হাতে নিপীড়িত তদুপরি এমনকি সবচেয়ে বুর্জোয়া প্রজাতন্ত্রগুলিতেও তারা থেকে যায় প্রথমত পূর্ণাধিকারহীন হয়ে। কারণ আইন তাদের পুরুষের সাথে সমতা দেয় না। দ্বিতীয়তঃ এটা হচ্ছে প্রধান কথা যে, তারা সবচেয়ে তুচ্ছ সবচেয়ে হীন, সবচেয়ে হাড়ভাঙ্গা, সবচেয়ে বিমূঢ় করা রান্নাবান্নার কাজ এবং সাধারণভাবে একতরফা সাংসারিক ঘরকন্নায় পীড়িত হওয়ার ধারায় থেকে যায় “ঘরোয়া দাসত্বের সাংসারিক বাঁদী হয়ে”। অর্থাৎ নারীর উপর পীড়ন,অবদমন যে প্রচলিত আর্থসামাজিক ব্যবস্থার কাঠামোর সাথেই জড়িত তার চমৎকার বর্ণনা। মানবসমাজে ক্রমবিকাশের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মানবজাতির অর্ধাংশ এই নারীকে অবনমিত করা হয়। সুদীর্ঘ আদিম সাম্যবাদী সমাজে নারীরাই ছিল সমাজের কর্তৃত্বে। সমাজের একেবারে শেষের দিকেই দাস যুগের সূচনা লগ্নে পরিবার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাষ্ট্রের উৎপত্তির সাথে সাথে নারীরা হারাতে থাকে তাদের কর্তৃত্ব এবং তার স্থলে পুরুষের হাতে আসে কর্তৃত্ব। মহামতি ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস এ বিষয়ে তিনি তার পরিবার, ব্যক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্রের উৎপত্তি নামক পুস্তকে লিখেন- “জোর পরিবার প্রথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়ে লুট, বিক্রয় ইত্যাদি আরম্ভ হয়।. .. জোর পরিবার প্রথা পরিবারে নতুন চিজ আমদানি করে। স্বাভাবিক মাতার পাশেই প্রমাণসিদ্ধ পিতাকে স্থাপন করা হয়। সেই সময়কার পারিবারিক শ্রমবিভাগ প্রথানুসারে পুরুষের ভাগে পড়ে আহার্য সংস্থান ও তদপুরি সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহের ভার। সেজন্য আহার্য সংস্থানের সরঞ্জামগুলোর উপরেও পুরুষের এখতিয়ার জন্মে। বিচ্ছেদের সময় পুরুষ তার হাল হাতিয়ার নিয়ে সরে পড়তো আর ঘরকন্নার জিনিসগুলি নারী আটকে রাখত। তাই এ যুগের সামাজিক প্রথা অনুসারে আহার্য সংগ্রহের নতুন সংস্থান গো-মহিষ ও পরে শ্রম শক্তির নতুন হাতিয়ার গোলামদের উপরও মালিকানা পুরুষরা লাভ করে। কিন্তু সেই সামাজিক বিধান অনুসারেই তার ছেলে মেয়েরা তার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে দখল করতে পারত না। কারণ,উত্তরাধিকারের নিয়ম ছিল- মাতৃবিধি অনুসারে। অর্থাৎ যতদিন মাতৃ বংশ দ্বারা মানুষের কূল, বংশ ইত্যাদির পরিচয় দেওয়ার রেওয়াজ ছিল ততদিন গোষ্ঠীর ভিতরে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করার আদিম প্রথা অনুসারে গোষ্ঠীর সভ্যস্থানীয় কোন লোক মৃত্যু মুখে পতিত হলে গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত তার আত্মীয় স্বজনরা প্রথমত তার সম্পত্তি ভোগ করতো। প্রথমতঃ বিষয়-সম্পত্তির নেহাত নগণ্য ছিল বলে যতদূর সম্ভব গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত তার নিকটাত্মীয়রা অর্থাৎ মায়ের দিক থেকে সমরক্তজরাই ঐ সমস্ত ভোগ- দখল করতো। মৃত ব্যক্তির ছেলেমেয়েরা তার গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। পরবর্তীতে মায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারতো। কিন্তু বাপের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না। কারণ তারা তার গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়। সেজন্য পশু যুথ মালিকদের মৃত্যু হলে তার পশুপাল প্রথমেই চলে যেত তার ভাই বোন, বোনদের ছেলে-মেয়ে অথবা মাসিমার বংশধরদের হাতে কিন্তু তার নিজের ছেলেমেয়েদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হতো। পক্ষান্তরে ধন-দৌলত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদিক দিয়ে পরিবারের নারীর তুলনায় পুরুষের মর্যাদা বেড়ে যায়। অপরদিকে পুরুষ পুরাতন উত্তরাধিকারী প্রথার মূলে কুঠারাঘাত করে তার আপন ছেলে মেয়েদের সুব্যবস্থা করবার জন্য এই বর্ধিত মর্যাদার সুযোগ গ্রহণ করতে প্রলুব্ধ হয়। কাজেই জননী বিধি পাল্টে দেবার প্রয়োজন দেখা দেয়। জননী বিধির উচ্ছেদ সাধন, নারীজাতির বিশ্ব ঐতিহাসিক পরাজয় বিশেষ ছিল। এর ফলে পুরুষ গৃহেও কর্তৃত্ব অধিকারী হয়, নারী অবনমিত হয়,গোলামী স্বীকার করতে তাকে বাধ্য করা হয়। নারী তখন পুরুষের কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার ক্রীতদাসী আর সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত হয়। অপেক্ষাকৃত মিষ্টি কথার প্রলেপ ও পোশাকী সাজে এই অবনমিত অবস্থা ঢেকে ফেলতে চেষ্টা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের একাধিপত্য স্থাপিত হলো। তার প্রথম পরিণতি অভিব্যক্ত হয় পুরুষশাসিত পরিবারের মধ্যে”। ধর্ষণের মাধ্যমে নারী সর্বোচ্চ পীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হলেও আমাদের পুরুষশাসিত পরিবারে আমাদের মা-বোন নামীয় নারীরাও বিভিন্ন রকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কারণ নারীর উপর আধিপত্যবাদী পুরুষতন্ত্রের মানসিকতা দাম্ভিকতায় ভোগে। নারীকে তখন তার সমমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে না দেখে তার অধীনস্ত হিসেবে দেখতে চায়। আর অধীনস্ত হিসেবে যখনই কোন নারী তার হুকুম পালন করতে অনুগত না হয়, তখন দূর্বল নারীর উপর বলপ্রয়োগ করতে দ্বিধা করে না। এই জন্যই ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস পুরুষের সাথে নারীর এই সংগ্রামকে ইতিহাসের প্রথম শ্রেণি সংগ্রাম হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নারীর উপর সকল নির্যাতন-নিপীড়ণের আশ্রয়, প্রশ্রয় দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে প্রচলিত শ্রেণীবিভক্ত সমাজ। সেটা ভোগবাদী সামন্তীয় সমাজ বা মুনাফালোভী পুঁজিবাদী সমাজ যাই হোক না কেন সকল শ্রেণিবিভক্ত সমাজে নারী কেবল ভোগ্য বিষয়। নারীর সস্তা শ্রম ও নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিজ্ঞাপন দিয়ে মুনাফা করে পুঁজির মালিকরা। ফলে রাষ্ট্রীয় আইন সংস্কার করা হলেও নারীর ধর্ষক ও নিপীড়কের লালন-পালন করে খোদ এই রাষ্ট্রব্যবস্থাই। যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারী অবদমিত, পরাধীন ও ক্রীতদাসী। এ ব্যবস্থার উচ্ছেদ ছাড়া নারীকে নির্যাতন থেকে মুক্তি দেওয়া নিছক অলীক কল্পনা। পৃথীবীর ইতিহাসে নারীকে প্রকৃত মুক্তি ও স্বাধীনতা দেওয়ার একমাত্র উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রুশ বিপ্লবোত্তর সোভিয়েত ইউনিয়ন । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিপ্লবোত্তর রাশিয়ায় ঘুরে রাশিয়ার চিঠি নামক পুস্তকে তিনি সাইবেরিয়ার একজন চাষী স্ত্রীলোকের বর্ণনা দেন- “সমবেত ক্ষেতের কাজে আমি প্রায় ১০ বছর আছি। একটা কথা মনে রেখো সমবায় কৃষি ক্ষেত্রের সঙ্গে নারী উন্নতির প্রচেষ্টার ঘনিষ্ঠ যোগ আছে। আজ দশ বছরের মধ্যে এখানে চাষী মেয়েদের বদল হয়েছে যথেষ্ট, নিজের উপর তাদের অনেক বেশি ভরসা হয়েছে। যেসব মেয়ে পিছিয়ে আছে, সমবায় চাষের যারা প্রধান বাধা এরাই তাদের মন গড়ে তুলছে। আমরা মেয়ে সমবায় দল তৈরি করেছি। তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রদেশে ঘুরে বেড়ায়, মেয়েদের মধ্যে কাজ করে, তাদের চিত্তের এবং অর্থের উন্নতি সাধনের সুযোগ বুঝিয়ে দেয়। সমবায় দলের চাষী মেয়েদের জীবনযাত্রা সহজ করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেক সমবায় ক্ষেত্রে একটি করে শিশুপালন আবাস, শিশু বিদ্যালয় আর সাধারন পাঠশালা স্থাপিত হয়েছে।” কবি আরেকজন চাষী মেয়ের বর্ণনা উল্লেখ করেন – “শিশুদের দেখাশোনা ও শেখানোর স্বতন্ত্র ব্যবস্থা হওয়াতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ঝাটি কমে গেছে। তাছাড়া ছেলেদের সম্বন্ধে দায়িত্ব যে কতখানি তা বাপ-মা ভালো করে শিখতে পারছে।” বিশ্বকবির এই ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় ফুটে ওঠা তৎকালীন সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন নারীদের সত্যিকারের সুখ ও মুক্তির সচিত্র পৃথিবীর সকল নারীদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছে। ধর্ষণ তো দূরে থাক সাধারন পারিবারিক সমস্যা গুলি থেকেও সোভিয়েত নারীরা কিভাবে মুক্তি পেল তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে তারা। এর বিপরীতে প্রচলিত নয়া- উপনিবেশিক বা পুঁজিবাদী সমাজ হচ্ছে নারী নির্যাতনের এক আঁতুড়ঘর। এই আতুর ঘর ভাঙ্গা ছাড়া এবং এর সমূলে উচ্ছেদ সাধন ছাড়া নারী মুক্তি ও স্বাধীনতার কথা বলা হবে ফাঁকা আওয়াজ। আর এই আতুর ঘর ভাঙতে পারে কেবল শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে শোষণ উচ্ছেদের এক সর্বহারা সংগ্রাম। সে কারণেই ১৯২০ সালে লেনিন বলেছিলেন- ” যতক্ষণ না মেয়েরা পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করেছে ততক্ষণ সর্বহারা তার পূর্ণ স্বাধীনতা পেতে পারে না”। তাই নারীকে প্রকৃত অর্থে মুক্তি দিতে হলে ধর্ষকের ফাঁসির আগে কার্যকর করতে হবে ধর্ষক তৈরীর এই আঁতুর ঘরটির ফাঁসি।
লেখক ও রাজনীতিক


  • 23
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    23
    Shares

আরও পড়ুন