দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর জন্মদিন ১লা মার্চ

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : জন্ম থেকে মৃত্যুতক সময়ের যেটুকু ব্যবধান তা-ই হচ্ছে মানুষের আয়ুষ্কাল, তবে জীবনের বিচারে এটাই তার প্রকৃত পরিচয়। পৃথিবীর নিয়মে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর জন্ম ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ১লা মার্চ, শ্রীহট্ট অঞ্চলের শাখা-বরাক নদীর তীরবর্তী গ্রাম মুকিমপুরে। অনতিদীর্ঘ ৬৭ বছরের জীবনে তিনি সৃষ্টি করেন বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় বেশকিছু মুহূর্ত―তাঁর কবিতায়, তাঁর উপন্যাসে, তাঁর ছোটগল্পে, তাঁর গদ্যরচনায়―তাঁর কথাসাহিত্যে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি ও স্বাধীনতার মাস মার্চ বাঙালির কাছে গৌরবের। স্বাধীনতা আন্দোলনের গনগনে স্মৃতির শেকড় এই দুই মাসেই প্রোথিত। আর এই ভাষা ও স্বাধীনতার দৃঢ়প্রত্যয় উচ্চারিত হয়েছে দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্যসৃজনে,―‘প্রবন্ধগুচ্ছ’, ‘প্রবন্ধনিবদ্ধ’, ‘নজরুল/ সৃজনের অন্দরমহল’, ‘রবীন্দ্রনাথ/ চিরনূতনের দিল ডাক’), ‘মহান একুশে’, ‘স্বায়ত্তশাসন, স্বাধিকার ও স্বাধীনতা’, ‘একটি জাতিকে হত্যা’, এবং ‘১৯৭১’; ‘যুগে যুগে বাংলাদেশ’, ‘বাঙালির উৎস সন্ধানে’, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’, ‘বিপ্লব ও বিপ্লবীদের কথা’ (‘ফরাসি বিপ্লব’, ‘কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস’ প্রভৃতি), ‘’৭১-এর কবিতা’, ‘কবিতাগুচ্ছ’; ‘পরদেশে পরবাসী’, ‘নতুন দিগন্ত’, ‘সাম্পান ক্রুস’, ‘অনিকেতন’, ‘মা’; ‘গল্পসম্ভার’, ‘বিদেশি বৃষ্টি’, ‘গল্পভুবন’, ‘গল্পসল্প’; ‘নাম মোছা যায় না’, ‘বাইবেলে সত্য নবী মুহম্মদ (সা.)’, ‘ধর্মের নির্যাস’, ‘ইসলাম ও সমাজতন্ত্র’, ‘পথ/ আরব জাতির ইতিহাস’ (অপ্রকাশিত), ‘মুহম্মদ (স.) ইসলামের নবী’ (অনুবাদ)। বস্তত তিনি ছিলেন বাংলা-সাহিত্য-জগতে দ্রোহী কথাসাহিত্যের নির্মিতি ও মর্মাংশে এক শুদ্ধ আধুনিকোত্তরক। যুগাত্মক জটিল চেতনাপ্রবাহী আঙ্গিকে তিনি যেমন ছিলেন চূঁড়াবিহারি তেমনই বিষয়-বস্তু-ঘটনাও অতিশয় কালচৈতন্যবাহী ও বিস্ময়সূচক। তিনি আগামী দিনেও বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনকর্মের গৌরবে।

গুণীজনের অভিমত: বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন (ইতিহাস গবেষক) বলেছেন, ‘আব্দুর রউফ চৌধুরী ছিলেন পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারণার ঊর্ধ্বে মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন লেখক।’ বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান (প্রাবন্ধিক, গবেষক, ফোকলোরবিদ) বলেছেন, ‘একজন মনীষী, যিনি তাঁর মনন, মেধা এবং সামাজিক জীবনে সকল আবিলতার বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর মাধুর্য এবং তাঁর গরিমাকে আনন্দের সঙ্গে স্বীকার করছি।’ ড. মনিরুজ্জামান (ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক) বলেছেন, ‘তিনি ছিলেন অকুতোভয় ও বহুমুখী স্র্রষ্টা। তাঁর সৃষ্টিশীল রচনাগুলো ছিল এক তীর্যক অভিজ্ঞতার ফসল, তেমনি অন্যান্য লেখাগুলো ছিল মনন-ধর্মে ঋদ্ধ।’ মহাদেব সাহা (কবি) বলেছেন, ‘তাঁর রচনার সঙ্গে পরিচিত হয়ে, তাঁর ভাষার সঙ্গে পরিচিত হয়ে বঙ্কিমের কথাই মনে হয়েছে।’ ড. কেতকী কুশারী ডাইসন (কবি ও সাহিত্যিক) বলেছেন, ‘ তিনি স্পষ্টত একজন সংগ্রামী মানুষের জীবনযাপন করেছেন এবং স্বদেশে তথা এ দেশে নানা প্রতিক‚লতার মধ্যে গড়ে-পিটে নিজেকে লেখকরূপে নিমার্ণ করেছেন। […] যেখানে তিনি আর আমি দুজনেই বাংলা ডায়াস্পোরার সাহিত্যিক, সেখানে আমরা সহপথিক। এই নিরলস সহকর্মীর জন্য রইলো আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।’ আবদুল মান্নান সৈয়দ (কবি ও সাহিত্যিক) বলেছেন, ‘চল্লিশের দশকে আমাদের গল্পে-উপন্যাসে যে-আধুনিকতা শুরু হয়, আব্দুর রউফ চৌধুরী তারই উত্তরসাধন।’ হাসান আজিজুল হক (কথাসাহিত্যিক) বলেছেন, ‘তিনি বহুগুণে গুণান্বিত মানুষ ছিলেন। […] আব্দুর রউফ চৌধুরীর সৃজনকর্ম পাঠক সাধারণের সামনে আসুক এবং নানাভাবে মূল্যায়িত হোক এই কামনা করি।’ সেলিনা হোসেন (কথাসাহিত্যিক) বলেছেন, ‘আব্দুর রউফ চৌধুরীর বইগুলো পড়ে আমি মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি। তিনি তাঁর লেখায় যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য গড়ে তুলেছিলেন তা যেকোনো বাঙালি লেখকের জন্য গৌরবের।’


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

শিল্পীদের সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক...

মোগলাবাজার থেকে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক

         আজ (২০ অক্টোবর ২০১৮ ইং...

ছুটি শেষে শাবি খুলছে কাল

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: গ্রীষ্মকালীন, পবিত্র...