দোকান খালি পড়ে আছে সিলেট নগরীর লালদীঘির মাঠ

,
প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর, ২০২১     আপডেট : ২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হকারদের নামে সহস্রাধিক দোকান খালি পড়ে আছে সিলেট নগরীর লালদীঘির মাঠ। বাঁশের খুঁটি ও তেরপাল (ত্রিপল) দিয়ে প্রস্তুত করা দোকানগুলোর অধিকাংশই ভেঙ্গে পড়ে গেছে। মাঠের উত্তর দিকে মাছ ও সবজির কয়েকটি দোকান ছাড়া পুরো মাঠ শূন্য পড়ে আছে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে লালদীঘির মাঠে হকারদের পুনবার্সন করা হয়। মাস দেড়েক সেখানে থাকার পর মাঠ ছেড়ে আবারও ফুটপাতে চলে আসেন হকাররা। এর আগে ২০০৭ সালে আরেকবার এই মাঠে হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। সে বছরও কিছুদিন পর হকাররা মাঠ ছেড়ে ফিরে আসেন রাস্তা ও ফুটপাতে।

সিসিক ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছর নগরীর ফুটপাত হকার মুক্ত করতে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য লালদীঘি মাঠ প্রস্তুত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এ লক্ষ্যে ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রায় ১ হাজার ১শ’ হকারের নাম তালিকাভুক্ত করে পুলিশ। এ মাসেই লটারি করে তাদের নামে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাপড়, জুতা, কসমেটিক্স, ফল, সবজি, মাছ, পান, সেলাইসহ বিভিন্ন প্রকারের দোকান আলাদা সারিবদ্ধভাবে তৈরী করে বসতে দেওয়া হয়। এরপর মাস দেড়েক সেখানে বসে আবার ফুটপাতে ফিরে আসেন হকাররা।

বারবার পুনর্বাসনের পরও হকাররা কেন সেখানে বসতে চায় না-এ বিষয়ে সিসিক এবং হকার নেতাদের কাছ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। হকার নেতাদের দাবী, লালদীঘির মাঠে বসে ব্যবসা করতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে সেখানে ক্রেতা যাওয়ার মতো পরিবেশ থাকতে হবে। ক্রেতা না গেলে বিকিকিনি ছাড়া কতোদিন হকাররা বসে থাকবে। হকার নেতারা বলেন, গত বছর এই মাঠে তাদের পুনর্বাসনের আগে তারা দাবি জানিয়েছিলেন, যাতায়াতের রাস্তা করে দিতে হবে, মাঠ ছাড়াও প্রতিটি দোকানে আলোর ব্যবস্থা এবং পুরো মাঠ ইট সলিং করে ক্রেতা বিক্রেতার চলাফেরার জন্য উপযোগী করে দিতে হবে। এসব কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হকারদের পুনর্বাসন করা হয়। প্রথমে হকাররা দোকান নিয়ে বসেন। কিন্তু, এক দুইমাস গেলেও ক্রেতা আসার জন্য কোনো পরিবেশ তৈরী না হওয়ায় মানুষ এই মাঠে আসেননি। প্রায় দুই মাস এখানে থাকার পর হকাররা পুঁিজ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

সিসিক সূত্র জানায়, বারবার চেষ্টা করেও হকারদের সেখানে বসানো যাচ্ছে না। তারা ফুটপাত ছাড়তে চায় না। লালদীঘির মাঠে বসার জন্য দোকান দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে আলোর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। মাঠে ইট সলিংও করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য সিটি মার্কেটের রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও এক মাস তারা সেখানে ব্যবসা না করে চলে আসে। তবে ফুটপাতে যারা বসবে সিসিক ও প্রশাসন তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। কোনোভাবেই হকারদের অবৈধভাবে ফটপাতে বসতে দেওয়া হবে না। প্রতিদিন অভিযান চলবে।

সিলেট মহানগর হকার ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রকিব আলী বলেন, লালদীঘির মাঠে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সিটি মার্কেটের যে রাস্তা সেটা অত্যন্ত ছোট। গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই রাস্তার অভাবে ক্রেতারা সেখানে যেতে চায় না। মাঠে আলোর ব্যবস্থা করলেও দোকানগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করতে দেওয়া হয়নি। ব্যবসার সুবিধার জন্য হকাররা নিজ উদ্যোগে জেনারেটর দিয়ে আলোর ব্যবস্থা করতে চাইলে সেটাও করতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া দোকানগুলোর নিচ ছাড়া শুধু সামনের চলাচলের জায়গা ইট সলিং করা হয়। এতে কিছু বৃষ্টি হলে দোকানের নিচে পানি ও কাদা সৃষ্টি হয়। রকিব আলী বলেন, ঝড় বৃষ্টিতে তেরপাল ছিড়ে অনেকের দোকানের মালামাল নষ্ট হয়েছে। হকাররা দোকানগুলোতে অস্থায়ীভাবে টিন লাগাতে চাইলে তাদেরকে সেটাও লাগাতে দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে মাঠে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ না থাকায় প্রায় দুইমাস থেকে হকাররা সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হয়।

হকার্স লীগ সিলেট মহানগর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান বলেন, আমাদের দাবি ছিল, যাতায়াতের জন্য কুদরত উল্লাহ মার্কেট ও নগর ভবনের মধ্যখান দিয়ে কালিঘাট পর্যন্ত একটি রাস্তা করে দিতে। এছাড়া, জালালাবাদ পার্কের ভেতর দিয়ে চাদনীঘাটে ক্বিনব্রিজের মুখ পর্যন্ত অপর একটি রাস্তার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু, সিটি মার্কেটের যে রাস্তার কথা বলা হচ্ছে, সেটা অত্যন্ত ছোট। রাত ১২টার পর ফুটপাতের ব্যবসা শুরু হয়। এই রাস্তার গেইট ১২টার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়। তাই এসব অসুবিধার জন্য সেখানে কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। লোকসান দিয়ে আমাদের সেখান থেকে চলে আসতে হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, গত বছর লালদীঘির মাঠে হকারদের পুনর্বাসনের সকল ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। কিন্তু, তারা সেখান থেকে চলে আসে। তবে নগরীর ফুটপাতে হকারদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সকল ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরও হকাররা সেখানে কিছুদিন বসে চলে আসছে। কারণ তারা ফুটপাতে অধিক লাভের লোভ ছাড়তে পারছে না। তিনি বলেন, লালদীঘির মাঠে বসে তারা যদি কয়েকমাস ব্যবসা করতো এবং সুবিধা অসুবিধার কথা জানাতো, তাহলে পর্যায় ক্রমে সেগুলোও সমাধান করা হতো। মনে হচ্ছে, তাদের পেছনে অন্য কোনো শক্তি ইন্ধন দিচ্ছে। তাই, তারা ফুটপাত ছাড়তে চায় না। তবে, হকারকে নগরীর ফুটপাত নোংরা করতে দেওয়া হবে না। নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।

এর আগে ২০০৭ সালে আরেকবার এই মাঠে হকারদের পুনবআসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। তবে সেখানে ক্রেতারা না যাওয়ায় কিছুদিন পর হকাররা আবার ফিরে আসেন রাস্তা ও ফুটপাতে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটে ফিরলেন এড. মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: ভারতে ক্ষমতাসীন...

৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের মিষ্টি বিতরণ ও সভা অনুষ্ঠিত

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : আওয়ামী সরকার...

আমিরাতে সিলেট প্রবাসী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সংবর্ধনা

        লুৎফুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে...

ওসমানীনগরে সজেন্দ্র হত্যার ঘটনায় স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৩

        সিলেটের ওসমানীনগরে সজেন্দ্র দাশের লাশ...