দুর্নীতির ঘরে আলোকিত মানুষ জন্মে না-মোহাম্মদ আব্দুল হক

,
প্রকাশিত : ১৩ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক্সপ্রেস সাহিত্য ডেস্ক বর্তমানে চলমান বিশ্ব সমাজে আলোকিত মানুষের বড়ো অভাব। আমাদের এই বাংলাদেশে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি। প্রত্যেক সমাজে ব্যাপক মানুষ শিক্ষিত এবং গ্রাজুয়েট মানুষের উপর আশার আলো খুঁজে। কিন্তু আমাদের দেশের ওইসব তথাকথিত শিক্ষিতদের দ্বারাই সমাজ দ্রুত অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। যারা পড়ালেখা শিখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তাঁদের কাছে সমাজের অনেক প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু এখানে এদের বুকের মধ্যে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ দিনে দিনে বড়ো হতে হতে শিকড় এতো গভীরে পৌঁছে যায় যে, সেখান থেকে আর ওদের সন্তানেরাও টেনে বের করতে পারে না। ওদের স্ত্রীরা-তো দুর্নীতি করার জন্যে দিনরাত কানের কাছে গুনগুন করে ইন্ধন যুগিয়ে থাকে। ফলস্বরূপ মা-বাবার এমন দুষ্ট বুকে লালিত সন্তানরা একসময় দুষ্ট বৃক্ষের কান্ডারী হয়ে ওঠে। এভাবে সমাজে দুষ্টদের চক্রবৃদ্ধি ঘটে চলে। এমন দুষ্ট চক্রের দেয়ালও দিনে দিনে আরো পুরো হয়ে ওঠে। তখন এই দুষ্ট দেয়াল ভেদ করে ওই চক্রের ভিতরে সত্য কথা, আলোর কথা, নীতি-নৈতিকতার কথা, ধর্মের মানবিক কথা পৌঁছে না। এমনকি ওই দুষ্টচক্র কুকৌশলে ধর্মেরও কান্ডারী সেজে নেতৃত্ব নিয়ে নেয়। ফলাফল যা হয়, দিনে দিনে সমাজে ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। আলোহীন সমাজের পুষ্টিমান ভালো হয় না। কাজেই অপুষ্ট সমাজ দেহে একসময় চরম বিপর্যয় ঘটে যায়। ক্যান্সার বা ক্ষত ছড়িয়ে পড়ে পুরো সমাজ দেহে। তখন ওই দুষ্টচক্র বড়ো ধাক্কাটি সামাল দিতে আর পারে না। এরজন্যে আর কেউ দায়ী নয় ; বরং ওই বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছিলো যে চক্রের ভিতরে, সেই দুষ্ট চক্র-ই চরম বিপর্যয়ের জন্যে দায়ী। কারণ, ওই চরম স্বার্থপর গোষ্ঠী সমাজের সহজ সরল স্বভাবের মানুষের বুকে ও পিঠে চক্রান্তের চাকা চালিয়ে পিষ্ট করে গড়ে তোলেছিলো ভিত্তিহীন এক মেকি বলয়। ওরা ভুলে গিয়েছিলো, আমাদের চির-বিদ্রোহী বীর সু-সাম্প্রদায়িক মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলে গেছেন, নৌকায় শত ছিদ্র রেখে মাস্তুল যতো উপরেই উঠাও ; যখন ডুববে মাস্তুল সহ-ই ডুববে। প্রিয় পাঠক আমরা জানি, টাইটানিক জাহাজের তলায় দুর্বল ফাটল ধরে যখন ধীরে ধীরে পানি ঢুকতে শুরু করলো, তখন কিন্তু জাহাজের উপরের তলাও আর ভেসে থাকেনি।

লুটপাটের মহোৎসব চলে চোর, সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের সমাজে। আলোকিত মানুষের সমাজে চুরি, চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি, কু-পরামর্শ ইত্যাদি মানুষ ঠকানো কারবার চলে না। আলোকিত মানুষের সমাজে থাকে আলোর মিছিল। সেই আলোর মিছিলে থাকে পৃথিবীর সকল বিখ্যাত আলোকিত মানুষের সুন্দর কথামালা। ওইসব সুন্দর কথামালা আমরা কোথায় পাবো ? হ্যাঁ, আলোকিত মানুষ হচ্ছে সুন্দর মানুষ এবং এই আলোকিত সুন্দর মানুষের সুন্দরকে পাওয়া যাবে বইয়ের ভিতর। তাই আলোকিত মানুষকে বুঝতে হলে সকল সময় আলোর পথ দেখায় যেসব বই, সেই সমস্ত বইয়ের সংস্পর্শে নিজেকে রাখতে হবে। আমি আলোকিত মানুষের কথা বলছি। কিন্তু আমরা যদি আলোকিত মানুষের সংজ্ঞা নিরূপণে ভুল ধারণা নিয়ে বসে থাকি বা চলতে থাকি, তাহলে-তো পুরো বিষয়টি-ই গোলমেলে তাঁবুতে আটকে থাকবে। আশাকরি আমরা এই লেখার পাঠকগণ বুঝি, আলোকিত মানুষ কখনও মিথ্যাকে প্রাধান্য দেয় না। আলোকিত মানুষরা নিজে অন্যায় পথে হাঁটে না এবং পরিবার ও সমাজের মানুষের জন্যে অন্যায় পথ গড়ে তোলে না। আমি একটি কথা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি, নিজেরা দুর্নীতির পথে থেকে কখনো সন্তানকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলতে পারা যায় না। কারণ, দুর্নীতির পথে জমানো সম্পদে নির্যাতিত মানুষের কান্না মিশে থাকে, মজলুমের হাহাকার থাকে এবং অভিশাপ থাকে। তাছাড়া প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রতিশোধ থেকে কোনো দুষ্ট লোক বাঁচতে পারে না। পৃথিবীর অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে এমন শত শত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো – সাধারণ শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, ইতিহাস এবং আধুনিক জ্ঞান – বিজ্ঞান পড়া ও জানা লোকেরা এতোসব পড়েও লোভ সামলাতে পারে না ; বরং ঘুষ, চুরি, লুটপাট ইত্যাদি অনৈতিক পথে হেঁটে চলে অবলীলায়। এরা আবার এটাও আশা করে যে, এদের সন্তান বড়ো হয়ে পরিবার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করবে। নিজে ধুমপান করবেন এবং আশা করবেন সন্তান ধুমপান করবে না। নিজে দুর্নীতির চক্র বানাবেন আর আশা করবেন সন্তান সুনীতির বলয়ে বেড়ে উঠবে। নিজে অসৎ পথ গড়ে তোলবেন, খাবারে ও সম্পদে ভেজাল মিশাবেন আর আশা করবেন আপনার সন্তান হাঁটবে সুপথে, বাঁচবে সুখাদ্যে, এমনটা কি সম্ভব কখনো? তা কখনো সম্ভবপর হবে না। আপনি যেমন পথ তৈরী করবেন পরিবার সে পথেই হাঁটবে। কারণ, আপনার বুকে লালিত সন্তান ও পরিবার আপনাকেই অনুসরণ করে, আপনার কাছে থেকে যে শিক্ষা পাবে সেটাই তার প্রথম অনুসরণীয় পথ। ব্যতিক্রম হতে পারে যদি আপনার দুষ্টচক্র সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে আপনার সন্তান ভালো পথের সন্ধান করে এবং সে আপনার অসৎ পথকে ঘৃণা করে, তবে হয়তো সেও আলোর পথ পেয়ে যেতে পারে। আপনার যৌবন কাল পেরিয়ে গেলেও যদি এমন মননশীল সন্তান বা স্ত্রী পেয়ে যান, তবে বয়সকালে হলেও আপনি তাকেই অনুসরণ করুন। কারণ, এমন সন্তান পাওয়া পরম সৌভাগ্যের। শেখ সাদি বলেন, ” দেরেগা কে ব-গোজাস্ত, ওমরে আযিয, / ব খাদহ গোজাস্তে – ইঁ দমে চান্দে নীজ। / গোজাস্ততাঁচে দর না ছয়াবী গোজাস্ত, / ওয়াজী নীজ দমদর নাইয়াবী গোজাস্ত।” এই কাব্যাংশের অনুবাদ করলে দাঁড়ায় : ” হায় আফসোস চলে গেল মূল্যবান যৌবনকাল / শ্বাস – প্রশ্বাস ছাড়া কি-ই-বা বৃদ্ধকালে আছে বহাল / অধিকাংশ যৌবনটা ব্যয় হয়েছে অপরাধে / সময় যাহা আছে বাকি পূণ্য অর্জন করো তাতে।”

দুর্নীতির ঘরে আলোকিত মানুষ জন্ম নেয় না। তাই প্রকৃত অর্থে নিজ নিজ সন্তানের জন্যে একটি আলোকিত সমাজ চাইলে অভ্যাস বদলাতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। দুর্নীতিবাজদের একদল আছেন, তারা মনে করেন সন্তান একটা চাকরি পেয়ে গেলেই সে সমাজের সম্মানিত একজন হয়ে গেছে। বুঝতে হবে একটা চাকরি পেয়ে যেনতেন ভাবে বেঁচেবর্তে জীবন কাটানো আর আলোকিত মানুষের জীবন নিয়ে বাঁচা কখনো এক কথা নয়।এখন খবরের কাগজে বা অনলাইন পত্রিকায় কিংবা টেলিভিশনে প্রতিদিন খবর আসে চোর ধরা পড়েছে। তবে আগের মতো গ্রামের সিঁদেল চোর বা গরু চোরের খবর বেশি আসে না ; বরং ধরা পড়া চোরদের বড়ো অংশেই থাকে লেখাপড়া করে সরকারি চাকরি করা বড়ো কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়নের নাম। এদের লজ্জা শরম বলতে কিছু থাকে না। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হানিফ সংকেতের ইত্যাদি তে একবার থানার লক-আপে দুই চোরের কথোপকথন দেখানো হয়েছে – ‘ এক পুলিশ সুন্দর পোশাক পড়া এক লোককে লক-আপে ঢুকিয়ে দিলে, ওই লক-আপে পূর্ব থেকে বন্দী ছেঁড়া গেঞ্জি ও মলিন লুঙ্গি পরা এক সিঁদেল চোর পুলিশকে জিজ্ঞেস করে, স্যার আমার সাথে এই ভদ্রলোক কেন ? তখন পুলিশ বলেন, তিনি অফিসের টাকা চুরি করে ধরা পড়েছেন। এরপর সিঁদেল চোর হ্যান্ডশেক করার জন্যে নতুন চোরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলে নতুন চোর তাকে ধমক দেয়। সিঁদেল চোর তখন ওই পোশাক পড়া চোরকে বলে, রাগ করেন কেন, এখানে আমিও চোর আপনিও চোর। তবে আমাদের লজ্জা আছে, তাই চৌদ্দ গোষ্ঠীর কেউ দিনে চুরি করে না। আপনাদের একদম লজ্জা শরম নাই। তাই লেখাপড়া শিখেও অফিসের চেয়ারে বসে দিনের বেলায় চুরি করেন।’

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিষ্টিয় সালে তিনি এই ঘোষণা দেন। খবর প্রকাশ হয়েছে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায়। দুর্নীতিতে প্রায় আকন্ঠ ডুবতে বসা একটি রাষ্ট্রের জন্যে এটি একটি আশা জাগানিয়া খবর। এদিকে বর্তমানে আমাদের সংবাদ মাধ্যম গুলো পুলিশের দুর্নীতি ও অপকর্মের সংবাদে সয়লাব হয়ে গেছে। যে পুলিশ বাহিনী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় শত্রুকে রুখে দাঁড়িয়েছিলো সেই পুলিশের কিছু সদস্য ট্রাকের ড্রাইভারের কাছ থেকে টাকা খেয়ে অপরাধী ছেড়ে দেয়া থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো দুর্নীতির কাজে সহযোগিতা দিয়ে পুরো পুলিশ বাহিনীর মর্যাদাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। চলমান আলোচিত ঘটনা টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ একটি উদাহরণ মাত্র। আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘দুর্নীতির ঘরে আলোকিত মানুষ জন্মে না’। দেশবাসীর নিশ্চয়ই মনে আছে, পুলিশ অফিসারের কন্যা ঐশী ‘র কথা। শিক্ষা নিয়ে জীবনকে আলোর পথে টেনে নিতে হবে। অন্যথায় অন্যায়ের থাবায় শুধু সাধারণ মানুষ নয় ; কখন যে অন্যায়কারী নিজেও আটকে গেছে কেউ টের পাবে ন। আমাদের দেশের দুর্নীতির নানান রূপের একটি হচ্ছে ঘুষের লেনদেন। আমরা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে যাওয়া দুর্নীতিগ্রস্থ বর্তমান সমাজের দিকে নজর রাখছি এবং দেখতে পাচ্ছি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই চাকরিতে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষের টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। এরূপ ঘুষ প্রদানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্নীতিবাজরা এগিয়ে থাকে। তারা তাদের লুটপাট করা টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে তাদের সন্তানদেরকে একটা চাকরি জোগাড় করে দেয়। এক্ষেত্রে ওই পিতার দ্বারা সমাজ দেহে আরেকটা দুর্নীতির বৃক্ষ রোপিত হয়ে যায়। ভেবে দেখুন এখানে একজন পিতা নিজে উদ্যোগী হয়ে তার সন্তানকে পাপের পথে হাঁটতে শিখিয়ে দিয়েছে। এতে করে বংশ পরম্পরায় তাদের দ্বারা পাপ কাজ চলতেই থাকে। আর সমাজে আলোর পরিবর্তে অন্ধকার ঘনীভূত হতে থাকে। অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া সমাজে কেউ শান্তিতে বসবাস করতে পারে না। ভোগান্তি বাড়তে বাড়তে সাধারণ মানুষের দেয়ালেে পিঠ ঠেকে যায়, শুরু হয় বিশৃঙ্খলা এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একসময় পুরো সমাজ ব্যবস্থা পর্যুদস্ত হয়ে যায়। চূড়ান্ত পর্যায়ে যারা সংগ্রামী তারাই টিকে যায়, দুষ্টচক্রের বলয় ভেঙে যায়। এই দুষ্টচক্রের কারণেই মূলত একটি সাজানো গোছানো সমাজ বা রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যায়।

এপর্যন্ত আলোচনার পরে নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারছি সুন্দর একটি সমাজ গঠনের প্রধান অন্তরায় হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী লেখাপড়া জানা দুর্নীতি পারায়ণ এক দুষ্ট গোষ্ঠী। এখন আমরা এই গোষ্ঠীর বোধোদয় ঘটুক এই প্রত্যাশা করি। আমাদেরকে প্রথমেই মুখের কথা এবং শপথের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের দ্বারা সুন্দর ও অসুন্দরের শুরুটা প্রকাশ পায় অপরের সাথে কথার দ্বারা। বুঝার জন্যে বলছি, ‘একদিন আমি ডাক্তারের দেয়া একটি প্রেসক্রিপশন নিয়ে কিছু পরীক্ষার জন্যে গেছি একটি প্যাথলজি সেন্টারে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে টাকা জমা দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, রিপোর্ট কখন এসে নিতে পারবো ? টেবিলে বসে কর্তব্যরত মানুষটি বললেন, রাত সাড়ে নয়টায় আসলে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে আবারও জানতে চাইলাম, একশো টাকা খরচ করে রিক্সা ভাড়া দিয়ে এতোটা পথ আসবো – যাবো, রাত সাড়ে নয়টায় আসলে রিপোর্ট পাবো-তো ? এক সেকেন্ডেই তিনি আমাকে বলে ফেললেন, রাত দশটায় আসেন ; না-হয় আগামীকাল সকালে আসেন। আমিও তাকে জিজ্ঞেস করলাম সকালে কয়টার সময়ে আসবো ? তখন তিনি বললেন, সকালে যেকোনো সময়ে আসেন। আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে জানতে চাইলাম, সকাল আটটায় আসলে পাবো-তো? এবার ওই প্যাথলজি সেন্টারের ওই মানুষটি আমাকে আশ্বস্ত করলেন এই বলে – আপনি সকাল নয়টার পরে আসেন ; তখন অবশ্যই রিপোর্ট পেয়ে যাবেন।’ এভাবে দায়িত্ব পেয়ে মানুষের সাথে খামখেয়ালি পূর্ণ কথা বলার অভ্যাস ছাড়তে হবে। কারণ, এভাবেই নিজের কথার প্রতি নিজে সম্মান দেখাতে না-পারা থেকেই শুরু অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখানোর অনৈতিক কাজ। যারা কর্তব্য পালনে সদা সততা বজায় রাখার শপথ নিয়ে চাকরিতে যোগদান করবেন, তাদেরকে ওই শপথের দিকে সদা শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। অন্যথায় মনে রাখতে হবে, নিজের সমাজে নিজের সৃষ্ট নষ্ট পথে হেঁটে কখনো নিজের ঘরে আলোকিত মানুষের জন্ম হবে না। দিন শেষে একসময় দীর্ঘ পথে কষ্ট করে হেঁটে এসে নিজের সমাজকে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে দেখে আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবে না। তাই আসুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আসনে বসে, সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলি এবং নিজের কথা ও শপথকে নিজে সম্মান দেখিয়ে আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজের বিকাশ ঘটাই এবং প্রজন্মকে আলোকিত হতে পথ দেখাই।।
# লেখক-কলামিস্ট, কবি ও প্রাবন্ধিক


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জৈন্তা বার্তা সম্পাদক ফারুক আহমদের মাতার ইন্তেকাল

        দৈনিক জৈন্তা বার্তা সম্পাদক ফারুক...

মো. নাসিমের মৃত্যুতে এসএমইউ’র উপাচার্য ডা. মোর্শেদের শোক

        আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক...

শ্রীমঙ্গলে খেলার মাঠ থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিখোঁজ

        শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি শ্রীমঙ্গল উদয়ন...