দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন আজ ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত

,
প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  নগরীর চাঁদনীঘাটে শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন করা হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার ব্যবস্থাপনায় প্রতিমা বিসর্জন করা হচ্ছে। পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সুবোধ মঞ্চ থেকে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে জানান মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত।

এদিকে, আজই মর্ত্য ছাড়বেন দুর্গতি নাশিনী, ফিরবেন স্বামীর ঘর কৈলাশে। বছরের আশ্বিনের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথি থেকে দশমী তিথিতে জগজ্জননী উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া হয়। মহাষষ্ঠীর দিন অকাল বোধনে স্বামীর ঘর কৈলাশ থেকে দেবীর অধিষ্ঠান হয়েছিল ঠাকুরঘরে বা পূজামন্ডপে। ষষ্ঠী থেকে দশমীর বিদায়ের সময় একদিকে আনন্দের জোয়ার, আবার অন্যদিকে বিষাদের সুর বাজে। আজ বিজয়া দশমী। সকালে দশমী পূজার পর দর্পণ বিসর্জন করা হবে।
আদ্যাশক্তি মহামায়া মর্ত্যে আসেন সকল অশুভ শক্তি বিনাশ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। অধর্ম নির্মূল করে ধর্ম সংস্থাপন করতে। দেবী মহামায়া অসুরী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয়ী হয়ে মর্ত্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
বৃহস্পতিবার ছিল মহানবমী। নবমী পূজা শেষে যজ্ঞাদি অনুষ্ঠিত হয়। যজ্ঞ নবমী পূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দুর্গতি নাশিনী, মহিষাসুর মর্দিনীর আরাধনা করেন। আর একটি মাত্র দিবানিশি পেরোলেই মা দুর্গা ফিরবেন কৈলাশে স্বামীর ঘরে। শরতের শুক্লপক্ষে ভক্তের অকাল বোধনে মা-দুর্গা – দেবী লক্ষ্মী, দেবী সরস্বতী, কার্তিক, গনেশ, কলা বৌ এবং মাথার উপর শিবকে নিয়ে সপরিবারে আসেন ধরাধামে বা মন্ডপে। সাথে অসুর, দুর্গার বাহন সিংহ, লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা, সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস, কার্তিকের বাহন ময়ূর, গনেশের বাহন ইঁদুর। বিদায় বেলায় সকলকে নিয়ে মা উমা ফিরবেন কৈলাশে।
গতকাল মহানবমীর রাতেও নগরীর পূজামন্ডপ গুলোতে ভক্ত, পুণ্যার্থী ও দর্শণার্থদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ ধ্বনিতে মুখর নগরীর টিলাগড় গোপালটিলা এলাকার সার্বজনীন পূজা দেখতে আসা দর্শনাথীদের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত ভাব লক্ষ্য করা গেছে। নগরীর মণিপুরী রাজবাড়ির পূজামন্ডপে অন্যান্য বছরের মতো এবারও দর্শনার্থী টানতে দৃষ্টিনন্দন অস্থায়ী মন্ডপ নির্মাণ করা হয়েছে। পূজামন্ডপের সামনে বসানো হয়েছে পানির ফোয়ারা।
আর নগরীর কাজলশাহ সার্বজনীন পূজামন্ডপ এবারও কাজলদীঘিতে স্থাপন করা হয়েছে। পূজা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফটিক চন্দ্র সাহা জানান, এবার পূজোর বাজেট প্রায় ১১ লাখ টাকা। সুদূর মাগুরা থেকে কারিগর এনে একমাস আগে থেকে পূজামন্ডপ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। পূজোর বাজেটের বেশ অংশই প্যান্ডেলে খরচ হয়েছে। তিনি আরো জানান, কাজদীঘিতে প্যান্ডেল হওয়ায় খুবই সুন্দর দেখায়। রাতের আলোতে এই দৃশ্য দর্শনার্থীদের মনকাড়ে। এজন্য দর্শনার্থীও বেশী।
একই দৃশ্য নগরীর নাইওরপুলস্থ রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম, দাড়িয়াপাড়ার চৈতালী সংঘ, ঝুমকা সংঘ, শ্রী শ্রী রক্ষাকালি বাড়ি, সনাতন যুব ফোরাম, মির্জাজাঙ্গালের দত্ত কুটির, মিরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জিউর আখড়ার লামাবাজার তিন মন্দির, মাছুদিঘিরপাড়ের ত্রিনয়নী, জল্লারপাড়ের সত্যম শিবম সুন্দরম, মাছিমপুর মণিপুরীপাড়ার শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দির ও মাছিমপুর কুরি পাড়া, চালিবন্দর, কাস্টঘর, যতরপুর, তোপখানা, শেখঘাট, রায়নগর, ঝেরঝেরিপাড়া, শিবগঞ্জ, গোপালটিলা, বালুচর, দুর্গাবাড়ি, আম্বরখানা, করেরপাড়া, আখালিয়া কালিবাড়ি, গোটাটিকর, জৈনপুর ও শিববাড়ি পূজামন্ডপে।
নগরীর মাছিমপুর মণিপুরী পাড়ার শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউর মন্দিরে দুর্গোৎসব উপলক্ষে মহাসপ্তমীতে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও ভারতীয় হাই কমিশনের সহকারী কমিশনার এল কৃষ্ণমূর্তিকে সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা। মহাষ্টমীতে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গতকাল বৃহস্পতিবার মহানবমীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মণিপুরী ভাষায় নাটক মঞ্চস্থ করা হয়। আজ প্রতিমা বিসর্জনের আগে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, বিসর্জনের পরে রং খেলায় মাতবেন এলাকার আবাল বৃদ্ধ বণিতা। সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণ ও শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সুস্থ জীবন যাপন করতে হলে খাদ্যের পুষ্টি জ্ঞান থাকা জরুরী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...

বাসা ভাড়া

          নগরীর আম্বরখানা এলাকায় রাস্তার...

মানুষের কল্যাণে রোটারিয়ানদের হাত আরো প্রসারিত করতে হবে–ডিজিই বেলাল আহমদ

         রোটারি ডিস্ট্রিক্ট গর্ভণর ইলেক্ট ২০২০-২০২১...