দিনে তিনবার চা খেলেই কি করোনামুক্তি!

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল, ২০২০     আপডেট : ৫ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে এখন পুরো বিশ্ব। এই ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে চলছে লকডাউন। গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এখন ব্যস্ত এর প্রতিষেধক তৈরিতে। তবুও যেন মিলছে না সমাধান। আর এই সুযোগে ছড়িয়ে পড়ছে নানা গুজব। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব উঠেছে, দিনে তিনবার চা খেলে নাকি করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ভারতের চা বোর্ড থেকে এই গুজবের ডালপালা ছড়িয়েছে।

গুজবে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে করোনা সারানোর এক সহজ উপায় আবিষ্কার হয়েছে। গরম পানি, স্লাইস করা লেবু আর বেকিং সোডা মিশিয়ে চায়ের মতো খেলেই নিমেষে শেষ হয়ে যাবে করোনাভাইরাস। কারণ এতে শরীরের পিএইচ মাত্রা বেড়ে যায়। আর করোনার পিএইচ মাত্রা ৫.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে। শরীরের পিএইচ মাত্রা এর চেয়ে বেশি হলেই নির্মূল হবে করোনাভাইরাস। ইসরায়েলিরা এই সহজ উপায়টি শিখে দিব্যি আছেন। এমন কি কারও মধ্যে ভাইরাস নিয়ে কোনো আতঙ্কও নেই।

সিএনএন’র একটি নিউজকে উদ্ধৃত করে আরও একটি গুজব ছড়িয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, চীনের যে চিকিৎসক প্রথম করোনা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন, তিনি মারা যাওয়ার আগে এর নিরাময়ের উপায় হিসেবে বলেছিলেন, মিথাইলজ্যানথাইন, থিওব্রোমিন বং থিওফাইলিন এই তিন যৌগ শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং এই ভাইরাসের সংক্রমণ আটকায়। এই তিনটি যৌগই পাওয়া যায় চা পাতায়। চীনারা কোভিড-১৯ আক্রান্তদের দিনে তিনবার চা খাইয়ে সারিয়ে তুলছেন। এভাবেই উহানবাসী করোনা সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করেছে।

আসলেই কি তাই?
যে গুজবগুলো ছড়িয়েছে বা যেসব উপায়গুলির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর স্বপক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। চীনেও চা খেয়ে লোকে সুস্থ হয়েছেন এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১৭১। দেশটিতে সরকারিভাবে এই ধরনের কোনো ঔষধি পানীয়ের কথা বলা হয়নি।

জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জাঁ ফিলিপ বঁজু’র একটি গবেষণাপত্র বলছে, ডায়েটে পরিবর্তন ঘটিয়ে এভাবে শরীরের পিএইচ মাত্রায় পরিবর্তন ঘটানো যায় না। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর একটি ব্লগ বলছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই যেখানে লেবু বা রসুন এই করোনাভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করেছে।

চা, কফি, চকোলেটে উপস্থিত মিথাইলজ্যানথাইন, এই যৌগ ঝিমুনি কাটিয়ে শরীরকে চনমনে করতে সাহায্য করে। তবে তা যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আটকায়, তার কোনো প্রমাণ নেই। ভাইরাল হওয়া দ্বিতীয় মেসেজটিতে সিএনএন-এর একটি ব্রেকিং নিউজের কথা বলা হয়েছে। তবে সিএনএন এমন কোনও খবর আদৌ প্রচার করেনি। লি ওয়েনলিয়াং বলে যে চিকিৎসকের কথা বলা হয়েছে, কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে তিনি গত ৭ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তিনি ছিলেন পেশায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ। ভাইরাস নিয়ে তার কোনো গবেষণা ছিল না।

আমাদের রোজকার অভ্যাসে গলা খুসখুস করলে গরম পানীয় দিয়ে গড়গড়া করা, গলা ব্যথা হলে আদা দিয়ে চা খেয়ে থাকি। কিন্তু সেসব যে করোনা আটকাবে, তার কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

সূত্র- আনন্দবাজার


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রলীগের একাংশের আনন্দ মিছিল

         নবগঠিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে...

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট...

আমেরিকার রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ক্বীন ব্রিজ পরিদর্শন করলেন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত...