দারুল কিরাতঃ একটি অনন্য স্মৃতিকথা

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০১৯     আপডেট : ১১ মাস আগে  
  

রফিকুল ইসলাম তালুকদার

আল্লাহ পাক রাব্বুল পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ করেন-
وَ رَتِّلِ الۡقُرۡاٰنَ تَرۡتِیۡلًا
আর স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে কুরআন আবৃত্তি করো। (তারতিলের সহিত, সহি শুদ্ধভাবে) তিলাওয়াত করো। -আল কোরআন, সুরা মুজাম্মিল।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিস শরীফে ইরশাদ করেন-
َ خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। -বুখারী শরীফ।

পাক ভারত উপমহাদেশ তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ শুদ্ধভাবে শিখার অনন্য দৃষ্টান্তঃ শামসুল উলামা হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী (ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী) রহমতুল্লাহি আলাইহি’র অমর সৃষ্টি “দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট” কর্তৃক অনুমোদিত মরহুম হাজী বশিদ মিয়া শাখা চেঁচান, ছাতক-এ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের তিলাওয়াতের আওয়াজে ছোটবেলা থেকে প্রতি রামাদ্বান মাসে সকালে ঘুম ভাঙে। ১৯৯২ ইংরেজি থেকে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের খেদমত চলছে এ শাখায়, ইনশা আল্লাহ! আমি আশাবাদী কিয়ামত পর্যন্ত এ শাখার খেদমত ধারাবাহিকভাবে চলবে। যাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের বদৌলতে এ শাখা অনুমোদন লাভ করেছিলো, আজ তারা অনেকেই জীবিত নেই। প্রাণভরে দোয়া করি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনায়। মহান আল্লাহ তায়ালা তার কালামে পাকের উছিলায় যেন তাদেরকে বেহেশতের সর্বোচ্চ আসন দান করেন। আর তাদের জন্যেও দোয়া করছি, যাদের বদৌলতে উক্ত শাখাটি স্বগৌরবে দীর্ঘদিন যাবত পরিচালিত হয়ে আসছে। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তাদেরকে নেক হায়াত দান করুন এবং দুনিয়া-আখিরাতে এর উত্তম বদলা দান করুন। দারুল কিরাতের এই শাখা আমাদের এলাকায় থাকার কারণে এলাকার শতসহস্র ছেলেমেয়ে সহি-শুদ্ধভাবে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ শিখতে সক্ষম হয়েছে/হচ্ছে। এবছরও ১১জন অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা প্রায় ছয়শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে কালামে পাকের সহি শুদ্ধ তেলাওয়াত শিখানো হচ্ছে! এই শাখার মাধ্যমে ইতিপূর্বে আমাদের এলাকার বহুসংখ্যক ছেলেমেয়ে দারুল কিরাতের সর্বোচ্চ সনদ লাভ করে “কারী” হয়েছেন। আমি আশাবাদী অদূর ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। আমার দারুল কিরাতে পড়ার সূচনা এখান থেকেই হয়েছিলো। আল্লাহ তায়ালার অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে, ২০০৫ সাল থেকে আমি এখানে শিক্ষকতা করছি। মরহুম হাজী বশিদ মিয়া এবং তার সুযোগ্য উত্তরসূরিরা এককভাবে (মরহুম হাজী বশিদ মিয়া ট্রাস্ট ইউ কে)-এর মাধ্যমে এ শাখা পরিচালিত করে যাচ্ছেন। শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে। আমি মনে করি যার কোন বদলা আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন ছাড়া দুনিয়ার কোন মানুষ দেওয়া সম্ভব নয়। খুশীর বিষয় হলো- দীর্ঘদিন যাবত হাজী বশিদ মিয়ার বাড়ীতে পরিচালিত এই শাখার জন্য তার যোগ্যতম উত্তরসূরিরা দারুল কিরাতের নামে ছয় কামরা বিশিষ্ট একটি ভবন দান করেছেন এবং দারুল কিরাত সম্পর্কিত যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তার হাবীবের উসিলায় তাদের এ দান কবুল করুন। এর বদলে তাদেরকে দুনিয়া-আখিরাতে শান্তি দান করুন।

আ-মিন।

লেখকঃ সহ শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া।

আরও পড়ুন



ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট জেলার ঈদ বস্ত্র বিতরণ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সমাজের অবহেলিত...

মুসলিম জীবনে হজ্বের তাৎপর্য

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল: হজ্ব ইসলামের...