দান-সদকার গুরুত্ব

প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে দান বা সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। দান করার জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই, সুন্দর ইচ্ছাই যথেষ্ট। দান শুধু অর্থ বা সম্পদ প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়। কারও শুভকামনা, সুন্দর ব্যবহার, সুপরামর্শ, পথহারাকে পথ দেখানো, পথ থেকে অনিষ্টকারী বস্তু সরিয়ে ফেলা এ জাতীয় সব কর্মই দান। দানের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কোরআন এবং হাদিস শরিফের কথাগুলো জেনে নিই।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,

‘মোমিনগণ! তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তানসন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এ কারণে গাফেল হয়, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত। আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে আরও কিছুকাল অবকাশ দিলেন না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সূরা মুনাফিকুন : ৯-১০)।

‘আর ব্যয় করো আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের মুখোমুখি করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদের ভালোবাসেন।’ (সূরা বাকারা : ১৯৫)।

‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দানখয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি দান গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খুব খবর রাখেন। (সূরা বাকারা : ২৭১)।

যারা স্বীয় ধনসম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, ব্যয় করার পর সে অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদেরই জন্য তাদের পালনকর্তার কাছে রয়েছে পুরস্কার। (সূরা বাকারা : ২৬২)।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,

শয়তান তোমাদের অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়, আর আল্লাহ তায়ালা দান করার বিনিময়ে ক্ষমা করা ও সম্পদ বৃদ্ধি করার ওয়াদা করেন। বস্তুত আল্লাহপাক সমৃদ্ধিশালী, সর্বজ্ঞানী। (সূরা বাকারা : ২৬৮)।

দানসদকার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাসুল (সা.) বলেছেন,

‘খেজুরের একটি টুকরা দান করে হলেও তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করো।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

হজরত উকবা বিন আমের (রা.) থেকে বর্ণিত; নবীজি (সা.) বলেছেন,

‘নিশ্চয়ই দানসদকা কবরের আজাব বন্ধ করে দেয়। আর কেয়ামতের দিন বান্দাকে আরশের ছায়ার নিচে জায়গা করে দেয়। (তাবরানি ও বায়হাকি)।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত: হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,

‘মানুষের জীবদ্দশায় এক দিরহাম দান করা, তার মৃত্যুর পর একশত দিরহাম দান করার চেয়ে উত্তম। (আবু দাউদ সূত্রে মেশকাত)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেন,

‘দান সম্পদ কমায় না, দান দ্বারা আল্লাহ পাক বান্দার সম্মান বৃদ্ধি ছাড়া কমায় না। কেউ আল্লাহর ওয়াস্তে বিনয় প্রকাশ করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে বড় করেন (মুসলিম)।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন,

‘এমন কোনো দিন যায় না, যেদিন দুজন ফেরেশতা পৃথিবীতে আগমন করেন না। তাদের একজন দানশীল ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে থাকেন এবং বলেন, হে আল্লাহ! আপনি দানশীল ব্যক্তিকে উত্তম বদলা দিন। দ্বিতীয় ফেরেশতা কৃপণের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে বদদোয়া করে বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস ও বরবাদ করুন।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

আমাদের সবার উচিত গরিব-দুঃখী, অভাবী, আত্মীয়স্বজন আপনজনদের বেশি দান সদাকা করা। কেননা দানসদকায় বালামুসিবত, বিপদ-আপদ দূর হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা নবীজি (সা.) এর উসিলায় আমাদের আমল করার তওফিক দিন।

সিলেট এক্সপ্রেস/ইসলাম ও জীবন/সোলেমান ইসলাম তাওহীদ

পরবর্তী খবর পড়ুন : আমল

আরও পড়ুন



মহাজনপট্টিতে আগুন

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার মহাজনপট্টি কাষ্টঘর...

হৈ চৈ

মিজানুর রহমান মিজান: জল ফেলে...