দলের নির্দেশের বাইরে এক পা ফেলবেন না কামরান

প্রকাশিত : ২৮ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

ওয়েছ খছরু: পরিবার নয়, এবার দলকেই প্রাধান্য দেবেন সিলেট আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। বললেন- ‘দলের নির্দেশের বাইরে এক পা ফেলবেন না। দল যেভাবে চাইবে সেভাবেই নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সিলেটের সাবেক এই মেয়র এ কথা জানিয়েছেন। বলেছেন- ‘বিগত নির্বাচন ছিল দলের সমর্থনের নির্বাচন। আর এবার হচ্ছে দলের মনোনয়নের নির্বাচন। আমার মার্কা হচ্ছে নৌকা।
আর নৌকা হচ্ছে দেশের আওয়ামী লীগ তথা আপামর মানুষের প্রতীক। সুতরাং এবারের নির্বাচনে দলের নির্দেশের বাইরে কোনো কাজ হবে না।’ শুরু থেকেই দলের উপর আস্থা বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের দিন দুপুরের পর থেকে অনেক কেন্দ্রে তার এজেন্টের খোঁজ মিলেনি। কোথাও কোথাও দলীয় নেতা-কর্মীরা তার ভোট পাহারা দেননি। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে একাট্টা ছিলেন না। এ কারণে সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই বারের নির্বাচিত মেয়র কামরানের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল। নিজের এলাকার ভোটকেন্দ্রেও পাস করতে পারেননি। ভোটের এসব সমীকরণ নির্বাচনের পরপরই পরিষ্কার হয়ে যায় কামরানের কাছে। কিন্তু মুখ ফুটে কারও কাছে কিছুই বলেননি। বরং ওই সময়ের ‘গ্যাপ’ তিনি দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করে নেন। তবে- কামরানের পরিবার নিয়ে একটি প্রশ্নই বেশ জোরেশোরে ছিল। বলা হয়েছিল- ভোটের আগে কামরান দল কেন্দ্রিক না হয়ে পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছিলেন। এ কারণে কামরানের পরিবার ও দল মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়। যদি কামরানের পুরো পরিবারই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার স্ত্রী আসমা কামরান মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বড় ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলু সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক। পাশাপাশি তার পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কিছু মহল। ওখানেও ছিল বিশ্বাস-অবিশ্বাসের খেলা। কামরান তার অনেক সিদ্ধান্ত পরিবার থেকে গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারক মহল তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। এবারের নির্বাচনে কামরানের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। কামরান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার কারণে মিসবাহ সিরাজের সঙ্গে সাংগঠনিক ভাবে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। একই সঙ্গে ঢাকায় দলীয় মনোনয়ন জমা দেয়ার আগে এবার সিলেটের ‘মুরব্বি’ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। সেখানে তিনি এবারের নির্বাচনে অর্থমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। অর্থমন্ত্রীও কামরানকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। এই অবস্থায় এখন আওয়ামী লীগ কামরানের পক্ষে মাঠে সক্রিয়। কামরানও সতর্ক। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গ ছাড়বেন না। নির্বাচনী ছক সাজাবেন আওয়ামী লীগ নেতারাই। তাদের উপর ইতিমধ্যে নির্ভর তিনি।

নিজেও এ কথা জানিয়ে বলেছেন- ‘সিলেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার আমার মাধ্যমে সিলেটবাসীকে নৌকা উপহার দিয়েছেন। সিলেট আওয়ামী লীগের কাঁধেও নৌকার দায়িত্ব। এ কারণে দলের নেতাকর্মীদের মতামত আগে প্রাধান্য পাবে। তাদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে নগরের নির্বাচন।’ সিলেটে আওয়ামী লীগের বাইরেও সামাজিক অবস্থানে কামরানের ‘ভোটব্যাংক’ রয়েছে। কামরান তার নিজের ভোট নিজেই টানার চেষ্টা করছেন। যেখানে যেখানে দূরত্ব রয়েছে সেগুলো তিনি মিটিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। এখনো পুরোপুরি ভোটের মাঠে সক্রিয় না থাকলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামরান সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। যেখানেই মানুষ তাকে ডাকছে সেখানেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন। ২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে পরাজয় বরণ করেছিলেন কামরান। পরাজিত হলেও থমকে যাননি কামরান। আওয়ামী লীগের রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে রাজনীতির মাধ্যমেই তিনি সক্রিয় হন নগরীতে। ফের সরব হয়ে উঠে তার ড্রইংরুম। নগরের লোকজন বিভিন্ন কাজে ও তদবিরে যেতেন তার কাছে। তিনিও নগরের মানুষকে সেবা দিয়ে গেছেন।

সূত্র মানবজমিন

আরও পড়ুন

বেদিশা

মিজানুর রহমান মিজান মিথ্যা আর...

সিলেটের নতুন পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন

সিলেট জেলার নতুন পুলিশ সুপার...

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

সালেহ আহমদ হৃদয়, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি...