তার শৈশবের লেখাই ছিলো বড়ো মাপের লেখকের…

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

তাসলিমা খানম বীথি: লাভলী চৌধুরী বহুমুখী প্রতিভায় উদ্ভাসিত ব্যক্তিত্ব। তিনি কবি, গীতিকার, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক। সর্বোপরি তিনি একজন মিষ্টিভাষি সাহিত্যসেবী, উদার মনের মানুষ। এই কবি ছয়ের দশক থেকে আজ অবধি নিভৃতে লিখে চলেছেন। সমাজ সচেতনতা ও দেশাত্মবোধ তাকে অনুপ্রাণিত করে। নরম মনের এই কবি শুধু কবিতা, গল্প লিখেই থেমে থাকেননি। নাটকের মাধ্যমে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সুখ দুঃখ হাসি কান্না, প্রেম বিরহ আর গরিবের উপর সবলের অত্যাচার নিপুণভবে তুলে ধরেছেন। তিনি শুধু মঞ্চ নাটক লেখেননি, সিলেট বেতারের শুরু থেকেই নিয়মিত নাটক, জীবন্তিকা লেখছেন। লাভলী চৌধুরী গীতিনাট্যও লেখছেন নিয়মিত । দীর্ঘদিন বেতারে তাঁর নাটক প্রচার হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশেনও তার নাটক প্রচারিত হয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকেই তার বহু গান রেডিও টিভিতে প্রচারিত হচ্ছে। সিলেট সাহিত্য জগতের উজ্জ্বল এই কবি একনিষ্ঠভাবে সাহিত্য সেবা করে চলেছেন পঞ্চাশ বছরের বেশী সময় ধরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন করে আসছেন। এছাড়া পারিবারিক পটভুমির ঐতিহ্য তাঁকে ছোটবেলা থেকেই লেখার জগতে টেনে এনেছে। যার জন্য শৈশব থেকেই তিনি এপার বাংলা ওপার বাংলার সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছেন।

প্রখ্যাাত সাহিত্যিক এবং লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, কাব্যবিনোদ পুরাতত্ত্ববিদ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাহিত্যরতেœর সুযোগ্য কন্যা লেখিকা সমাজ সংস্কারক (মরহুমা) সিতার বেগমের সুকন্যা লাভলী চৌধুরী জন্ম ১৯৫০ এর ১১ মে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার গ্রামে তাঁর মামার বাড়িতে। তাঁর পিতা সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলার সিকান্দরপুরবাসী শিক্ষাবিদ মরহুম লতিফুর রহমান চৌধুরী। প্রগতিশীল বাবা মায়ের অনুপ্রেরণাই কবি লাভলী চৌধুরীর লেখনীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দৈনিক যুগভেরীতে অসংখ্য লেখা তার প্রকাশ পেয়েছে। কিশোরীবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত পরিপক্ক কবিতা লেখেন। সে সময় যুগভেরী পত্রিকার সম্পাদক তার লেখা পড়ে মুগ্ধ হন। পরবর্তীতে তাঁকে দেখে তিনি বলেছিলেন, এ যে স্কুলের ছাত্রী, আমি তো ভেবেছিলাম বয়স্ক মহিলা। সেই স্কুলজীবন থেকেই তিনি সিলেট বেতারে অংশগ্রহণ করতেন। পাকিস্তান আমলে তিনি ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় ছোটদের পাতা থেকে লেখা শুরু করে বড়দের পাতায় ঠাঁই নিয়েছেন। মহিলাদের সচিত্র বেগম পত্রিকার নিয়মিত লেখক তিনি। লেখালেখির পাশাপাশি সুরমা লাায়ন্স ক্লাব গঠন করেন। ক্লাবের সদস্য থেকে সেক্রেটারী হয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন সে সময় সিলেট সুরমা লায়ন্স ক্লাব বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সিলেটের অনেক সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। বিশেষ করে মহিলাদের দুটো সংগঠন সিলেট লেখিকা সংঘ ও নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্রের হাল ধরে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তিনি বর্তমানে সিলেটের তরুণ লেখিকাদের অভিভাবক হিসেবে বটবৃক্ষের ছায়ায় আগলে রেখেছেন। পঞ্চাশ বছর ধরে তিনি লিখে যাচ্ছেন। তাঁর লেখার ভান্ডার বড় হলেও বই প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সচেতন। যার প্রেক্ষিতে তাঁর বইয়ের সংখ্যা তুলনামুলকভাবে কম। মোবাইল:-০১৭১২২১১৪৪৬

সিলেট এক্সপ্রেসের অফিসে গত ২৯জুন ২০১৩ অন্তরঙ্গ পরিবেশে তার সাক্ষাতকার গ্রহন করেন সিলেট এক্সপ্রেসের স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি। সাক্ষাতকারটি নীচে তুলে ধরা হলো।

বীথিঃ কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন ? আপনার প্রথম লেখা কি ছিল এবং কত সালে ?

লাভলী চৌধুরী ঃ খুব ছোটবেলা থেকে লেখালেখি শুরু করি। প্রথম লেখা ছিল ছোটগল্প। এটি ১৯৬২সালে লেখি।

বীথিঃ আপনার লেখা প্রথম কোথায় প্রকাশ হয় ?
লাভলী চৌধুরী ঃ আমার লেখা প্রথম ১৯৬২ সালে সাপ্তাহিক যুগভেরীতে প্রকাশিত হয়।

বীথিঃ আপনাকে লেখালেখিতে কে উৎসাহ দিয়েছেন?
লাভলীঃ যে সময় আমি লেখালেখি শুরু করি তখন কেউ জানতো না আমি লেখালেখি করছি। আমি ছোটবেলা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে ভালোবাসতাম। যখন আমার লেখা পত্রিকা প্রকাশিত হয় তখন সবাই জানতে পারে আমি লেখালেখি করি। জানার পর কেউ উৎসাহ দেয়নি বা বাঁধাও দেয়নি। তবে মা বাবা চাইতেন না আমি লেখালেখি করি। তারা ভয় পেতেন,আমি লেখালেখি করতে গিয়ে লেখাপড়ার ক্ষতি করে ফেলবো। তবে কোন বাধা পাইনি।

বীথিঃ আপনার লেখা কতটা বই বের হয়েছে। বইগুলোর নাম কি ?
লাভলী চৌধুরী ঃ আমার এ পর্যন্ত ১৪টি বই বের হয়েছে।এগুলো হচ্ছেÑকাব্য-গীতিগুচ্ছ:পুষ্পিতা, আনন্দ কারাগার। উপন্যাস: ভালো থেকো, চোখের জলে অন্ধ আঁখি, স্মৃতিরা পোহায় রোদ্দুর, সহেনা যাতনা, তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো। ছোটদের বই হচ্ছেÑইমু ও পাগলা হাতি, গল্পে ছড়ায় ইরাম। ছোট গল্প: আকাশ প্রদীপ। গবেষণা: তিরিশ বছর পর, মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসেন ও তাঁর গীতি কবিতা। সম্পদনা : অনিয়মিত সাহিত্যপত্র শিখা ও অন্যান্য। চলচ্চিত্র কাহিনী : কলঙ্খিনী চাঁদ (করিমুননেসা)। ২০১১ সালে উম্মাহাতুল মু’মিনীন রাসুলুল্লাহ (স:)-র জীবন সঙ্গিনীদের পরিচিতি বই প্রকাশিত হয়।

বীথি: নতুন কোন বই বের করার পরিকল্পনা আছে কি ?
লাভলী চৌধুরী: পান্ডুলিপি আছে তবে সুযোগ সুবিধা পেলে প্রকাশ করবো। শিশুতোষ ছড়া কবিতার বই বের করার ইচ্ছে আছে।

বীথি: আপনার ভাইবোনদের কথা একটু বলুন।
লাভলী চৌধুরী: আমরা ৬ বোন ৩ ভাই। আমি ভাইবোনদের মধ্যে ২য়। আর আমার ছোট বোন বাবলী রহমান জার্নালিস্ট মাস্টার্স করেছে।

বীথি : আপনার শৈশব ও কৈশোর কোথায় কেটেছে ?
লাভলী: সিলেটে কেটেছে।

বীথি: আপনার সংসার জীবন সম্পর্কে একটু বলুন।
লাভলী চৌধুরী : ১৯৬৭ সালে আমার বিয়ে হয়। আমার স্বামী মরহুম ডা.সিদ্দিকুর রহমান। আমার স্বামীর বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায় লংলায়। তিনি একজন ডেনটিস্ট ছিলেন। আমার ২ ছেলে। বড় ছেলে মো:জাফর সাদেক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের এরিয়া সেল্স ম্যানেজার। ছোট ছেলে মো: রুবাইয়াত সাদেক ব্যবসায়ী।

বীথি: লেখালেখিতে আপনার স্বামী কি রকম ভূমিকা রেখেছেন?
লাভলী চৌধুরী : লেখালেখির ব্যাপারে আমি তার কাছ থেকে অনেক সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি।

বীথি : প্রিয় বই? প্রিয় লেখক কে?
লাভলী চৌধুরী: অনেক বই প্রিয়। অনেক লেখকও প্রিয়। বিশেষ প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম।

বীথি: কার বই সবচেয়ে বেশি পড়েন ?
লাভলী চৌধুরী: সব ধরনের বই পড়ি। তবে ইদানিং ধর্মীয় বই বেশি পড়তে ভালো লাগে।

বীথি: আপনি অবসর সময় কি করেন ?
লাভলী চৌধুরী : বই পড়ি, পত্রিকা পড়ি।

বীথি: লেখিকা সংঘের সাথে কবে থেকে জড়িত হয়েছেন-এর সর্ম্পকে কিছু বলেন ? আপনার সাংগঠনিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
লাভলী চৌধুরী : ১৯৮৪ সাল থেকে আমি লেখিকা সংঘের সাথে জড়িত হই। অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলাম। কিছু সংগঠন তৈরী হয়ে ভেঙ্গে যায়। এর জন্য আমার আক্ষেপ হয়। তবে লেখিকা সংঘকে আমি ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। কতটুকু সফল হয়েছি জানিনা।

বীথি: লেখালেখির পাশাপাশি আর কি করেছেন ?
লাভলী চৌধুরী : লেখালেখির পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন লেখকদের লেখার সুযোগ করে দেয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। নতুন লেখকদের লেখার সুযোগ না দিলে সাহিত্যের উন্নতি হয় না। সে লক্ষ্যেই ১৯৬৮ থেকে প্রকাশ করি অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা ‘শিখা’। এই পত্রিকায় তখনকার নবীন লেখিকারা তাদের লেখার সুযোগ পেয়ে আজ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছেন।

বীথি: আপনার যখন মন খারাপ হয় তখন কি করেন ?
লাভলী চৌধুরী: আমার যখন মন খারাপ হয় তখন আমি বই পড়ি। খুব বেশি মন খারাপ হলে কোরআন তেলাওয়াত করি।

বীথি: আপনার জীবনের সবচেয়ে মধুর মূর্হুত কী ছিল ?
লাভলী চৌধুরী: আমার প্রথম নাতি ইরাম ফাইরুজ, নাতনি আজরিন রহমান বয়স ১০ মাস চলছে। তাদের জন্ম গ্রহন ছিল আমার কাছে মধুর মুহুর্ত।

বীথি: আগামী প্রজন্মকে আপনি কেমন দেখতে চান ?
লাভলী চৌধুরী : ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুদের অন্তরে’। তারাই আমাদের আগামী দিনের ভবিষৎ। তারা ভালো হলো দেশ ভালো হবে। তাই আমি আগামী প্রজন্মকে ভালো, সুন্দর ও সমৃদ্ধি হিসেবে দেখতে চাই।

বীথি: আপনি কোন ধরনের খাবার পছন্দ করেন ?
লাভলী চৌধুরী: সব ধরনের খাবার ভালো লাগে। খাবারে ব্যাপারে আমার আলাদা কোন কিছু নেই।

বীথি: কোন রং পছন্দ ?
লাভলী চৌধুরী : সাদা ও সবুজ।

বীথি : পছন্দের ফল কোনটি ?
লাভলী চৌধুরী: মৌসুমি ফলের মধ্যে বেশি পছন্দের আম ও কাঁঠাল।

বীথি : কি অপছন্দ করেন ?
লাভলী চৌধুরী : মানুষের মিথ্যাচার।

বীথি: আপনার শখ কী ?
লাভলী চৌধুরী: মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখা। সবার সাথে সব বয়সের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করতে ভালো লাগে।

বীথি: আপনি কাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেন ?
লাভলী চৌধুরী : মিস করার মত আমি সময় পাই না। তার কারন হল আমি সবসময় খুব ব্যস্ত থাকি। সেই জন্য তেমন কাউকে মিস করিনা।

বীথি: জীবনে একটি অনাকাঙ্খিত মুর্হূতের কথা বলেন যা আপনাকে কষ্ট দেয় ?
লাভলী চৌধুরী : আমার প্রথম সন্তানের মৃত্যু আমাকে সবসময় কষ্ট দেয়।

বীথি: আজকের অবস্থান থেকে পেছন পানে চাইলে কী কথা মনে পড়ে ?
লাভলী চৌধুরী: বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গান দিয়েই বলি ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাতাম’। আগের দিনগুলো অনেক সহজ সরল ও সুখের ছিল। আগের দিনগুলো ফিরে পেতে ইচ্ছে করে।

বীথি: বাংলাদেশকে আপনি কেমন দেখতে চান ?
লাভলী চৌধুরী: বাংলাদেশকে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সুন্দর দেশ হিসেবে দেখতে চাই।

বীথি: নতুন প্রজন্মকে আপনি কি উপদেশ দিবেন ?
লাভলী চৌধুরী: নিজেকে কতটুকু সফল করতে পেরেছি জানি না। তবে আগামী প্রজন্মকে আমি বলব তারা যেনো সত্যিকারের মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলে। ভালো থাকে সুস্থ থাকে।

বীথি: একজন ভালো লেখক হতে হলো কী কী গুন থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন ?
লাভলী চৌধুরী: বেশি করে পড়তে হবে এবং বেশি করে লিখতে হবে।

বীথি: আপনি এপর্যন্ত কি কি পুরষ্কার পেয়েছেন?
লাভলী চৌধুরী: এ পর্যন্ত আমি দেশে ও বিদেশে বেশ কিছু সম্মাননা ও পুরষ্কার পেয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-(১) আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাবের হান্ড্রেড পারসেন্ট প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড ১৯৮৬ (২) প্রবর্তনা ঢাকা, সাহিত্য সৃষ্টিতে পদক-১৯৯৯/২০০০, (৩) বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ (ঢাকা) সম্মাননা পদক-২০০১, (৪) আশরাফ ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক (ঢাকা)-২০০২, (৫) শেকড়ের সন্ধানে এ্যাওয়ার্ড (সিলেট)-২০০২, (৬) বেসরকারি একুশে পদক সাহিত্য (পাবনা) ২০০১, (৭) টনটনিয়া, বগুড়া, সাহিত্য, (৮) পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (করাচি), (৯) দেওয়ান আজরফ ফাউন্ডেশন, সাজেদুন্নেছা পুরষ্কার সাহিত্য (ঢাকা) ২০০৮, (১০) মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য পুরষ্কার (সিলেট), (১১) নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র কলকাতা শাখা (সাহিত্য), ২০০৫ (১২) নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র (ঢাকা) সাহিত্য পদক, (১৩) সিলেট কালচারাল একাডেমি অমর একুশে বইমেলা ২০০৮, (১৪) বাংলা ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র,ঢাকা, (১৫) জাতীয় সাহিত্য পরিষদ (ঢাকা)।

বীথি: আপনার একটি গুনের কথা বলেন, যা সবাই জানে না ?
লাভলী চৌধুরী: সব সময় গুছানো থাকতে ভালোবাসি। সব বিষয় সিরিয়াস চিন্তা ভাবনা করি। যার জন্য আমাকে কষ্ট পেতে হয়। আর ভালো রান্না করতে পারি।

বীথি: জীবনে কি হতে চেয়েছিলেন ?
লাভলী চৌধুরী: ছোটবেলা থেকেই আমি স্বপ্ন দেখতাম লেখক হব। আমি লেখক হতে চেয়েছিলাম।

বীথি: আপনার শুভাকাঙ্খি বা পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন কী ?
লাভলী চৌধুরী: আমার শুভাকাঙ্খি এবং পাঠকদের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আমার শুভাকাঙ্খি ও পাঠকদের কাছে একটাই প্রত্যাশা করি। তারা যেনো আমার লেখার সমালোচনা করে। তাহলে আমি আরোও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো।

বীথি: একজন নারী হিসেবে এবং কবি হিসেবে আপনার অনুভব কেমন বলবেন কি ?
লাভলী চৌধুরী: কবি হিসেবে আমি মনে করি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তবে একজন নারী হিসেবে লেখালেখি করার ব্যাপারে কখনো হীনমন্যতা আমার ভেতরে কাজ করেনি।

বীথি: আপনি কি জানতেন একদিন কবি বা লেখক হবেন ?
লাভলী চৌধুরী: আমি যখন লেখালেখি শুরু করি তখন অনুভব করেছি যে লেখকদের অনেক সম্মান। সবচেয়ে নিরাপদ কাজ হলো লেখালেখি করা। সে জন্য ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম লেখক হব। কিন্তু ভাবিনি মনে পোষে রাখা ইচ্ছেটা আজ আমাকে এতদূর নিয়ে আসবে। তবে কখনো ভাবিনি লেখক হব।

বীথি: আপনার লেখা কলঙ্খিনী চাঁদ (করিমুননেসা), যা নিয়ে চলচ্চিত্র হয়েছে। এর সর্ম্পকে কিছু বলুন ?
লাভলী চৌধুরী: আমার লেখা কলঙ্খিনী চাঁদ (করিমুননেসা) গল্পটা ছিল মৌলভীবাজারে বৃটিশ আমলের জমিদার বাড়ির একটি মেয়েকে নিয়ে লেখা। মূলত একটি ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী ছিল।

বীথি: আপনার লেখা চলচ্চিত্র কলঙ্খিনী চাঁদ (করিমুননেসা)। যখন টিভিতে দেখলেন তখন কেমন লেগেছে ?
লাভলী চৌধুরী: খুব ভালো লেগেছিল। কিন্তু একটি ব্যাপারে আমার খুব খারাপ লেগেছে তা হল কলঙ্খিনী চাঁদ গল্প ছিল সিলেটের বৃটিশ আমলের জমিদার বাড়ি নিয়ে। এই ছবিতে যদি আমাদের সিলেটের ভাষায় সংলাপ দেয়া হতো এবং সিলেটের মানুষকে দিয়ে অভিনয় করানো হত তাহলে আরোও বেশি ভালো লাগতো।

বীথি: সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ ?
লাভলী চৌধুরী: তোমাকেও ধন্যবাদ এবং সিলেট এক্সপ্রেস পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন



সুরা কাহাফ কেন তেলাওয়াত করবেন?

তাইসির মাহমুদ লন্ডন,যুক্তরাজ্য গতকাল বলেছিলাম...

কমলগঞ্জে ৬ দফা দাবীতে আগরচাষীদের স্মারকলিপি

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) ঃ কমলগঞ্জ উপজেলার...

কমলগঞ্জে অর্থের জন্য বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত দুটি পরিবার

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ঃ প্রধানমন্ত্রী...