তার বাইকের পেছনে একদিন

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে

সেলিম আউয়াল :: খাটো সাইজের সিডি-এইটটি মোটর সাইকেল চালিয়ে আসছিলেন, ধীর গতিতে। দূর থেকে দেখছিলাম। ভাবলাম কাছে আসলে সালাম দেব। কাছে আসলেন। সালাম দিতেই মোটর সাইকেল থামালেন। কাছে যেতে বললেন, আমি তার সাথে মোটর সাইকেলে শহরে যাব কিনা। শাহপরান গেইটে শহরে যাবার গাড়ির অপেক্ষায় ছিলাম। কমপক্ষে ২৫ বছর আগের কথা। মোটর সাইকেলে তার পেছনে বসলাম। আমার জীবনে এতো ধীর গতিতে কখনো মোটর সাইকেল আমি চড়িনি। তিনি ধীর গতিতে তো চালাচ্ছিলেন, এরপর বার বার গিয়ার চেন্জ করা। দীর্ঘ সময় নিয়ে আমরা শহরে আসি। এতো ধীর গতি বিরক্তিকর হলেও, যেহিন আহমদের মোটর সাইকেলের পেছনে বসে দীর্ঘ পথ চলছি, সেটা ছিল আনন্দদায়ক এবং আজ আমার জন্যে এক আনন্দ মেশানো স্মৃতি।
যেহিন ভাইয়ের সাথে এভাবে অনেকবার কাছাকাছি হবার সুযোগ হয়েছিলো। ছোটখাটো নানান কাজে তার কাছে গিয়েছি। তিনি খুব নিচুস্বরে কথা বলতেন। কানটা খুব জাগিয়ে না রাখলে শোনা যেত না। অবশ্য শেষের দিকে তিনি আস্তে বললেও আমি বুঝতে পারতাম।
তার বড় ভাই মোশতাক হোসেন চৌধুরী ছিলেন সিলেট ল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল। চমৎকার উপভোগ্য ছিলো তার ক্লাসগুলো। উর্দু-ফারসি-বাংলা অসংখ্য কবিতার উদ্ধৃতি থাকতো তার বক্তৃতায়। ল পড়াটা আমার কমপ্লিট না হলেও স্যারের সাথে আমার একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। অনেকদিন পর জানতে পারি তিনি কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সভাপতি ছিলেন। শুধু তাই নয়, তার আব্বা নজমুল হোসেন চৌধুরীও সংসদের সভাপতি ছিলেন। মোশতাক স্যারের ইন্তেকালের পর সাহিত্য সংসদের পক্ষ থেকে একটি শোক বার্তা নিয়ে গিয়েছিলাম তাদের মিরের ময়দানের বাসায়। যেহিন ভাইয়ের হাতে তুলে দিই শোকবার্তা। তিনি আমাদেরকে সেদিন খুব কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন।
আজকের ব্রাকের যাত্রা শুরু হয়েছিলো তাদের বাসা থেকে। একদিন যেহিন ভাইকে বললাম ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদের সাহিত্যপাঠের কথা। আমাকে অবাক করে বললেন, একবার তারা দুজন আমেরিকায় একটি সম্মেলনে গিয়েছিলেন। অবসরে দুজন হোটেল আঙ্গিনায় বসেছিলেন, সেই এক বসায় ফজলে হাসান আবেদ তাকে এক ডজনের বেশী কবিতা শুনিয়েছিলেন। যেহিন ভাইও অনেক কবিতা অনুবাদ করেছেন।
যেহিন ভাইয়ের এফআইভিডিবি একটি বিশাল এনজিও। এ সাইজের একটি এনজিও-ও নির্বাহী কর্মকর্তার অনেক ভাব থাকে। তিনি ছিলেন তার উল্টো। তার কাছে না গেলে অনুভব করা যাবে না, কতো বিনয়ী একজন মানুষ ছিলেন তিনি।
আমি সেই যে মোটর সাইকেল চড়া কাহিনী বললাম, তখনও তার অফিসের ছিলো গাঢ় অলিভ কালারের একটি পাজেরো জিপ। কিন্তু তিনি খুব দরকার না হলে সেই গাড়ি চড়তেন না।
যেহিন ভাইয়ের সাথে প্রায়ই দেখা হতো জুমার নামাজে দরগায়। নিশ্চয় তিনি নামাজের পর কামনা করতেন, মুমিনের চিরকাম্য জান্নাতুল ফেরদৌস। মহান আল্লার কাছে কামনা করি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।
লেখক : সাংবাদিক সংগঠক, কবি ও গল্পকার

আরও পড়ুন

শাবি’র ৩ বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন এর মোড়ক উন্মোচন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের...

আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সংঘর্ষে আহত ২০

 সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সুনামগঞ্জের...

মোমিনখলা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে

দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা এলাকায় ভয়াবহ...