তার কাছে যেতে কাউকে ভায়া ধরতে হতো না

প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবদুল বাতিন ফয়সল
কামরান ভাইকে হারানো, একজন ভাই হারানোর ব্যথা।কামরান ভাই যিনি সবসময় আপন ভাইয়ের মতো সবার সাথে সম্পর্ক রাখতেন। কোন কিছু হলে কামরান ভাইকে না বললে যেন নিজের তৃপ্তি আসতো না। যে কোন সময় একান্ত আপনজনের মতো যে কোন কথা বলা যেতো।কামরান ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটা যখন পেলাম তখন খুব খারাপ লাগলো। একজন আপনজনকে হারাবার ব্যথা অনুভব করলাম।সিলেটে ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন গঠনের পর থেকেই কামরান ভাইয়ের সহযোগীতা ছিল অকল্পনীয়। সব সময় কোন প্রোগ্রাম হলে তিনি নিজ থেকে ফোন করে খবর নিতেন বলতেন যে কোন প্রয়োজন হলে ভাইরে কইবা ইটাতো আমার সংগঠন।

কামরান ভাইকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নজন তাকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ে নিয়ে আসতে চেষ্টা করেছে, কিন্ত তার মন সবসময় ছিলো খোলা। কোনদিন তার কাছে যেতে কাউকে ভায়া ধরতে হয়নি। এটা শুধু আমার জন্য না সমাজের যে কোন পেশা বা যে কোন স্তরের মানুষের জন্য তার দরজা খোলা। এজন্য তিনি বাসায় বড় ফটক লাগাননি। বছরদিন আগের কথা হাফিজ কমপ্লেক্সে বিয়ানীবাজারের একজনের বিয়ে ছিলো । বরের ছোট ভাই আমার ছোট ভাই লন্ডন একসাথে থাকতো, সে আমার ভাইকে চাচা ডাকতো। সে তার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে দেশে আসলো। আমার ভাইকে বললো চাচা আমার ভাইয়ের বিয়েতে কামরান ভাই আসতে হবে,দেশে চাচাদেরকে একটু বলেন । তারা যেন কামরান ভাইকে উপস্থিত করেন।
সে দেশে আসার পর যোগাযোগ করল,আমি কামরান ভাইকে ফোন দিলাম,তিনি বললেন ভাই আমার প্রোগ্রাম আছে তবে আপনার কথা রাখবো উপস্থিত হয়ে চলে আসবো। যাক আমি অপেক্ষা করছি বিয়ে বাড়িতে। বরের ছোট ভাই ছাড়া আর কারো সাথে আমার পরিচয় নেই। কামরান ভাই আসলেন বরের সাথে পরিচয় করে দিলাম। পরে কনের কাছে গেলাম গিয়ে দেখি ভাবি আসমা কামরান সেখানে উপস্থিত। কনের পক্ষ কামরান ভাইয়ের আত্মীয় তাই পরিবারের পক্ষ থেকে ভাবি এসেছেন। কামরান ভাই তখন ভাবিকে বলছিলেন বরতো ফয়সল ভাইয়ের ভাতিজা। তখন কনে পক্ষ আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাচ্ছিল। তারা মনে হয় ভাবছিলো তাদের আত্মীয় হয়ে কামরান বিয়েতে যাননি, গিয়েছেন বরের আত্মীয় হয়ে। কনে পক্ষের চাহনি দেখে আমি অস্বস্তি বোধ করছিলাম। কনে পক্ষ ও বর পক্ষের মধ্যে আমি শুধুমাত্র বরের ভাইকেই চিনি।
কিন্ত প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে শুধু আমার অনুরোধ রক্ষার জন্যে বিয়েতে এসেছিলেন।
কামরান ভাইকে নিয়ে লিখলে স্মৃতি শেষ হবে না । ১৩/১৪ বছর আগের কথা । কামরান ভাই অসুস্থ নগরীর উপশম ক্লিনিকে ভর্তি। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে তাকে দেখতে গেলাম।ভেতরে ঢুকতেই ভাবিকে ডেকে বললেন ”আসমা আমার ছোট বইন আইছে তাইরে নাস্তা দেও”। এইযে শব্দের ব্যবহার আপনজন ছাড়া তো কেউ এইভাবে বলে না। আমরা গেলাম রোগী দেখতে, এখন দেখা যায় ভাবি আমার স্ত্রীকে আপ্যায়নের দিকে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমার স্ত্রী সব সময় তার কথা বলেন। এবার যখন ভাবি করোনা আক্রান্ত হলেন আমাকে বললেন কামরান ভাইকে ফোন দেও ভাবির খবর নেওয়ার জন্য। তোমার নিউজের তথ্য পরে সংগ্রহ করো, আগের তার শরীরের খবর জানো।
কামরান ভাই সব সময় মানুষকে মর্যাদা দিয়েছেন, সম্মান দিয়েছেন।
দোয়া করি কামরান ভাইকে আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।
আবদুল বাতিন ফয়সল:সদ্য প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ ফটো জানালিস্ট এসোসিয়েশন,সিলেট বিভাগীয় কমিটি


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেটে অন্তরালে সেই রমণীরা

         ওয়েছ খছরু পর্দার আড়ালে লুকিয়েছেন সিলেটের...

বিয়ানীবাজারে ফয়সল চৌধুরীর গণসংযোগ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট-৬ আসনের...

প্রতিবন্ধিদের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : মেট্টোপলিটন...

বাংলাদেশ ব্যাংকে সিবিএ নেতা এমাদ খানের বিদায় সংবর্ধনা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : বাংলাদেশ...