তার কাছে আমি কোন রিকুয়েস্টে যাইনা

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

আরিফুল হক চৌধুরী: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, আজকের যিনি সংবর্ধিত ব্যক্তি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.), ৭০ বছরে যিনি পা দিয়েছেন, অথচ তিনি একজন তরুণ, যুবক। আজকের সভায় উপস্থিত আছেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জনাব কালাম আজাদ সাহেব, এই মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব এম. এ. করিম চৌধুরীসহ আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ। আরো একজন আছেন, যার বক্তব্যর পরে আর কেউ বক্তব্য দিলে আমার মনে হয় এই অডিয়েন্স গ্রহণ করবে না, তিনি হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যার চেহারা চিনতে কিছুটা অসুবিধে হচ্ছে, সদ্য দাড়ি রেখেছেন, শ্রদ্ধেয় ড. কবির চৌধুরী। মঞ্চে আছেন, আমার আরেক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব যিনি মেয়র পদে আমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রপোজ করেছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান এবং আজকের প্রধান অতিথি সিলেটের বিভাগের আমাদের কয়েকজন ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যিনি তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সচিব, সাবেক রাষ্ট্রদূত, বিশিষ্ট লেখক আমাদের মুরব্বি জনাব মোফাজ্জল করিম এবং আজকের এই অনুষ্ঠানের উপস্থিত সুধীমন্ডলি, আমার ভাই ও বোনেরা আসসালামু আলাইকুম।
আমি আজকে এসেছি আসলে আমাদের বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ানদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্যে। কিভাবে একজন মানুষ তার ব্যক্তিত্ব এবং তার প্রতিভা দিয়ে সমাজে এই পর্যায়ে চলে আসতে পারে তাদের কাছ থেকে আজকে সেইসব কথা শুনবো।
আমি সামান্য কথা বলবো আজকের এই সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) জুবায়ের সিদ্দিকী সম্পর্কে। তিনি আমার দুলাভাই, আমি জানতে চাইব এই মহান ব্যক্তিটি কতটুকু সফলতা অর্জন করেছেন এবং কতটুকু ব্যর্থ হয়েছেন। অবশ্য সেটা বলতে পারবেন আমার বড় বোন, আপা-ই বলতে পারবেন এটা। আমার মনে হয় তার অনুভুতিটা নিলে বুঝতে পারবো তিনি কতটুকুু সফল হয়েছেন। আমার বিশ্বাস সব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে না পারলেও তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। কারন সিলেটে আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে, তার মধ্যে মাত্র কয়েক বছরে ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকী এবং ড. কবির চৌধুরী, তাদের নেতৃত্বে হাফিজ মজুমদার ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলার্সহোম বেশ ভালোই করেছে। স্কলার্স হোমের ছাত্রছাত্রীদের ভাল রেজাল্ট হচ্ছে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে অনেককে দেখেছি নানা প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্সি করেন বা অন্য কিছুতে জড়ান। কিন্তু আমাদের সিলেটে দুই জন দেখলাম একজন জুবায়ের সিদ্দিকী এবং কর্নেল আলী শিক্ষার জন্য তারা বেশ কিছুদিন ধরে সিলেট অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মধ্যে আজকের সংবর্ধিত ব্যক্তিত্ব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকীর প্রশাসন সম্পর্কে আমি খুবই সচেতন। আমাকে অনেকে বলেন, কিন্তু তার কাছে আমি কোন রিকুয়েস্টে যাইনা, কারন আমি তাকে জানি। এজন্যে আমি সবাইকে বলে দিই স্কলার্স সংক্রান্ত কোন বিষয়ে তদবির চলবেনা। কারন উনি যা করেন শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্যেই করেন। সিলেট সরকারি গার্লস স্কুল এবং বয়েজ স্কুলে প্রতিবার এডমিনশনের সময় আসলে আমার কাছে রিকুয়েস্ট আসে ভর্তির জন্যে তদবির করতে। আমি স্ট্রেট বলে দিই, এটা সম্ভব না। এটা হওয়া উচিতও না। এজন্যে এখানে লেখাপড়ার মান ভাল হচ্ছে। আমরা সিলেট মহানগরীর ভেতরে সব কয়টা স্কুল কলেজের জন্যে একটা মনিটরিং সেল গঠন করতে চাচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি সবার কাছে পরামর্শ চাইবো, আমাদেরকে পরামর্শ দেবেন। শিক্ষাবিদদেরকে নিয়ে একটা মনিটরিং সেল গঠন করে এই স্কুলগুলোতে আসলে সত্যিকার ব্যাঙের ছাতার মত শুধু বাড়ি ভাড়া করে করে স্কুল করা হচ্ছে কি না, শিক্ষার গুণগত মান, কোয়ালিফাইড টিচার আছে কিনা, এনভায়রনমেন্ট ঠিক আছে কিনা এইসব দেখার জন্য আমরা একটা মনিটরিং সেল গঠন করব। সেই মনিটরিং সেলে শিক্ষাবিদরা থাকবেন। প্রয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সবার কাছে আমরা সমস্যা তুলে ধরব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে যারা শুধু নাম সর্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করে ব্যবসা করতে চান, এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার কোন প্রয়োজন নেই। যেটাই করবেন ভালভাবে করা উচিত। এজন্য আমি মনে করি সিলেটে শিক্ষার মান রক্ষার জন্যে আমরা একটা মনিটরিং সেল গঠন করব। সেটা করবো শিক্ষাবিদেরকে নিয়ে এবং সেই ব্যাপারে আপনাদের সকলের পরামর্শ চাই। আমি আর বক্তব্য দীর্ঘ করতে চাই না। আমি কিন্তু সকাল থেকে বেরিয়ে আসলেও এই প্রোগ্রামে আসার জন্য আমাকে সাতটায় টাইম দেওয়া হয়েছিলো, এজন্য আমি ঠিক সাতটায় চলে এসেছি। যদিও উনারা আগে থেকে প্রোগ্রাম শুরু করেছেন। আগেই বলেছি, আমি কিন্তু আজকে শুনার জন্য এসেছি। এজন্য অন্য প্রোগ্রামের লোকজনকে আমি বলেছি ডিলে করব। আর আমি ব্রিগেডিয়ার জুবায়ের সিদ্দিকীর দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং এখানে উপস্থিত যত বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ান আছেন তাদেরকেও যেন আল্লাহ্ তায়ালা সুস্থ রাখেন, আমাদের সকলকে যেন দীর্ঘায়ু করেন এবং আমরাও যেন সুস্থ থেকে সমাজের জন্যে কিছু কাজ করতে পারি। আজকের দিনে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চেয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি, আল্লাহ্ হাফিজ।
——————————————————————————————-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকীর ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। অনুলিখন : আকবর হোসেন মোজাহিদ

আরও পড়ুন



সম্পর্কের সম্পাদ্য

খান জাহাঙ্গীর: পরিচিত লোকের সাথে...

‘বীর যোদ্ধা’ ডা. মঈন উদ্দিনকে স্যালুট জানালেন মাশরাফি

:করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে...

সিলেট আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয়ের যাত্রা শুরু

দীর্ঘদিন ধরে কার্যালয় ছাড়া রাজনৈতিক...