তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্টের ক্ষমায় দেশে ফিরলেন সিলেটের ৫জনসহ ৭বাংলাদেশী

প্রকাশিত : 25 November, 2019     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে  
  

মিজানুর রহমান তাজিকিস্তানের কারাগারে ৩ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন ৭ বাংলাদেশি। দেশটিতে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ এবং ‘অন্যায়ভাবে অবস্থানের’ অভিযোগে তাদের ৫ বছরের জেল হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তাজিক প্রেসিডেন্টের সাধারণ ক্ষমা পান তারা। কিন্তু মুক্তি আটকে ছিল নানা ছুতায়। অবশেষে তাজিকিস্তান দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তেহরানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গৌসুল আজম সরকার (অনাবাসী দূত হিসাবে) দুশানবেতে প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমনের কাছে পরিচয়পত্র প্রদানের দিন (গত ২০শে নভেম্বর) ওই বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্তি মিলে। তার জন্য সকাল থেকে বিকাল অবদি দূতাবাস প্রতিনিধিদের দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কারা দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি কারাগার কার্যালয়ে যেতে হয়েছে নব নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে। তাদের কারামুক্তির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় সেদিনই।

পরে ভিকটিমের পরিবারগুলোর সঙ্গে দূতাবাস কর্মকর্তাদের যোগাযোগ এবং পরিবারগুলোর টিকেট অ্যারেঞ্জমেন্টের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শনিবার (২৩ শে নভেম্বর) সন্ধ্যায় তারা ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের ধারণা ওই ৭ বাংলাদেশি ইউরোপে যাওয়ার জন্যে হয়ত তাজিকিস্তান সীমান্ত পাড়ি দিয়েছিলেন। তবে তাদের আর কোন অপরাধ রেকর্ডে ছিল না। ওই বাংলাদেশিরা কোন দেশে যাওয়ার জন্য রুটটি ব্যবহার করেছিলেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলেও দাবি দূতাবাস কর্মকর্তাদের। এদিকে ঢাকায় পাঠানো তেহরানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের রিপোর্ট মতে, মুক্ত বাংলাদেশিদের ৫ জন বৃহত্তর সিলেটের, একজন চাঁদপুরের এবং একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। রিপোর্টে তাদের আটকের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ না থাকলেও মুক্তি সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টি রয়েছে। রিপোর্ট মতে, ৩ বছর আগে জেল হয় ওই ৭ বাংলাদেশির। দেশটির আইন হচ্ছে অবৈধ অনুপ্রবেশ মানেই ৫ বছরের জেল। আদালতের রায়েও তা-ই হয়। বাংলাদেশিরা কারাগারে আছেন এমন তথ্য পাওয়ার পর দূতাবাস তাজিকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে এবং বন্দিদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার জন্য কনস্যুলার অ্যাকসেস চায়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তারা সেটি পান। নির্ধারিত তারিখে তাদের সঙ্গে কথা বলেন দূতাবাস প্রতিনিধি। তাদের সঙ্গে পাসপোর্ট থাকায় নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাইয়ে সময়ক্ষেপন হয়নি। আইনজ্ঞদের পরামর্শে বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটির প্রেসিডেন্ট বরাবর মার্সি পিটিশন বা ক্ষমা প্রার্থনা করে বন্দিদের পক্ষে। প্রেসিডেন্ট তাদের লঘু অপরাধটি ক্ষমা করে দেন এবং মুক্তির নির্দেশনা দেন। কিন্তু পদ্ধতি বা প্রক্রিয়াগত জটিলতায় মুক্তিতে দেরি হচ্ছিলো। বাংলাদেশের অনাবাসী নতুন রাষ্ট্রদূত (তেহরানে আবাসিক) যখন দূশানবেতে প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের তারিখ পান তখন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অ্যাপয়েনমেন্ট চান। ২০ তারিখ প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাওয়ার আগে সকালে তাজিক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূত গৌসুল আজম সরকারে বৈঠক হয় এবং সেখানে বাংলাদেশিদের মুক্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় স্থান পায়। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তখন রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্থ করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাদের মুক্তির চেষ্টা করবেন তিনি। যেভাবে কথা দিয়েছিলেন কাজটি সেভাবেই করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে পরিচয়পত্র পেশের জন্য প্রেসিডেন্ট ভবনের পথে ঠিক তখনই (বৈঠকের এক ঘন্টার মধ্যে) সুসংবাদটি আসে, যে বন্দিদের মুক্তি সংক্রান্ত ফাইলে সই করেছে কারা কতৃপক্ষ। অর্থাৎ ওই দিনেই তারা কারাগার থেকে বের হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রদূত সোজা কারা ফটকে যান। সেখানে কতৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক এবং বন্দি মুক্তির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সুত্র মানবজমিন

আরও পড়ুন



কেমুসাসের ১১তম বইমেলা সফলে র‌্যালি আজ

দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সিলেটের...

অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

সিলেট সদর উপজেলার যুগীরগাঁও গ্রামের...