তরুণ উদ্যোক্তার জীবনের গল্প প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে সাফল্যের দিগন্তে পৌঁছতে চায় সৃষ্টিশীল তরুণ গুলজার

,
প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি, ২০২২     আপডেট : ৪ মাস আগে

 

গোলজার আহমদ হেলাল:নানা প্রতিকুলতা ,সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে সাফল্যের নতুন দিগন্তে পৌঁছতে চায় সৃষ্টিশীল তরুণ গুলজার।সৃজনশীল প্রতিভার অধিকারী তরুণ উদ্যোক্তা গুলজার আহমদ হেলাল একজন স্বপ্নচারী মানুষ।হতে চান একজন সফল উদ্যোক্তা।তরুণ তরুণীদের নিজের পাঁয়ে দাঁড়াবার সাহস ও সাপোর্ট দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনি কাজ করতে চান।এক ঝাঁক মেধাবী প্রাণোচ্ছল প্রাণবন্ত যুবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার এলাকায় ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছেন সেবাধর্মী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল হেরা ডিজিটাল আইটি সেন্টার।তিনি এ প্রতিষ্ঠানের অউনার ও প্রোপাইটার।আল হেরা ডিজিটাল আইটি সেন্টারের সিটিজেন চার্টারের সার্ভিসগুলো প্রকৃতপক্ষে নাগরিক সেবা। লেখাপড়ার পাশাপাশি তরুণদের এরকম নতুন উদ্যমে কো-অপারেটিভ ব্যবসা বাণিজ্য সত্যিই মানুষকে আশান্বিত করে তোলছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ,গুড ইনিসিয়েটিভ। এগুলো আমাদের বইয়ের পাতায় ফেলে আসা কো-অপারেটিভ সপ কিংবা চীন জাপানের কর্মবীর পরিশ্রমী শিশুদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ কালে গুলজার জানায়,সে সাফল্যের অগ্রযাত্রায় জয়ী হতে চায়। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের তৃণমূল জনপদে তার এ প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

গুলজার আহমদ হেলাল।একজন স্বপ্নচারী যুবক।একজন মেধাবী ছাত্র।পড়াশুনা করছেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচারবিভাগে।শিশুকালে মা হারান এবং একটু বেড়ে উঠতেই বাবাকেও হারান।জীবনের লক্ষ্য ছিল চিকিৎসক হয়ে মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করবেন।মা-বাবা হারিয়ে সে স্বপ্নও হারিয়ে যায়।অকুল সাগরে সে হাল ছাড়ে নি।ধীরে ধীরে তরী বেয়ে ঘাটে ফিরছে সে।তার জীবনের সে গল্প খুব ব্যথাতুর, আবার সাহসী মনোভাব নিয়ে আদ্যোপান্ত বলে গেল এ প্রতিবেদকের সাথে।তারই ভাষায় তা পাঠকের সামনে উপস্থাপন করা হলো:

“১৯৯৯সালের ০৫ই জুলাই কোন এক সোমবার আমার জন্ম। নাম গুলজার আহমদ হেলাল। তবে সবাই গুলজার বলেই ডাকে। পিতা- মরহুম ফরিদ উদ্দিন , মাতা- মরহুমা রাবিয়া বেগম। পিতা-মাতার দ্বিতীয় সন্তান আমি । সাত বছর বয়সে আম্মাকে হারাই। যখন আম্মা মারা যান, তখন ‘মারা যাওয়া’ কি তা আমার বোঝার ক্ষমতা নাই।গ্রামে মামার বাড়ি থাকায় আমাকে আম্মার মৃত্যুর খবর মামার বাড়ি পৌঁছাতে বললে, আমি নিজেই মামার বাড়ি আম্মার মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে আসি । আম্মার মৃত্যুর পর আমার আব্বা আমাকে দেখাশুনা করেন এবং আদর যত্নে বড় করে তোলেন । আব্বার আদর যত্ন আমার কপালে বেশিদিন সহ্য হয়নি। আম্মার মৃত্যুর ঠিক পাঁচ বছর পর আব্বা মারা যান। তখন আমার বয়স মাত্র বার বছর । জীবন যুদ্ধ তখন থেকেই শুরু। কেননা তখন আমি ক্লাস সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি । পরের বছর জেডিসি পরীক্ষা ছিল।আশা ছিল ভালো রেজাল্ট করব। কিন্তু আশানুরুপ ভালো রেজাল্ট হয়নি। ৪.৮৮ পেয়ে অষ্টম শ্রেণী সমাপ্ত করি। আব্বার মৃত্যুর পর জীবন অন্য ভাবে মোড় নেয় ।তখন পড়াশোনার খরচ চালাতে আমাকে একজন দলিল লেখক এর সাথে সহকারী হিসাবে কাজে যোগ দিতে হয়। উনার নাম রফিক আহমদ। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারী অফিসে দলিল লেখার কাজ করেন। তিনি পরবর্তীতে আমার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যেতে অনেক সহযোগিতা করেন । উনার সাথে কাজ করার পাশাপাশি আমি পড়ালেখায় মনোযোগ দেই এবং দাখিল পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষায় থাকি ।এবং কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশন ৩ মাস মেয়াদী একটি কোর্স সম্পন্ন করি। পরীক্ষার ফলাফল সময় মতো বের হয়। আমি জৈন্তাপুর উপজেলায় মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পঞ্চম স্থান অর্জন করি। পরবর্তীতে ভালো কলেজে ভর্তির ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটে ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারিনি। তাই বাড়ির পাশেই জৈন্তিয়া ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হই। এইচ এসসি পরীক্ষা উক্ত কলেজ থেকেই, ফলাফলের আগেই ছুটিতে কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ডাটা এন্ট্রিতে ৩ মাস মেয়াদী আর একটি কোর্স সম্পন্ন করি। এদিকে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয় ।আমি জৈন্তা ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করি। এদিকে রেজাল্ট পাওয়ার পর প্রাইভেট কলেজে এল এল বি নিয়ে ভর্তি হওয়ার কথা থাকলেও পরে ভর্তি হতে পারিনি। তাই এমসি কলেজে অনার্স (বিএ ) নিয়ে বাংলায় ভর্তি হই । নিজ থেকে কিছু করার ইচ্ছা জাগে মনে তাই দলিল লেখক এর সহকারীর কাজ ছেড়ে দেই । আমার মনে হয় আমারতো কম্পিউটার জানা আছে। তাই আমি কম্পিউটারের একটি দোকান করি। এর মাধ্যমে আমার জীবনে নিজ থেকে কাজ করা শুরু হয়। আস্তে আস্তে আমার দোকানের প্রচার হতে থাকে এবং ব্যবসাও বাড়তে থাকে। তাই আমি আরও ৩ জন লোক নিয়োগ দেই, যারা সবাই আমার ক্লাসমেট এবং বন্ধু । বর্তমানে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল হেরা ডিজিটাল আইটি সেন্টার অত্যন্ত সুনামের সাথে জৈন্তাপুরের দরবস্তে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। আমি আপনার মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল শুভাকাংখী যারা উক্ত প্রতিষ্ঠানকে সার্বিক সহযোগিতা করে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বর্তমানে আমি আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান করার চিন্তা করছি যা আল-হেরা ফিটনেস এন্ড জিম সেন্টার , আল-হেরা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার এবং আল-হেরা স্পোর্টস গ্যালারী। আশা করি আগামী তিন মাসের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর শুভ সূচনা হবে।ব্যবসার পাশাপাশি বর্তমানে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে এলএলবিতে অধ্যয়নরত আছি। আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে গুলজার আরো জানায়-ভাই,আমি এ জীবনে অনেক কষ্ট করেছি।হয়ত বা আরো কষ্ট করা লাগবে।কিন্তু আমার ইচ্ছা বা স্বপ্ন হলো আমি কাজের মাধ্যমে মানুষকে সেবা দিতে চাই।মানুষের সেবাই আমার পরম ধর্ম হয়ে উঠুক।সেই সাথে আমার কাছে আমি নিজেই অঙ্গীকারাবদ্ধ,তরুণদের কাজের সুযোগ করে আমি দিতে চাই।আমার মতো তরুণেরা শুধু অন্যের চাকুরীর পেছনে ঘুরবে কেন।আমরা উদ্যোক্তা হব,লোকজনদের কর্মসংস্থান করে দেব।এর মাধ্যমেই সমাজ উন্নয়নের বড় একটা গল্প হবে,আমরাও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হব।কেমন চলছে?জানতে চাইলে তিনি বলেন,আলহামদুলিল্লাহ ভাল চলছে।দোয়া করবেন।কি হতে চান? একটাই জবাব,একজন সফল উদ্যোক্তা।শত শত যুবককে কাজে সম্পৃক্ততা করার অদম্য স্পৃহা,বাসনা আর ইচ্ছার কথাই ব্যক্ত করলেন বার বার। মানুষের সেবা করাটাই যেন জীবনের মিশন এটাই খোঁজে পাওয়া গেল প্রতিশ্রুতিশীল ও সদা হাস্যময়ী প্রান্তিক জনপদের এ যুবকের আঁধো আঁধো করে কথা বলা জীবনের খন্ডিত অংশের ব্যথাতুর এ কাহিনীতে।


আরও পড়ুন

সোনার বাংলা সাংষ্কৃতকি পরষিদরে প্রতনিধিি সভা আগামীকাল

 মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিল্পীদের সমন্বয়ে...

উপবন ট্রেনেই মেধাবী ইভার স্বপ্নের মর্মান্তিক সমাধি

 খালেদ আহমদ, আব্দুল্লাহপুর-জালালপুর থেকে ফিরে...

কোয়ারেন্টিন না মেনে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে জেল

 সিলেটএক্সপ্রেস ‍যুক্তরাজ্য ফেরত দুই প্রবাসী...