তরুণীর খন্ডিত মস্তক উদ্ধার মূল হত্যাকারী গ্রেফতার

প্রকাশিত : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধলই চা বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণীর মূল হত্যাকারীকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে তরুণীর খন্ডিত মস্তক ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকা থেকে বের করে দিয়েছে হত্যাকারী। এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হত্যাকারীসহ ৩ জনকে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করেছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল ৪টায় ধলই চা বাগানের ১নং প্ল্যান্টেশন এলাকা থেকে মস্তকবিহীন অবস্থায় বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতীর (২৫) লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছিল। বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতী শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের দেব তাঁতী ও সেতু তাঁতীর কন্যা। সে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর শনিবার সকালে ধলই চা বাগানের প্ল্যান্টেশন এলাকায় মস্তকবিহীন অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় চা শ্রমিকরা। এ দিন বিকালে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ মস্তকবিহীন বৈষ্ণবীর লাশ উদ্ধার করেছিল।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক চম্পক ধাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে এ হত্যাকান্ডের অনেক তথ্য বের হলেও ঘটনার তথ্য সংগ্রহে সন্দেহজনকভাবে ধলই চা বাগানের দয়াল সেতু, রতন, দুদু ও হাসান নামের ৪ জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানুর জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ধলই চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সাধারণ চা শ্রমিকদের সময় বেঁধে দিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে তাদের সহায়তা চান। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে নিহত বৈষ্ণবীর ব্যবহৃত কাপড়ের ব্যাগসহ আরও কিছু সামগ্রী লাশ উদ্ধারের স্থানে ফেলে যায় কে বা কারা। ফেলে যাওয়া কাপড়ের সাথে নিহত বৈষ্ণবীর মুঠোফোনের নম্বরসহ আরও কয়েকটি নম্বর পাওয়া যায়। এগুলো ট্র্যাক করে পুলিশ শমশেরনগর চা বাগানের অধীন দেওছড়া চা বাগানের বাবুল দাসকে (২৪) আটক করে। পরে তাকে সাথে নিয়ে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকা থেকে ধলই চা বাগানের বিক্রম দাসের ছেলে বাবলু দাসকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া বাবলু দাসই বৈষ্ণবী ইরানী তাঁতীর মূল হত্যাকারী বলে পুলিশ ধারণা করছে। সে লাশ উদ্ধারের দিন সকাল ৭টায় বাবার চিকিৎসার নাম করে সিলেট চলে যায়। গ্রেফতার বাবলু দাসের দেওয়া তথ্যে তাকে সাথে নিয়ে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান, পরিদর্শক(তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাস ও তদন্তকারী কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় ধলই চা বাগানের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী নাউকুছি এলাকার নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে তরুণীর খন্ডিত মস্তক উদ্ধার করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক চম্পক ধাম বলেন, বাবলু দাস একাই তরুণী ইরানী বৈষ্ণবীকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করলেও ধারণা করা হচ্ছে এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত আছে। তাই, কমলগঞ্জ থানায় এখন বাবলু দাস,ধলই চা বাগানের বাবুল দাস ও দেওছড়া চা বাগানের অপর এক ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আরিফুর রহমান মূল হত্যাকারীসহ ৩ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তরুণীর খন্ডিত মস্তকও উদ্ধার হয়েছে। এ মামলাটির জোর তদন্তক্রমে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি জানান।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

আজ গ্রাসরুটস এর অন-লাইন পণ্য মেলার উদ্বোধন

         বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের...

সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

         সালেহ আহমদ হৃদয়, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি...

রাজধানীতে ফেঞ্চুগঞ্জের সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার

         রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় একটি...