ড.মঞ্জুশ্রী একাডেমির ২৫ বছর -এম.এ.করিম

,
প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ১ মাস আগে
  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক অনেক দিন আগের কথা-দুই যুগের ও বেশি অর্থাৎ দীর্ঘ ২৫ বছর আগে বিশ^নাথ উপজেলার আকিলপুর গ্রামে একটি একাডেমী প্রতিষ্টা করা হয়। একাডেমীর নাম করন করা হয় আকিলপুরের কথা সাহিত্যিক ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর নামে। যার নাম দেওয়া হয় ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমি। এই একাডেমি যার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল। তিনি হলেন এক যুবক। আমার দুসম্পর্কে এক চাচা। তিনি একদিন সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজার থেকে কাজের জন্য একটি অদ্ভুদ ছেলেকে নিয়ে আসেন। তাঁর নাম সুমন। সাহিত্যিক শিল্পীদের অনেক ভক্ত থাকে তেমনি ড. মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর একজন ভক্ত এই সুমন। নিজ সাহিত্যগুরুর গ্রামে এসেও সমুন জানতে পারেনি যে এটাই তাঁর সাহিত্যগুরুর গ্রাম। হঠাৎ একদিন জানতে পারে এটাই মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর গ্রাম। তখন তিনি দেখা করেন তার গুরুর সাথে। এবং শুরু করেন একের পর এক বিপ্লব গ্রামে। প্রথম তিনি ১৯৯৫ সালের ১ নভেম্বর প্রতিভা পাঠাগারের মাধ্যমে ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমি প্রতিষ্টা করেন। একাডেমির পাশাপাশি তিন প্রচুর লেখা লেখি করতেন। তিনি অনেক ছেলে মেয়েকে প্রাইভেট পড়াতেন। এছাড়া নিজে লেখালেখির পাশা পাশি অন্যদের লেখার জন্য উৎসাহ দিতেন। এভাবে তৈরী করেন অনেক তরুন কবি। ওই সব কবিদের মধ্যে একজন হলেন আমার মা আফিয়া আনজব। আমার মায়ের একটি কবিতাতে আমি পড়েছি যে, “স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে নানা রঙের ছবি, কখনো ভাবি আমি হব পল্লি বাংলার কবি। আজ দীর্ঘ ২৫ বছর পরে আমি বলছি যে, স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমির ছবি। ২০০৭ সালে আমি আমাদের আকিলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হই। আমাদের বিদ্যালয়ের সামনে একটি লাইব্রেরী ছিল । সেখানে অনেক বইপত্র ছিল তবুও ড.মঞ্জুশ্রী একাডেমির জায়গার অভাবে লাইব্রেরীতে আমাদের একাডেমি শিক্ষা দেওয়া হত। এই একাডেমিতে আমাদের শিক্ষা দেওয়া হত ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে। বিটিভির প্রচারিত সিসিমপুর নাটকের বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে আমাদের কাউকেও হালুম চরিত্রে অভিনয়ের দায়িত্ব দেওয়া হত। কাউকে সিকু, কাউকে ইকরী, ও কাউকে টুকটুকি চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে শিক্ষা দেওয়া হত। দ্বিতীয় শ্রেণীতে উঠার পর শিক্ষা দেওয়া হত সত্য কথা বলতে সৎ পথে চলতে। তৃতীয় শ্রেণীতে উঠার পর শিক্ষা দেওয়া হত “মিথ্যা সকল পাপের মূল, মিথ্যা বলা মহাপাপ। ধারাবাহিকভাবে চতুর্থ শ্রেণীতে শিক্ষা দেওয়া হত “সত্য মানুষকে মুক্তি দেয় মিথ্যা মানুষকে ধ্বংস করে। পঞ্চম শ্রেণী আমার ড.মঞ্জুশ্রী একাডেমির শেষ ধাপ এই শ্রেণীতে আমাদের বলা হত সবাই খাতায় লিখ যে, “ আমি সবার সেরা ছাত্র হব”। এই লাইনটি লিখা আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করত। যে যত বেশীবার লিখতাম তাকে পুরস্কার হিসেবে গল্পের বই দেওয়া হত। যাতে আমরা উৎসাহিত হতাম। সময়ের ব্যবধানে বিদায় নিয়ে ভর্তি হই উত্তর বিশ^নাথ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে, সেখান থেকে ফিরে আসি, এখন রাগীব রাবেয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজে অধ্যায়ন করছি। প্রত্যেক উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তিদের পড়ালেখার মূল শিখর হল প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা স্মৃতিময় হয়ে থাকে। আমার জীবনে ড. মঞ্জুশ্রী একাডেমির শিক্ষা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে চিরদিন। সময়ের ব্যবধানে আজ এই একাডেমির কোন প্রাতিষ্ঠানিক ভবন নেই। আজ সুমন বিপ্লব স্যারের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা দেই আমরা চারজন “ আমি, সুমন বিপ্লব স্যার, জাহিদ ভাই, জৈন উদ্দিন ভাই। ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল বেলা পৌছই ঢাকায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর বেলা ৩টায় ড.মঞ্জুশ্রী চৌধুরীর সুযোগ্য উত্তরসুরী ড.অরূপ রতন চৌধুরী এর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেই। অনুষ্ঠানের পূর্বে স্যারের সাথে আলাপ আলোচনা হয়। গ্রাম তাঁর মায়ের স্মৃত বিজরিত সেখানে কোন কিছু করার জন্য তিনি আমাদের আশ^াস দেন। ড.মঞ্জুশ্রী একাডেমির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই লেখাটি সমাপ্ত হয়ে গেল কিন্তু মনের মধ্যে একটি প্রশ্ন জেগে ওঠে যে, ড.মঞ্জুশ্রী একাডেমিকে নিয়ে সুমন বিপ্লব স্যারের স্বপ্ন কি আদৌ বাস্তবায়ন হবে।


  • 16
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16
    Shares

আরও পড়ুন

কেমুসাসের ৯৯৭ তম সাহিত্য আসর আজ

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: কেন্দ্রীয় মুসলিম...

মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার

         সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর...

পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিকল্প নেই

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট-৩ আসনের...

কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’র প্রতিনিধিদল সংবর্ধিত

         সিলেট সফররত ইংল্যান্ডের কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস...