ডাকাতি ছেড়ে দেয়ায় সহযোগীদের হাতে খুন কোম্পানীগঞ্জের শুকুর

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

এক সময় ডাকাতি করতো কোম্পানীগঞ্জের নয়াগাঙ্গ গ্রামের শুকুর আলী। কয়েক বছর হলো সে ডাকাতি ছেড়ে দিয়েছে। ব্যবসা করে ভালোর পথ ধরেছে। নিজের পথে টানা চেষ্টা করেছিল সহযোগী ডাকাতদেরও। ভালো পথে আনতে তাদের পুলিশে ধরিয়েও দিয়েছিল। এ কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল ডাকাত দলের বর্তমান সর্দার হাবিব ও তার সহযোগীরা। পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার কারণে নির্মমভাবে কুপিয়ে তারা খুন করেছে শুকুর আলীকে। এ ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাড়ুয়া তিনতলা বিল্ডিং এলাকায়।

এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এদিকে- ঘটনার পর নিহত শুকুর আলীর স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শুকুর আলী বয়স প্রায় ৩০ বছর। উপজেলার পাথর সমৃদ্ধ এলাকা পাড়ুয়া নয়াগাঙ্গের পাড় তার বাড়ি। তার পিতার নাম ইব্রাহিম আলী। শুকুর আলী এখন পাথর ব্যবসায়ী। আর হাবিবের বাড়িও একই এলাকায়। হাবিবের সঙ্গে আগে ডাকাতি করে বেড়াতো শুকুর আলীও। তার বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় ডাকাতির ঘটনায় একটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। আর হাবিব ডাকাতের বিরুদ্ধে রয়েছে তিনটি ওয়ারেন্ট।

পুলিশ জানিয়েছে- কয়েক বছর আগে শুকুর আলী ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে ভালোর পথ ধরে। সে পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ডাকাতির ছেড়ে দেয়ার পর হাবিব ডাকাতসহ অন্যদের ভালো পথে ফেরানোর চেষ্টা করে পারেনি। তবে- হাবিব ডাকাত সেখানেই ডাকাতির প্রস্তুতি নিতো সেখানে শুকুর আলী প্রশাসন নিয়ে বাধা দিতো। প্রায় ৩ মাস আগে একটি ডাকাতির ঘটনায় শুকুর আলীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কুখ্যাত হাবিব ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি সময়ে হাবিব ডাকাত কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর সে শুকুরকে ক্রমাগত হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল। এতে বিচলিত হয়ে নিহতের স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ১৪ই নভেম্বর কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন। পুলিশ ১৫ই নভেম্বর ডায়েরিটি নথিভুক্ত করে (জিডি নং-৬২০)।

এলাকার লোকজন জানান- বুধবার সকাল ৮টায় বাড়ি থেকে কোয়ারি এলাকায় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন শুকুর। এ সময় হাবিব ডাকাতসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ক্যাডার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শুকুর আলীকে আটকিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা শুকুর আলীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত এবং বল্লম দিয়ে খুঁচিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে মৃত ভেবে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে উল্লাস করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- শুকুর পাথর ব্যবসা করতেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শুকুরের স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাদী হয়ে হাবিবসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।  মানবজমিন স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে | ২৩ নভেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৭

আরও পড়ুন