টিলাগড় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র অযত্ন-অবহেলায় মারা যাচ্ছে একের পর এক প্রাণী

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এনামুল হক রেনু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অযতœ-অবহেলায় সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে একের পর এক দুর্লভ প্রাণী মারা যাচ্ছে। চালুর ১০ মাসের মাথায় সেখান থেকে বিপন্ন হয়ে পড়েছে ২০টি প্রাণীর অস্তিত্ব। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে একটি চিত্রাহরিণ। সম্প্রতি সেখানে আরও ৭টি চিত্রা হরিণ যুক্ত হলেও স্থায়ী কোন চিকিৎসক না থাকায় এদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন প্রাণীপ্রেমীরা।
তবে, সার্বক্ষণিক যানচলাচলে প্রাণীগুলো শব্দ দূষণে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে বলে দাবী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের নভেম্বরে চালুর পর থেকে একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে এখানে। এ পর্যন্ত ২০টি প্রাণী মারা গেছে। এর মধ্যে ৩টি ময়ূর, ৭টি লাভ বার্ড, ২টি বাজিগর পাখি, ১টি অজগর সাপ, ২টি চুকার পেকটিস পাখি, ২টি কালিম পাখি, থাইল্যান্ডের ২টি কৈকাপ মাছ ও ১টি খরগোশ মারা গেছে। পরে আরো কয়েক দফাও প্রাণী আনা হয় এখানে। কিন্তু কি কারণে এসব প্রাণী মারা গেছে-এর কোন সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে, অনেকেরই দাবী অব্যস্থাপনা, পরিকল্পনার অভাব ও দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণেই এসব প্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে খাঁচা তৈরীর অভাবে শুরুতে যে দু’টি হরিণ আনা হয় সেগুলোও খাঁচার ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে একটি হরিণ পাওয়া যায়। এছাড়া বাঘ ও ভাল্লুক রাখার জন্য নির্মিত খাঁচা দু’টি ঐসব প্রাণী রাখার উপযোগী নয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, সম্প্রতি দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে আনা হয়েছে আরও সাতটি চিত্রা হরিণ। যুক্ত হওয়া হরিণগুলোর মধ্যে রয়েছে দুইটি পুরুষ ও পাঁচটি মহিলা প্রজাতির। কিন্তু ওই কেন্দ্রে কোন স্থায়ী চিকিৎসক, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল না থাকায় প্রাণী চিকিৎসা ও এদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটা চিন্তিত সিলেটের প্রাণীপ্রেমীরা।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্বরত বেশ ক’জনের দাবী, বনের ভেতরে অবাধে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রাণী মারা যাচ্ছে। এছাড়া ছোট খাঁচায় আবদ্ধ থাকায় ও এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এসে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারার কারণেও মারা যাচ্ছে প্রাণীগুলো।
তারা জানান, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো গঠন করা হয়েছে শুরুতে এমন অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি গত বছরের ৩০ অক্টোবর যেদিন প্রাণী কেন্দ্রে আনা হয়, ওইদিন খাঁচাগুলোকে পুনরায় সংস্কার করে প্রাণীদের খাঁচায় প্রবেশ করানো হয়। এসব খাঁচায় প্রাণীদের প্রজনন হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে হাসপাতালের সদ্য সাবেক ভেটেরিনারি পরামর্শক ডা. মঞ্জুর কাদের চৌধুরী বলেন, প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান সমস্যা হচ্ছে সেখানে সব সময় অবাধে গাড়ী চলাচল। শব্দ দূষণের কারণে এখানকার প্রাণীরা ঘুমাতে পারে না ; তাই অসুস্থ হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। দ্রত এই কেন্দ্রের ভেতর দিয়ে গাড়ী চলাচল বন্ধ করতে হবে। না হয় এখান থেকে প্রাণীগুলো সরিয়ে বিকল্প জায়গায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাণীদের দেখাশুনার জন্য স্থায়ী চিকিৎসকসহ প্রশিক্ষিত জনবল দরকার। যেটা এখানে নেই। প্রাণীদের এখানে আনার আগেই চিকিৎসকসহ জনবল নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখানে শব্দ, বায়ু দূষণ ও খাঁচায় জায়গা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে প্রাণীদের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এটা ইকোপার্ক নাকি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। এটা যদি পার্ক হয় তবে দর্শনার্থী আসার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এটি যদি শুধুমাত্র বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হয়। তবে এখানে এতো দর্শনার্থী আসার সুযোগ নেই।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম সাজ্জাদ হোসেন’র কাছে প্রাণী মারা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে আমি নতুন। ইতিপূর্বে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে, বনের ভেতর ২৪ ঘন্টাই অবাধে যানবাহন চলাচল করছে এখানে। দর্শনার্থীরাও গাড়ী নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন। এতে শব্দ দূষণের সৃষ্টি হয়ে প্রাণীদের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছি। এখানে দিনে গাড়ী চলাচল বন্ধ করা সম্ভব না হলেও আমরা রাতের বেলা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।
তিনি যান চলাচল রোধে বনের বাইরে বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও স্থায়ী চিকিৎসক নিয়োগসহ জনবল বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে সিলেট নগরীর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত টিলাগড়ের পাহাড়-টিলাবেষ্টিত ও ঘন সবুজে আচ্ছাদিত ১১২ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় ইকোপার্ক। এরপর ২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সভায় সিলেট ইকোপার্কে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত এবং ২০১৩ সালের মে মাসে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। ২০১৬ সালের জুনে ৩০ একর জায়গার উপর নির্মিত ওই প্রকল্পের কাজ শেষে কেন্দ্রটি সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরকে হস্তান্তর করা হয়। পরে এটি চালু নিয়েও দেখা দেয় নানা জটিলতা। তবে, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতে দর্শণার্থীদের জন্য এ কেন্দ্রটি উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। শুরুতে এখানে ঠাঁই পায় ৯ প্রজাতির ৫৮টি প্রাণী। কিন্তু চালু হওয়ার ১০ মাসের মাথায় নানা সমস্যার মুখে পড়েছে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র’টি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

মৌলভীবাজারে ৭ প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তার জরিমানা

11        11Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের...

সিলেট মাল্টি রিজিওনাল ও জোনাল কলার হ্যান্ড ওভার অনুষ্ঠান সম্পন্ন

         রোটারেক্ট আন্তর্জাতিক জেলা-৩২৮২, বাংলাদেশের সিলেট...