জোড়া খুনের এখনো কোন কূল কিনারা হয়নি

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নগরীর মিরাবাজার খারপাড়ায় জোড়া খুনের এখনো কোন কূল কিনারা হয়নি। ক্লু উদ্ধার হয়নি আলোচিত এ হত্যাকান্ডের। তবে লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের সময় মা-ছেলের ছিন্নভিন্ন দেহ দেখে আঁতকে ওঠেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাদের দু’জনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এদিকে, তানিয়া ও লোকন মিয়া নামের দু’জনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তাদের ধারণা এ দু’জনকে পাওয়া গেলেই জট খুলবে আলোচিত এ জোড়া খুনের।

কতোয়ালী থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে কাজের মেয়ে পালিয়ে গেছে। এ কারণে তাদের প্রতি সন্দেহ আরো ঘণীভূত হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা যাবে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ঘটনা না কি অন্য কোন কারণ থাকতে পারে সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অপরদিকে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা নিহত রোকেয়ার মেয়ে রাইসাকে কতোয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে তার খালার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাও প্রদান করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১ এপ্রিল নগরের মীরাবাজারের খারপাড়ার বাসাটি ভাড়া নেন রোকেয়া বেগম। এর এক বছর পর ১ এপ্রিল এই বাসা থেকে ছেলেসহ তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

বাসা ভাড়া নেয়ার সময় তথ্য ফরমে রোকেয়া বেগম (৪০), রবিউল ইসলাম রুকন (১৭) ও জান্নাতুল ফেরদৌস রাইসাসহ (৫) লোকন মিয়া (৩৪) নামে একজনের নাম লেখা হয়। তবে লোকন মিয়ার পরিচয় বা তাদের সঙ্গে কি সম্পর্ক ছিল তার কোনো তথ্য নেই ফরমে। এই লোকন মিয়া কে? না কি ছন্দনামে বাসায় কোন পুরুষ ছিলেন কিনা সে বিষয়টিও সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র।

অন্যদিকে, জীবিত উদ্ধার করা রোকেয়ার মেয়ে রাইসা জানিয়েছে, তার মা ও ভাইকে হত্যা করেছে তানিয়া নামের একজন। কে এই তানিয়া এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে জানা গেছে রোকেয়া বেগমের বাসার কাজের মেয়ের নাম তানিয়া। ঘটনার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।

অপরদিকে, লাশ দুটির ময়নাতদন্তকারী ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে  রোকনকে ছুরিকাঘাতেই হত্যা করা হয়। এ কারণে তাদের দু’জনের শরীরে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া  গেছে। রোকেয়া বেগমের শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৭০টি আঘাত রয়েছে এবং রুকনের শরীরে রয়েছে অন্ততঃ ৪০টি আঘাত। নৃশংসভাবে দুজনকে কোপায় দুর্বত্তরা।

গত রোববার সকালে সিলেট নগরীর মিরাবাজার খারপাড়া (বাসা নম্বর ১৫ জে) থেকে পার্লার ব্যবসায়ী রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে এসএসসি ফলপ্রার্থী রবিউল ইসলাম রোকনের (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার সকালে নিহত মহিলার ভাই জাকির হোসেন বোনের খোঁজ নিতে এসে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বিষয়টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিনার খান হাসু ও পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে বাসা খুলে ভেতরে মা-ছেলের লাশ দেখতে পায়। এ সময় শিশু রাইসাকে উদ্ধার করা হয়। রাইসা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সাংবাদিক মখলিছ মিয়া সিএনএন বাংলা টিভির বানিয়াচং উপজেলা প্রতিনিধি নিযুক্ত

319        319Sharesস্টাফ রিপোর্টার ।। বানিয়াচংয়ের সিনিয়র...

বড়লেখায় প্রথম ভার্চুুয়াল আদালত জামিন শুনানি : ৪ আসামীর জামিন

         মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ মৌলভীবাজারের বড়লেখা...

সিলেটে আটাব নির্বাচনে জয়ী হলেন যারা

         অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব...

সরস ও সহজ গদ্যের বই ‘সুরমা পাড়ের ব্যাংকিং’

         ইফতেখার শামীম- মো. নূরুজ্জামান এর...