জেগেছে বাংলাদেশ,জাগতে হবে আমাকেও

,
প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২১     আপডেট : ২ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আনোয়ার হোসেন মিছবাহ্ :
বীরের জাতি হিসেবে আমরা সুনামের মানুষ।আবেগের জাতি হিসেবেও আমাদের জগৎ জুড়া সুনাম।আমরা মাত্র নয়মাসের যুদ্ধে যেমন স্বাধীন হতে পারি।তেমনি লক্ষ লক্ষ ভীনদেশি দেশ বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের তুমুল আবেগে মানচিত্রে স্থান দিতে পারি!রোহিঙ্গারা তাদের দেশ মায়ানমারে কী করেছিলো বা না করেছিলো তা দেখার বিষয় না হলেও আমাদের কাছে একটি ঘৃণার বক্তব্য ই বলে দিয়েছিলো ARSA দমনের নামে কিছু একটা হচ্ছে।২০১১ সালে মায়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে যে দিন সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্নাইং দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেদিনই বলেছিলেন-“আমাদের একটি অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।” যার বাস্তবায়ন ২০১৬ খ্রিস্টাব্দেই আমরা দেখতে
পেয়েছি রাখাইন পাহাড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী উচ্ছেদ অভিযানের নামে এক ধাক্কায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশে।আর আমরা মানবতায় মানবিক মানুষ হয়ে আশ্রয় দিতে থাকলাম বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের যন্ত্রণা।যে যন্ত্রণা র ইতিউতি পাচ্ছি নানা বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। এমন কি যারা রোহিঙ্গা আশ্রয়ে ওকালতি করেছিলো তারাও ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ।আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে মায়ানমারের শাসক শ্রেণি বলতে সাহস পাচ্ছে-
রোহিঙ্গারা আদি বাংলাদেশী!
এতো কিছুর পরও আমরা ঘাবড়ে যাওয়া জাতি নয়,আমরা যেমন মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অব বাংলাদেশ বা এমডিজি কে বগলদাবা করে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল এসডিজি কে চ্যালেঞ্চ করে নিতে পারি। যা ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ‘ দ্য লিমিট টু গ্রোথ ‘ প্রতিবেদনটি বৈশ্বিক চিন্তাবিদদের মধ্যে এগিয়ে দেয়।এবং ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘আওয়ার কমন ফিউচার প্রতিবেদনের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের ধারনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।তাতেই আমরা জাতিসংঘের দেওয়া লক্ষ্যমাত্রায় পড়ি।আমাদের কে ২০০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ৮টি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।যাকে সংক্ষেপে এমটিজি বলা হয়।স্বল্পোন্নত দেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে ১২৪২ মার্কিন ডলার মানব সম্পদের উন্নয়ন ও ৩২ ভাগের নিচে থাকা অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা।তা ও বাংলাদেশ অতিক্রম করে গেছে। বাকি চ্যালেঞ্জ ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৭ সেপ্টেম্বর ১৯০ টি দেশ থেকে আসা বিশ্বনেতারা তৈরি করে গেলেন আরো ১৬৯ টি লক্ষ্যমাত্রা এবং ৩০৪ টির মতো সূচক।তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করে গেলেন১৭টি।সময়-২০১৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০৩০ খ্রিস্টাব্দ। আর এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হবে নির্ধারিত লক্ষ্য।
তাতেও এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।গত ৫০ বছরের ধ্বংশ থেকে ওঠে এসে ২০২১ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ৩০০ থেকে ওঠে এসে ২ হাজার ২২৭ ডলারে।দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা যেখানে মধ্য ৯০ এর দশকে ছিলো ৫৮ শতাংশ ছিলো সেখানে ২০২১ খ্রিস্টাব্দে এসে আমরা দেখতে পাই-২১ শতাংশ।খ্যাতনামা সংবাদ প্রতিষ্ঠান ‘ব্লুমবার্গের
‘প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সময়ে প্রতিবছর বিশ্বের অন্য দেশের রপ্তানি বৃদ্ধির পরিমাণ ছিলো শূণ্য দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের ৮ দশমিক ৬ শতাংশ।এর বড়ো অংশই আসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি ও বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে।করোনা অতিমারির সময়ের মধ্যেও ভারত ও পাকিস্তান থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ঋণের জিডিপির ৪০ শতাংশ হবে ভারত ও পাকিস্তান।বয়স্ক স্বাক্ষরতার কথাই ধরা যাক,৯০এর দশকে যেখানে ৩৫ শতাংশ ছিলো সেখান থেকে এখন ৭৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।শিশু মৃত্যুর হার হাজারে ১০০ থেকে কমে ২১ শে গেছে।আর্থসামাজিক উন্নয়নে পাকিস্তানে গড় আয়ু ৬৭ বছর। ভারতে ৭০ বছর।আর আমরা?৭৩ বছর।করোনা অতিমারিতে আমাদের সুযোগ্য পররাষ্ট্রনীতিতে পৃথিবীর অনেক দেশের পূর্বেই আমরা করোনা ভ্যাকসিন বাহুতে নিয়ে নিতে পেরেছি।বাংলাদেশী মসলার অতিগুণে হয়তো অনেকেই করোনাকে পাশে ঘেঁষতে দেয়নি।(যদিও করোনায় পিতাকে হারাতে হয়েছিলো!)এ আমাদের অর্জন। এ আমাদের লাল সবুজের সাধুবাদ! বঙ্গবন্ধু কন্যার যোগ্য নেতৃত্বের শুভ ফল।
আমরা বাংলাদেশে বাস করি।আমাদের বিনিময় মুদ্রা টাকা।দেশের আঞ্চলিক মুদ্রা বিনিময়ে আমাদের দেশে টাকার প্রয়োজন হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার,পাউন্ড,ইউরো ই ভরসা হয়ে ওঠে।আমাদের পণ্য চাহিদা থেকে শুরু করে যাবতীয় চাহিদার বিনিময় জোগানে আমরা ডলারকে বেছে নিই।আমরা ডলারে আমদানি করি।ডলারে রপ্তানি করি।ডলারে রিজার্ভ করি।আবার দেশের ভেতর টাকায় রোজগার করি।টাকায় ট্যাক্স দিই।টাকায় কিনি।টাকায় বিক্রি করি।কিন্তু ডলারের ভুত মাথা থেকে নামে না।সারাদিন বড়ো বড়ো আমদানিকারক,রপ্তানিকারকের ডেরায় ডলার ডলার করে থাকি।শুধু বুঝি না আমাদের দেশের ৮৭ টাকায় বিদেশি ডলার।বিদেশিরা এক ডলারে যা কিনতে পারে,
আমরা পারি না।আর পারি না বলেই আমাদের গার্মেন্টস শিল্প,রপ্তানি শিল্প জনপ্রিয়। ওরা সুঁতা দেয়,বোতাম দেয়,কাপড় দেয়,জিপার দেয়।আমরা
খেটে খাওয়া অজপাড়া গ্রাম থেকে সস্তায় শ্রমিক জোগাড় করি।শ্রম দিই।শিল্প গড়ে ওঠে।কাড়ি কাড়ি ডলার আসে।আমাদের দেশ থেকে অ মেধাবির সাথে মেধাবিও পাচার হয়।তারা ভিন দেশে কামাই করে রেমিটেন্স পাঠায়।আমাদের রিজার্ভ বাড়ে আমরা খুশি হই।লোভ বাড়ে।আমরা আরও মেধাবি পাচার করি।বুয়েট,চুয়েট,রুয়েট,সাস্ট কোনটাকেই আমলে নিই না!একসময় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমরা জাহাজ
বানাতাম।বিদেশিরা চায়ের বাগান করে দিতো।আমরা চায়ের পাতা তুলে আটা,চিনি রেশনের বিনিময়ে শ্রম কিনে বিদেশিদের চা পাঠাতাম।সারাদিন কাদামাটি মেখে পাট উৎপাদন করে থলে,ব্যাগে,দড়ি দিয়ে
বিদেশির বাজার ভরাতাম।নীল চাষ করে পাউডার পাউডার নীল তুলে দিতাম বিদেশির হাতে হাতে।বাজারে।মসলিন শাড়ি,জামদানী,বেনারসি শাড়িও বিদেশির পাওনা চাহিদা ধরে নিতাম।তখন আমাদের দেশ দরিদ্র ছিলো।বিদেশিরা ই বলতো,তলাবিহীন
ঝুঁড়ির দেশ।সচেতনতার অভাবে,অ প্রেমি দেশীয় কাঁচা
রাজনীতির নালিশে কিংবা একটিমাত্র বাঁধের অভাবে বন্যায় সয়লাব হয়ে যেতো স্বদেশ।তাঁরা বলতো,বন্যার
দেশ।প্রাকৃতিক সম্পদে হঠাৎ বদলে যাওয়া আরবীয়রা বলতো,মিসকিনের দেশ!আজ আর সে দিন নেই।স্বাধীনতার ৫০ বছরের কালে আমরা এমটিজি জয় করে এসটিজি জয় করেছি।২০২৪ খ্রিস্টাব্দে নতুন রূপে,নব সূর্যে স্বদেশকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।যে দেশ থেকে স্বাধীনতা কেড়ে এনেছি।সে দেশের মুদ্রা টাকার মান থেকে কমে গেছে।ব্রিটেনের অর্থনৈতিক গবেষনা সংস্থা সিইবিআর পূর্বাভাসে এরই মধ্যে বলে দিয়েছে ২০৩৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই আমরা হবো বিশ্বের বড়ো অর্থনৈতিক দেশ।২০২০ থেকে ২০৩৫ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক সূচকে ও উন্নতি বাড়াবে বাংলাদেশের।আমাদের শিল্প,কৃষিখাত উন্নতির দিকে আগুয়ান। বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখতে এখন চোখ ভাড়া করছে অনেকেই।বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁদের সংসদে বার বার উচ্চারিত হচ্ছে আফসোসের ধ্বণি।
পৃথিবীর অনেক দেশে মোবাইল নেই।কিন্তু আমাদের দেশে ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দেই এর আগমন ঘটে।এখনকার প্রজন্ম জিএসএম ও ডিসিএমএ চিনে না।আমাদের দেশে টু জি মানের সার্ভিস হলেও ফাইভ জি আসছে।ইন্টারনেট গতিতে অনেক অনেক পিছিয়ে পড়ে গেলেও আমরা গতির মাপজোক জানি।ভিনদেশী কোম্পানির কাছে অ কথা,কু কথা,তাল কথা,দরকারি,
অ দরকারি সেকেন্ড-মিনিট-ঘন্টায় বিক্রি করি ভিনদেশি অপারেটরদের ফাঁদে বার বার পড়ে নিজের গায়ের টাকায় ইন্টারনেট বান্ডিল কিনে ঠকতে থাকি।তারপর ভিনদেশি মোবাইল অপারেটরের অযাচিত মেয়াদে পড়ে হলেওআমাদের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক ফাইভ জি নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে।আমরা এখন ফাইবার অপটিক বুঝি,গিগাবাইট,ট্যারাবাইট,
এমবি,ডিভাইস,হার্ডওয়ার,সফটওয়্যার,রেম,রোম বুঝি।
বিশ্বব্যাংক,জাইকা ফিরে গিয়ে বরং আমাদের সাহস যুগিয়েছে।আমরা আমাদের টাকায় পদ্মাসেতু গড়ে দেখিয়ে দিয়েছি জনগনের থেকে এক টাকা এক টাকা জমানো টাকায় আমরাও মহাসেতু গড়ে তুলতে পারি।আগামিতে আরও করবো।উদ্বোধনের অপেক্ষায় পদ্মাসেতু।টিভির পর্দায় শুধু মেট্রােরেল দেখেছি বাস্তবে প্রস্তুত বাংলাদেশ। মেট্রোরেলের ট্রায়াল শেষ।আর মাত্র ক’টা দিন বাকি-আধুনিক মেট্রোরেল চলবে।কম দূরত্বের পথ আকাশ ও পাতাল, তাই আমরা দুইপথের ভাবনায়,মশগুল!আমরা তবে দুই পথের ইঞ্জিন যান নামাবো।পাতালে রেল,আকাশে প্লেন।খেয়াগামি কপ্টার।বঙ্গোপসাগরের জলমিতালির শুভমিতা কর্ণফুলী পলিতে পলিতে জলভুমি সয়লাব করে দেয় বলে সেতু নির্মানে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে আমরা বিকল্প পন্থা বেছে নিয়েছি।চীনের কারিগরি সহায়তায় নদীর নিচ দিয়ে আসা যাওয়ার পথ ট্যানেল নির্মান শেষ হলো মাত্র।এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। বাংলাদেশ সময় ১২ মে ২০১৮খ্রিস্টাব্দে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শূন্যে উঠে গেছে,দেশের প্রথম ভূ স্থির যোগাযোগের সম্প্রচার উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।সে এখন শূন্যে সজাগ পাহারায়।বিশ্বের ৫৭ নম্বর তালিকায় বাংলাদেশের নাম।আমরা কৃষিতে এনেছি প্রাণজস্পন্দন।আমিষে কুড়িয়েছি বাহ বা।আমাদের দেশে তৈরি ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, উৎপাদিত গাড়ি,দেশে তৈরি ব্র্যান্ড মোবাইল কিনতে আসছে বিদেশি।আমরা সাগর পারের জমি বাঁধ দিয়ে যেমন সাগরের নুন নিতে পারি তেমনি সাগর দিয়ে ডেকে আনতে পারি সাগরের জাহাজ সারি সারি।একদিন সাগরের নুন পানি আর নদীর মিঠা পানি বিশুদ্ধ ও প্রক্রিয়াজাত করে এক টাকায় হলেও বিদেশিদের হাতে হাতে জলের বোতল তুলে দেওয়ার আশা রাখি।প্রকৃতির ভালোবাসার দান শুধু ঘাট নিলামের ব্যয় ছাড়া শূন্য উৎপাদনের ইলিশ আরো ধরে দাদন খেকোদের দাগ দূর করে দেশিদের খাইয়ে বিদেশে রপ্তানি করার আশাও ছাড়ি না।সরকারি সুবিধা নিয়ে সস্তায় কাঁচামাল কিনে ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশ মইয়ের ধাপে ধাপে আগুয়ান।তবে দেশের বাজারে কম খরচের মোড়কের ওষুধ বাজারে ছেড়ে উন্নত মোড়কে দামি ওষুধ রপ্তানির পরিকল্পনাও নেবো বলে আশা ছাড়ি না।অন্ন,বস্ত্র,শিক্ষা,চিকিৎসা,বাসস্থান তাও একদিন আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র কাঁধে তুলে নেবে।আশাকে নাগালে নিতে পারি।এখন আমরা নির্মাণে উৎপাদনে-
রপ্তানিতে সেরা দখলে যাচ্ছি।কিন্তু স্বদেশের বায়ু হাওয়ায় প্রশাসনিক গতি দূর্গতির চরমে যাচ্ছে।দেশপ্রেম দিন কে দিন তলানিতে যাচ্ছে! ৫০০০ টাকা বেতনের কর্মচারী ৫০০০ কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে।ঘুষ আর ক্ষমতার বাজারে চলছে দারুণ সুদিন।সমাজের অগ্রহনযোগ্য অ পড়ুয়া কিছু মানুষ কিংবা পরিবারের জন্য বহু দিবসের সৌখিনি বেকার কিছু করতে না পেরে জমি-জমা বা গোয়ালের গরু,খেতের ফসল,
বিলের মাছ এমন কি বসত ঘরের টিন বিক্রি করে হলেও নমিনেশন পেতে চায়।কারণ কিছু কিছু মানহীন মানুষ,মানি চায়।মান চায়।ক্ষমতা চায়।গোয়ালের গরু,
খেতের ফসল,বিলের মাছ অথবা ঘরের টিম ফেরত চায়!তাই রাতের আঁধারে ফুটপাত,বুটপাত,বাজারের
মাজারের স্যাডো,ছাপড়া কলোনি,সবজিওয়ালা,
ডিমওয়ালা,ভিক্ষুকের ডেরায় ডেরায় টাকা বিলিয়ে
ক্ষমতা নিচ্ছে।আবার সে টাকা উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার থেকে কমিশন,রডের বদলে বাঁশ ভরে উন্নয়নের তদারকির নামে নিজের ভাগ নিচ্ছে।নাগালের জমি জমা কেড়ে ক্ষমতার দাপটে নেতা হয়ে ওঠছে। সময়ে সময়ে ধপাস ধপাস পড়ে গিয়ে ক্ষমতা পাল্টিয়ে দলবদলের মহড়া দিচ্ছে।টাকার গরমে পরিবার তথা সমাজে অগ্রহণযোগ্য মানুষ নানান পদের হাইব্রিড ক্ষমতা নিয়ে ধরা কে সরাজ্ঞানে মশগুল।ক্ষমতা কিনে ক্ষমতার দাপটে তোলপাড় করে দিচ্ছে যেনো সব!মানুষের জীবন কিংবা সম্পদ কেড়ে নেওয়া মামুলি হয়ে গেছে।প্রতারণা পথের ব্যাপার থাকলে ও এখন ঘরে ঘরে দোলনাতে দোলায়মান।হিংসায় নতজানু সংস্কৃতির
ময়দান।নানাবাদি আগ্রাসি আঁতেল হালে পানি না পেলেও লেজ নেড়ে শিকারের প্রলোভনে নিজেকে বিকোয়।ইউটিউব,ফেইসবুক,শীতরাত্রির মাঠ,ভীরু
মানুষের পকেটের চাদায় গাছে তোলা রাতের মাইক নানা কুচালনের দিকে ধাবমান।দেশ বিরোধী, আইনবিরোধী,সমাজবিরোধী ষড়যন্ত্র,হিংসা,ছড়ানোর
প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।দেশে হেগে বিদেশে পাছা ধোঁয়ায় আগুয়ান।সামাজিক,পারিবারিক,ধর্মীয় সম্পর্ক মারমুখি।ঘুষ-টেবিলের নিচ থেকে কন্ট্রাকে এসে গেছে।
ঘুষের কর্মকর্তা-কর্মচারী গতিহীন করে তুলছে অফিস আদালত আমদানি-রপ্তানি বাজার,শেয়ারবাজার
সিন্ডিকেড বাহিনীর করায়ত্বে।দাম বাড়িয়ে।দাম কমিয়ে এরাই পকেটের রাজত্বে মহিয়ান।অলি গলি,হাটে ঘাটে, ফুটপাতে গজিয়ে ওঠা অনুমিত অন অনুমিত ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের হাতে জিম্মি চিকিৎসা খাত।ওষুধ কোম্পানির গিফট বাণিজ্যে আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর হিমাচল চেম্বারে বসে টেস্ট বাণিজ্যের লোভে গোনা সংখ্যক ডাক্তারের জিহবা লকলকে।জেনেরিক নামে নয়,মেডিসিন
কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভের ছায়া প্রেসকিপশনে!
চলছে অসাধু চেম্বার।বেঁচে থাকার ওষুধের দাম,ওষুধ, সার্জিক্যাল আইটেম নাগালের বাইরে।বেঁচে থাকার জন্য সার্জারি,বাইপাস,এনজিওগ্রাম,কার্ডিয়াক রিং,
ভাস্কুলার রিং,ক্যানোলা,সুঁই,সুতো,স্যালাইন,ব্যান্ডেজ,
ইসিজি,সিটিস্ক্যান,এমআরআই,প্যাথলজি পরীক্ষা ইত্যাদি ডায়াগনস্টিক সেন্টারাধীন!জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত সরকারি হাসপাতালে দূর্ণীতি,দালালি,সিট বাণিজ্য,ওষুধ বাণিজ্য প্রকাশ্যে হলেও কেউ নত নয় অপরাধে! নেতার ফুডপয়েজনিং হলেও হঠাৎ টাকায় বিদেশ ঘুরে আসেন। দেশের হাসপাতালে নেতারাই আস্থাহীন। তারা জানেন চিকিৎসার অভাবে বা তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণি বা ঝাড়ুদার বা ক্লিণারের দূর্বেবহারে অসহায় হয়ে পড়তে পারেন হাসপাতালে! ক্লিনিক ডিউটিতে গোনা ডাক্তার ব্যস্ত থাকায় চিকিৎসা বঞ্চিত ঝুটতে পারে কপালে! শাকসবজি,মাছে,ভাতে,
কসমেটিকসে বিষ,পুকুরে বিষ।জমিতে বিষ।মোরগে বিষ,মাংশে বিষ।মিষ্টি তে বিষ,মাংশে বিষ,ডিমে বিষ চালে বিষ,ডালে বিষ,তেলে বিষ মিশিয়ে জবুতবু স্বদেশ।ভূমি অফিস।বিআরটিএ অফিস থেকে শুরু করে অফিসগুলো দূর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে। দিনে দিনে ফুরিয়ে আসছে সাধু মানুষের দিন।মানবিক মানুষের কর্তব্য।এগুলো দেখেও দেখছে না মানুষ।কারণ জেনেশুনে ঝামেলা নিতে চায় না।দেখলে মুখ খুলতে হয়।ইদানিং মুখ খুললে ভয়,পাছে স্বাক্ষী দিতে হয়!স্বাক্ষী দিলে জান খোয়ানোর ভয়।আবার স্বাক্ষী ছাড়া বিচারও গতিহীন।এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুক্তি পাচ্ছে অপরাধী!বাড়ছে অপরাধ।নানাপ্রকার মাদকে কাতর যুব সমাজ।কিশোর সমাজ।হাত বাড়ালেই পাচ্ছে এসব।পারিবারিক শিক্ষা ও শাসন বঞ্চিত কিশোর গ্যাং নামে নতুন বিষফোঁড়া যুক্ত হয়েছে দেশে।এদের অপরাধের সাজা কম থাকায় এদেরকেই কাজে লাগিয়ে ফায়দা লুটছে কিছু দুষ্কৃতকারী।এদের কাজে লাগানোর জন্য সামাজিক উদ্যোগ নেই।গ্রাম্য শালিশ নেই।খেলার মাঠ নেই।পুকুর নেই।মেলা নেই।খেলা নেই।পাঠাগার নেই।সস্তায় বই নেই।নানা কোম্পানির দখলে দৈনিক,
সাপ্তাহিক,মাসিক।কমার্শিয়াল পাতায় ঢেকে যাচ্ছে শিক্ষা,সংস্কৃতি,সাহিত্য বাচ্চাদের পাতা।নায়ক নায়িকার স্থুল নিউজ দিয়ে পত্রিকা সাজালেও বাচ্চাদের জন্য ভাবনাহীন সম্পাদক মহোদয় গন।দিন দিন তাঁদের কাগজ থেকে ওঠে যাচ্ছে-শিক্ষা,সাহিত্য,সংস্কৃতি, বিজ্ঞান।আবিস্কারের খবর।এগিয়ে যাওয়ার খবর।দুখিনীর ঘরের চুলোর খবর!একই খবর বার বার
কপচানোর বোবাবাক্সও বিনোদনহীন। শিক্ষা,সংস্কৃতি উড়ু উড়ু।সিনে দুপুরের ছবি নিয়ে বসলে সিনে রাত হয়ে যায়।ইন্ডিয়ান চ্যানেলের সিনে শেষ হয়-আমাদের হয় না। আমাদের উৎসব এলে এদের বাড় যেনো আরও বেড়ে যায়।পুরাতন লেবু কচলাতে কচলাতে যেনো আরও তেঁতো করে ফেলে।আমাদের পাড়াগুলোয় বিভিন্ন সামাজিক ক্লাব সংগঠনও কেমন জানি রাজনীতি গন্ধী হয়ে গেছে আজকাল।পাড়ার ছোট্র ক্লাবেও দলাদলি।গ্রাম্য অনেক শালিস বাদি বিবাদির অর্ধেক অর্ধেক জমা টাকায় চলে!মুখ দেখে মশুরের ডাল মার্কা শালিস এখন ক্ষমতাহীন।কোথাও এখন অরাজনৈতিকের সীট খালি নেই।
তবুও এদেশের মানুষ আবেগি।মমতায় টইটম্বুর এদের আকুল ব্যাকুল হৃদয়।এরা এখনও শিশিরে পা ভেজায়।ফুলের তোড়ায় হাত বোলায়।সভা সমাবেশ এখনও ফুলের সৌরভে সাজায়।জলের টানে জলকেলিতে যায়।ছাদের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে চাঁদের হেলান দেখতে বসে।বসে বসে দূরের তারায় ভিজে ভিজে ওঠে। বাম বাহুতে বউ বা প্রেয়সি নিয়ে গেয়ে ওঠে-
“আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে/বসন্তের এই মাতাল সমীরণে”…
গায়-
“মোর প্রিয়া হবে এসো রানি/দেব খোঁপায় তারার ফুল”…সুযোগ পেলে বনে বনে কোকিলের কুহু শুনে।পশু পোষে।পাখি পালে।টাকায় কিনে বাঁশরিয়া সুর।ধানের আলে আলে দেখে বক শালিকের মায়াবি জোড়।কারো ঘরে আগুন লাগলে এরাই নেভায়।দেশের দূর্যোগে এরাই পথে নেমে সাড়া যোগায়।মুসলিম মানুষ হিন্দুর গায়ে রক্ত দেয়।হিন্দু মানুষ মুসলিম কে রক্ত দেয়।বহুতলে আগুন লাগলে ধর্ম দেখে না,মানুষ দেখে নিরাপদে নামায়।উৎসবে মাতে। উৎসবে বাম বুকের বিট মিলায়-ধুক ধুক!ধুক ধুক!মানুষের কাতর ডাকে এরাই সাড়া দেয়।এখনও শব নিয়ে কবরে যায়।শ্মশানে যায়।ঘুম থেকে জেগে সামনে যাকে পায় তাকেই জিজ্ঞেস করে-কেমন আছেন?উত্তরে কেউ কখনও বলে না-না রে ভাই,ভালাে নেই।
এ জন্য ই আমরা আশায় বুক বাঁধি নিরাশাকে হত্যা করে চোখ খোলা রাখি।যেমন করে ডি.জি.রসেটি বলেন-
“জীবন সংক্ষিপ্ত, সময় দ্রুত চলে যায়,ফুলও একদিন
বিবর্ণ হয়,তবে সবচেয়ে আশার কথা ছায়া যতো গভীর হোক না,তা সহজেই অপসারিত হবে।”আমরা বিশ্বাস করতে চাই টমাস হুগস এর কথা-“প্রতিদিনের সূর্যালোকের সঙ্গে সঙ্গে নূতন নূতন আশার জন্ম হয়।”
লম্বা টানেলের ওপারে আলোর দেখা মিলে।হতাশ বুকে শ্বাস বাড়ায়।আর আশার বুকে সিঁড়ি বায়।
বয়সের ক্ষয়ে যাওয়া দিনে দিনে আমরা দেখেছি-
লাইনের অভাবে যেমন রেল চলে না।শুকনো নদীতে যেমন নৌকা চলে না।গ্যাস-ফুয়েলের অভাবে যেমন ইঞ্জিন চলে না। শিক্ষা-দীক্ষা প্রযুক্তি,দেশপ্রেমের অভাবে যেমন রাষ্ট্র বা সমাজ চলে না। তেমনি সঠিক
দিকদর্শী র অভাবে সমাজ,সংসার,দেশ,রাষ্ট্র,বাজার,
প্রতিষ্ঠান কিছুই চলে না।এ জন্যই চিন্তায় গতিশীলতা দরকার।দরকার সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নির্লোভ,
নির্ভেজাল নজরদারি।কেমন আছে পাশের লোক।পাশের বাড়ি।পাশের গ্রাম।পাশের জন।আমার শহর।অন্য শহর।আমার জেলা।অন্য জেলা।আমার দেশ।অন্য দেশ।সুখের ভাগিদার,দুঃখের সমজদার,আগের
দিনের মতো জরুরি।ব্যবসায়ির ব্যবসা বড়ো কতো।ব্যবসায়ির আয় কতো।ব্যয় কতো।বড়কর্তার আয় কতো।ব্যয় কেমন।কর্মকর্তা-কর্রচারীর বেতন কতো। গাড়ির দাম,বাড়ির দাম কতো।শ্রমিকের গামছার ঘাম কতো লিটার।ব্যয় কতো টাকার।প্রবাসীর বাক্সবন্দি হাসিখুশির রেমিটেন্সে অস্থির বাজারে স্বস্তি কতোটুকু।আড়তের দাম আর মাঠের পণ্য দাম কেমন।কতোদূর?ব্যবসা কিংবা চাকরির শুরুর আগের হিসাবের সাথে পরের হিসাবের মিল অমিল কতোটুকু?ফারাক কতোদূর?জনপ্রতিনিধি হওয়ার পূর্বে প্রার্থীর সম্পদ কতোটুকু।পরে কতোটুকু।বউ,স্বামী বা পরিজনের সম্পদ হঠাৎ বেড়ে গেলো কি না।এলাকায় বা গ্রামে ব্যক্তির গ্রহনযোগ্যতা কতোটুকু বা আদৌ আছে কি না।জান,মাল বা পরিবারের নিরাপত্তা কতোটুকু। ঘুম
ভাঙলে ইহকাল নতুবা পরকালের নিশ্চয়তা কতোটুকু।এগুলো নাগরিকের জীবন নিংড়ানো ফুসফুসে জমে থাকা ভারি বাতাস টানা প্রশ্ন।বাতরুমে বসে নিরব কান্নার ধ্বণি।বালিশের সাথে সুনসান আলাপন।
আমরা জানি সময়ে সময়ে সময়কে নিয়ে বদলাতে হয়।এটি সময়ের চাহিদা।প্রজন্মের চাওয়া।তাই বলে স্বদেশ,সমাজ,পরিবার,পরিজন,পিতা-মাতা, মালিক,কর্মচারি,সমাজ,সংস্কৃতি,আইন,ফাইন,বিধিবিধান,সংবিধান,অস্বীকার করে নয়।আমাদের পূর্ববর্তী বংশধর উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ তাড়িয়েছে।১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে স্নায়বিক সংগ্রাম করে ১৯৫২ হয়ে ১৯৭১ এ আমরা পাকিস্তান নামক লেবাসি দেশকে ও পরাভূত করে লাল সবুজের বাংলাদেশ এনেছি।আমাদের যুদ্ধের নাম ছিলো মুক্তিযুদ্ধ।কারন আমরা ৭ কোটি মানুষ চেয়েছিলাম মুক্তি।মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনাপত্রে মানুষের মর্যাদা,নাগরিক অধিকার,বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গিকার ছিলো আমাদের প্রধানতম শক্তির উৎস।গনতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের জন্য ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের সুসহনীয় অসাম্প্রদায়িক সংবিধান দিয়েছি।যদিও প্রানের সংবিধানে কাটাছেঁড়ার দাগ বসেছে বহুবার।তবুও দেশের সংবিধান পুরাতনে ফিরে যাবে এ আশা থেকে আশাহীন হতে পারি না।৭ কোটি মানুষের সুখদ তপস্যার এ দেশে এখনও মাঠিতে ধানের খেতে ধান হয়।পাঠের খেতে পাট হয়।মিঠাপানিতে মাছ হয়।পূব আকাশে সূর্য।পশ্চিমাকাশে চাঁদ দেখি।বর্ষায় নদীর জল এখনও ফুলে ফুলে ওঠে।হেমন্তে মাটির হাড়িতে টুক টুক করে ফোটে মুড়ি-মুড়কি,খই।নবান্নে লাল পেড়ে শাড়ির নোলক পরা লাজুক বধুয়া চই,চিতই,পুলি পিঠায় মৌ মৌ করে তুলে বাতাস।ঢেকিতে চিড়া কুটে -কট কটাকট!নৌকার গলুইয়ে বসে গানেয়াল মাঝি গায়-“মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে আমি আর বাইতে পারলাম না…”।আমার দেশ নদীর দেশ।দৃশ্যের দেশ।দৃশ্যায়নের দেশ।মেঘবৃষ্টি,আলোর দেশ।ঋতুবৈচিত্রে গড়া বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে এদেশের সাধারণ মানুষ,অসাধারণ জন,বন্ধুদেশ,বন্ধু স্বজন রা যুদ্ধ করেছিলো বলে আমাদের মনে সুবিধাবঞ্চিতের আফসোস নেই।বড়ো বেতনের চাকরি আছে।সন্মানী চেয়ার আছে, সুখনিদ্রার বালিশ আছে।মায়াবি বউ,সোহাগের সন্তানসন্ততি আছে।আমরা সিস্টেমের সুখি।আমরা টু জির সেবায় থ্রি জির যুগ অতিক্রম করেছি।ফোরজির পর্ব শেষ হতে হতে ফাইভ জির জন্য প্রস্তুতি নেবো।সারা পৃথিবী পরিনত হবে ওয়াই ফাই সেবায়।সেজন্য আকাশে আবাসন নিতে যাচ্ছে হাজারখানেক স্যাটেলাইট।এখন ইন্টারনেট,এ্যান্ড্রোয়েড,ট্যাব,ল্যাপটপ,এটিএম,এ্যাপস এ লেনদেন,অননেটে কেনাকাটা,ইউটিউব,ফেইসবুক,
ইস্টোগ্রাম,টুইটার,ওয়ার্ডসএ্যাপ,ভাইভার,ম্যাসেঞ্জার,ইমু,বারকোড,স্ক্যানার,ফটোকপিয়ার,এমনকি সুপারসনিক
কম্পিউটার মাথা খাচ্ছে।তখন সুফিয়া রা মাঠে নামবে। এখনই কীবোর্ডে টাইপ করার ঝামেলা মুক্ত হতে চলেছে পৃথিবী,মুখে বললে টাইপ হয়ে যায়। হয়তো এমন সুযোগও কড়া নাড়ছে-মানুষ কোন কিছু দেখে এসে কম্পিউটার মনিটরে বা মোবাইল ফোনে তাকাবে,সাথে সাথে কর্নিয়ার ল্যান্স বা আইরিস থেকে টাইপ হয়ে যাবে।গুগলে বই কিংবা লেখার শিরোনাম বলবেন,
কম্পিউটার পড়ে শোনাবে।মাথায় চিন্তা আসার সাথে সাথে কম্পিউটারাইজ গাড়ি চলে আসবে।গন্তব্য না বলে চিন্তা করলেই সেখানে পৌঁছে দেবে।ব্যাংকের লেনদেনে অর্ডার মাত্রই পাসওয়ার্ড বক্সে করে নিরাপদে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবে ড্রোন।কেনা কাটা হবে কার্ডে কার্ডে।ইমেইল গতিমেইলে!ইতোমধ্যে রোগি সেবার ভার নিয়ে গেছে কম্পিউটার বা মোবাইল মনিটর।বড়ো বড়ো সভা সমাবেশের ভার নিয়ে গেছে জুম এ্যাপস।হাসপাতালের রোগি সেবার দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে স্যানসর্ড রোবট।আগামিতে অফিস আদালত, বিমান,
ট্যাংক,কামান,চালাবে রোবটের দল।আমাদের দেশে
এখন ই শুরু হয়ে গেছে রোবটের কাজ কারবার।ময়মনসিংহের ভালুকাস্থিত’এনভয় গ্রুপের টেক্সটাইল
কারখানায় ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ থেকেই কাজ করছে ৪২০ টি মানুষের গড়া রোবট।যার একেকটির দাম ৬ লাখ ইউরো।একদিন ফুরিয়ে আসবে শ্রমিকের চাহিদা।কাজ করবে রোবট।বেকার হবে মানুষ।সমীক্ষা বলছে-২০৩০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে বেকার হয়ে যাবে ৮০ কোটি লোক।আর নতুন কর্মসংস্থানে যাবে ১০০ কোটি মানুষ।
কাজেই রোবট আর সুফিয়াদের দিক নির্দেশনার বুদ্ধি আর প্রযুক্তির কথা মাথায় রাখতে হবে।রোবট সুফিয়া এখনই মা হতে যাওয়ার কথা বলে ফেলেছে।আগামিতে
কি করবে বা কি চাইবে জানি না।
১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দেই বৃটিশ বিজ্ঞানী রবার্ট এডওয়ার্ডস এর ল্যাবে জন্ম হয়েছে টেস্টটিউববেবি লুইস ব্রাউনের।২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দে ‘জাস্ট এ বেবি এ্যাপস এর মাধ্যমে অনলাইনে শুক্রাণু কিনে নিজে নিজেই স্থাপন করে ইংল্যান্ডের টিসাইডের নানথ্রপের বাসিন্দা স্টেফানি টেলর,ই বেবি কন্যা-ইডেন এর জন্ম দিলেন।জীব বিজ্ঞানের ভাষায় অনুকৃতি উৎপাদন বা ইংরেজিতে ক্লোনিং বলতে কোন পিতৃজীব বা পিতৃকোষ থেকে সম্পূর্ণ অযৌন জননের মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার প্রকৃয়ায় ৫ জুলাই ১৯৯৬ সালে জন্ম নিলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে ড.ইয়ান উইলমুট এর হাতে ২৭৭ টি ভ্রুণ নষ্টের পর এডিনবোরায় জন্ম নেয় ক্লোন ভেড়া ডলি।পরবর্তিতে আসে বিড়াল যার নাম-সিসি।বানর সাবক-ট্রেটা।ঘোড়া-প্রমিথিয়া।
তবে ডলিকেও প্রাণ দিতে হয়।২০০৩ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ৭ বছর বয়েসে।তার রোগ ছিলো আথ্রাইটিস।এরপর ডলির মৃতদেহ ফ্রিজে রেখে দেওয়া হয় সাড়ে ৩ বছর।এবং চমকপ্রদ সংবাদের শিরোনামের স্বাক্ষী রয়ে গেলো বিশ্ব।আথ্রাইটিসে মারা যাওয়া ডলির দেহ থেকে নতুন ৪ টি ভেড়ির জন্ম হয়।দ্বিতীয় দফায় এ ভেড়িগুলোর জন্ম দিতে গড়ে ৫ টি ভ্রুণকে প্রাণ দিতে হয়েছিলো বলে জানা যায়।মৃত ডলির দেহ কোষের ভেড়ি রা এখনও জীবিত।
প্রথম ক্লোণ কন্যা ইভস ৩১ বছর বয়স্ক আমেরিকান মায়ের গর্ভ থেকে সিজারিয়ান সেকশন অস্ত্রপচারের মাধ্যমে পৃথিবীতে আসে। এর জন্ম ফরাসি বিজ্ঞানী প্রতিতযশা রসায়নবিদ ও স্টেটলিয়ন ধর্ম গোষ্টীর অনুসারী ব্রিজিতি বোইসোলিয়ার এর হাতে।সে ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বরের কথা।যা উদ্ভাবক কমিটি ক্লোনএইড বিজ্ঞানপাড়ায় হইচই ফেলে দেয়।হইচই ফেলে দেয় ধারাবাহিক মানুষ তৈরির খবরেও।আইন করে ভ্রুণ তৈরি বন্ধ হলেও গোপনে থেমে নেই প্রকৃতির
শৃঙ্খলা নষ্টের এ হেন কাজ। চলছে।মৃত মানুষের মাথা কেটে বয়স্ক শরীর থেকে তরুন শরীরে স্থাপনের কাজও গোপন ল্যাবে প্রকৃয়াধীন।আগামীতে আমাদের তৈরি মানুষ আসবে!এদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
জীবের আশ্রয়ে অণুজীব সার্স,কোভিড-১৯ জীবে
রূপান্তরিত হয়ে এখন ই তছনছ করে দিয়েছে বিশ্ব।আগামীতে যুদ্ধ বাঁধিয়ে অস্ত্র বিক্রি চলবে না। ঠাসঠুস যন্ত্রের গুলি-বোম চলবে না।জীবাণু সন্ত্রাস,স্নায়ু বোমের আঘাতে আঘাতে বিশ্ব আগাবে।সেদিনের জন্য তৈরি হতে হবে।ব্লাড টেস্টের রেজাল্টে হয়তো মৃত্যুর সময় তারিখ লাল দাগে উঠে আসবে!তারিখ পেছানোর চিকিৎসা,প্রযুক্তি র তালিম নিতে হবে।হাত কাটলে পা কাটলে বা কেটে ফেললে এখনই বায়োনিক হাত লাগানো হয়,আগামীতে বায়নিক বডিপার্স হয়তো চলবে না।পাড়ায় পাড়ায় ল্যাব গড়ে উঠবে।শরীর থেকে কোষ দিয়ে কর্তন করা হাত পায়ের মাপ দিয়ে আসলেই পুরাতন স্থানে জোড়া লাগিয়ে আবার চলা যাবে।শুকরের কিডনি মানব শরীরে প্রতিস্থাপন করে সফল হয়ে গেছেন আমেরিকান বিজ্ঞানী।Dr.Sergio Canvero
স্পাইনাল মানুষের মেরুদন্ডের স্পাইনালকর্ড কেটে মেরামত করে চুম্বক আবেশের সাহায্যে জোড়া লাগিয়ে প্যারালাইস রোগীর স্বাভাবিক জীবন দিতে যাচ্ছেন।
রক্ত তৈরির পদ্ধতি নখপ্রান্তে।আগামীতে রক্তক্ষরণে হয়তো কেউ মারা যাবে না।অন্ধ,মুক,বধিরের যুগ শেষ হয়ে যাবে।কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারির মাধ্যমে জন্মে বধির শুনবে নতুন করে কথা।স্পিচ থেরাপির মাধ্যমে গুছিয়ে উঠবে তোতলারও কথা।যন্ত্রের সাহায্যে এই তিনের কাজ চালিয়ে নেবে।ইচ্ছেমতো মানুষ তার শরীরের কাঠামো পরিবর্তন করে পুরুষ নারীতে,নারী পুরুষে পরিবর্তন হবে।কিছুদিন পূর্বেও বাংলাদেশে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারীকে একটি বেসরকারি চ্যানেলে খবর পাঠে দেখেছে মানুষ।বাংলাদেশী কথিত মডেল সানাই এর শরীরে সিলিকন দিয়ে অঙ্গ পরিবর্তনেও দেখা গেছে বিজ্ঞানের কারিষমা।যদিও দেশের মধ্যে অপরাধীর রূপ পাল্টানোর ভয় আছে তবুও ভয় নেই।ডিএনএ টেস্ট বলে রয়ে গেছে অভিনব পদ্ধতি।রয়েছে স্ক্যান করে চেহারা চেনার পদ্ধতি।মানুষের শরীরের পার্স প্রয়োজনে একজন থেকে অন্যকে দেওয়া যাবে।মৃত প্রানীর প্রাণ ফেরানোর গবেষণা গোপন ল্যাব থেকে বেরিয়ে প্রকাশ হয়ে পড়বে!ল্যাবের ট্রে থেকে এক এক করে নেমে আসবে নব নতুন মানুষ।আগামীতে বিদ্যার পাশাপাশি শিক্ষিত হতে হবে।হয়তো বিদ্যার সার্টিফিকেটের চেয়ে শিক্ষার সার্টিফিকেট ই কাজে লাগবে।সে দিন আর বেশি দূরে নয়।মানুষের জীন মানচিত্র আবিষ্কার দোরগড়ায়। তখন জিন মানচিত্র টাই হয়তো কাজে লাগবে,অন্য কিছু নয়। উড়ন্ত গাড়ি বাজার নেওয়ার অপেক্ষায়।মানুষ উড়ার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণে প্রায়!একদিন মানুষও উড়বে।আমাদের কে সে ই প্রযুক্তির তালিম এলে নিতে হবে।মানুষের ভারে জমিহীন হয়ে পড়বে মানুষ! তখন আর চাল,ডাল
,সবজি চলবে না।বেছে নিতে হবে অন্যখাবার।তার চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে।জঙ্গল কমে আসবে।সুনির্মল শ্বাস থাকবে না!সুনির্মল শ্বাসের জন্য গাছ লাগবে।গাছেী পায়ে তখন পানি ঢালতে হবে! উপকারী, অপকারী,পশু,পোকামাকড় বিলুপ্ত হয়ে বেঁচে যাওয়া
গুলো মানুষের সকাশে চলে আসবে।নতুন করে জীবন পাবে মাংশের চাহিদা পুরনের পশু পাখি।ল্যাবে শুরু হয়ে গেছে মাংশ তৈরি।হয়তো বেঁচে যাওয়া পশুদের দল দিকে দিকে করবে কোলাহল।তা ও মাথায় রাখতে হবে। আমাদেরকে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের।আমরা প্রথম শিল্পবিপ্লব কে চিনেছিলাম ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে।তখন বাষ্পীয় ইঞ্জিন এলো।বাড়লো কয়লা ইস্পাতের ব্যবহার।দেখলাম পানি ও বাষ্পের দূরন্ত ব্যবহার।দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব এলো ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে।এ বিপ্লব আমাদের চিনিয়ে গেলো বিদ্যুত নামক শক্তির কথা।উৎপাদনে এলো নতুন গতিময়তা।১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে আমরা আন্দোলন সংগ্রামে ব্যস্থ যখন,তখন তৃতীয় শিল্পবিপ্লব আমাদের জন্য এনে দিলো বাক্সের মধ্যে পৃথিবী। ইন্টারনেট পৌঁছে দিলো মানুষকে মানুষের কাছে।কাজ কে কাজের কাছে।সময় কে সময়ের কাছে।আবেগ কে আবেগের কাছে।প্রবাসে প্রলীন হয়ে যাওয়া সন্তান কে এনে দিলো মায়ের কাছে।প্রেমিকার রূপ দেখে নিলো গোপন প্রেমিক।এবার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধারনা এলো ১ এপ্রিল ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের দিনে জার্মান থেকে।যদিও ২০১১ খ্রিস্টাব্দে চলছিলো এর আলোচনা।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব প্রকট হতে পারে আমাদের মাঝে।ডিজিটাল লাইনের ব্যাপক পরিবর্তনে জীবনমান আরো বেড়ে যাবে।
পন্য সরবরাহে বেড়ে যাবে।মানুষের কাজ রোবটকে নিতে হবে বলে বেড়ে যাবে বেকারত্ব। এখনই নাই হয়ে গেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি,আগামিতে আরও বাড়বে অসমতা আর দারিদ্র্য।এক জরিপ থেকে জানা যায়-
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ৬০ শতাংশ, আসবাবপত্র ৫৫ শতাংশ,প্রকৃয়া জাত কৃষিপণ্য শিল্পের ৪০ শতাংশ,চামড়া ও জুতা শিল্পের ৩৫ শতাংশ ও সেবা শিল্পের ২০ শতাংশ লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে।এসটিজি
সম্পন্ন হলে আমরা নব্য ধনী হবো ঠিক,পুরাতন ধনীদের টেক্কা দিতে পারবো তো?তখন অনুদান আসবে না।সাহায্য আসবে না।নব নব কোম্পানি আসবে।নব নব অফিস।নিত্য নতুন বাণিজ্যিক কারখানা আসবে।আমাদের কারিগরি প্রশিক্ষণে জাগাতে হবে।কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র,ভকেশনাল ইন্সটিটিউট বাড়াতে হবে।প্রযুক্তি বিদ্যায় পারঙ্গম হতে হবে।প্রযুক্তির ভাষা,বিশ্বকে বুঝানোর ভাষা যেহেতু ইংলিশ সেহেতু বাংলার পাশাপাশি সরকারি খরছে ইংরেজি শিক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।যোগাযোগ ব্যবস্থা নিতে হবে বহুমুখী।আগামির বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বান্ধব,
উদ্ভাবনে সুযোগ দিতে হবে।জলবায়ুর বিরুপ প্রতিক্রিয়া র বাজে প্রভাব মোকাবেলার যোগ্যতা বাড়াতে হবে।চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য বাহুকে সবল করতে হবে।কৃষিকে বিপ্লবের অংশীদারত্বের দিকে নিতে হবে।শহরের সুবিধা কে গ্রামে নিয়ে যেতে হবে।ওয়ান স্টপ সার্ভিস কে ব্রতজ্ঞানে নিতে হবে।মনে রাখতে হবে-যোগাযোগ যতো উন্নত,রাষ্ট্র ততো উন্নত।নগর,গ্রাম,পাড়া,মহল্লা ঘুরে আসা প্যাচানো রেলপথ সোজা করে নির্মাণ করে কম থেকে কম এক ঘন্টার বাংলাদেশ করতে হবে।প্রয়োজনে রেল ব্যবস্থাকে পাতালে নিয়ে যেতে হবে।রেল এর মান্দাত্তা আমলের কাউন্টারে টিকিট পদ্ধতি বাতিল করে কার্ড পদ্ধতি চালু করতে হবে।অর্থাৎ যাত্রার প্রয়োজনের যাত্রীরাই শুধু কার্ড কিনে রাখবে।নগরে,বন্দরে গজিয়ে ওঠা ব্যাংক,
ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে যেখানে যাবে শুধু সেখানের ভাড়া ই কার্ডে লোড করে স্টেশনে রাখা পাঞ্চমেশিনে টিকিটের টাকা পরিশোধ করেই রেল এ ওঠে যাবে।রেল দিয়ে যাত্রি হয়রানি কমে যাবে।তখন এতো এতো রেল কর্মচারির যাত্রি হয়রানি মুক্ত রেল কেই বেছে নেবে যাত্রিরা। উন্নয়নমুলক নবীন সেবায় লাগানো যাবে রেল কর্মচারীদের।বিমানের বেলাতেও এমন করা যাবে।দিকে দিকে রাস্তা তৈরি করতে হবে।রাস্তার স্থানে স্থানে মোড় সোজা করতে হবে।রাস্তার মোড়ে মোড়ে মান্দাত্তা আমলের ট্রাফিকিং ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে কম্পিউটারাইজিং ব্যবস্থায় ফিরতে হবে।এরজন্য বিদ্যুত ব্যবস্থায় হাই পাওয়ারের বিদ্যুতের ব্যাকআপ থাকতে হবে।চালকের অপরাধের পাহারাদারিত্বে মোড়ে মোড়ে চেকিং ব্যবস্থাকে না বলে-কন্ট্রোলিং বুথের মধ্যে ট্রাফিকিং সিস্টেম কে নিয়ে আসতে হবে।ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশকে জামা অথবা হেলমেটে চিপ ক্যামেরায় বা ওয়েব ক্যামেরায় কন্ট্রোল রুমের সাথে সার্বক্ষণিক সিগন্যালিং কাজে জড়িয়ে থাকতে হবে।একই নম্বরপ্লেটধারী একাধিক চলাচলকারী যানবাহনের চলাচলরোধে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের আন্ডারে বিআরটিএ যানের যাবতীয় তথ্য সম্বলিত বারকোড স্টিকার সংযুক্ত করতে হবে।এবং প্রতিটি ট্রাফিক পয়েন্টে তাৎক্ষণিক ভাবে রিডিংয়ের স্ক্যানার থাকতে হবে।এমনকি লাইসেন্স রিডারও।এতে করে পথের পয়দাগীরি যেমন কমে আসবে তেমনি যান চলাচলের রাস্তার নাইটভিশন,
ডার্কভিশন,সিসি ক্যামেরার পাহারাতো থাকলোই।
ধীর গতির গাড়ি কমিয়ে দিতে হবে।অদক্ষ চালকের বিলুপ্তি ঘটিয়ে দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে।চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় রাখতে হবে।ট্রাফিক রাস্তায় মোড়ে মোড়ে কোনায় কোনায় গজিয়ে ওঠা অবৈধ ষ্ট্যান্ড,অবৈধ বাজার,ফুটপাতে পসরা বাজার বন্ধ করতে হবে।অভিযান পরিচালনার সংবাদ পাচার রোধে হঠাৎ নোটিশে রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।অদক্ষ চালকের
লাইসেন্সের পয়েন্ট বাতিল করতে হবে।এবং অদক্ষ চালকের হাতে যানবাহনের চাবি তুলে দেওয়ার অপরাধ বিবেচনা করে যানবাহনের মালিককেও আইন ও ফাইনের আওতায় আনতে হবে।কম সিটের, তিন চাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্কুটার,ধিরে চলা রিক্সা ইত্যাদি কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ি ও পরিবেশ বান্ধব দ্রুত চলনশীল বেশি সিটের যানবাহন আমদানি করতে হবে।এবং আমদানিকৃত যানবাহনের মেয়াদ দশ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে বাতিল ঘোষনা করতে হবে।যানবাহনের শ্রেণি বিভাজন করে চালকদের নির্ধারিত পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে।পূর্ব-পশ্চিম,উত্তর,দক্ষিনাঞ্চল এ রকম ভাগ করে যানবাহনের কালার ও নম্বর প্লেটে পরিবর্তন আনতে হবে।রাস্তার পার্শ্বস্থ প্রতিটি মার্কেট,
দোকান,ধর্মালয়,স্কুল,কলেজ কমিউনিটি সেন্টার ইত্যাদি নির্মাণের সময় আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখাকে বাধ্যতামুলক করতে হবে।আঁকাবাকা রাস্তার মোড়ে রোড লুকিং মিরর স্থাপন করতে হবে।নিরাপদ আন্ডারপাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।দীর্ঘ রোড ডিভাইডারের মাঝে মাঝে পকেট গেইট রেখে জরুরি রোড ক্রসিং এর জন্য পকেটে আন্ডারপাস রাখতে হবে।রোগি,প্রসুতি মা,শিশু,বয়োবৃদ্ধ মানুষের জন্য শৌচাগার রাখতে হবে।অবৈধ স্ট্যান্ডকে অবৈধ পার্কিং বিবেচনায় তাৎক্ষণিক শাস্তির আওতায় নিতে হবে।দূরপাল্লার চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখতে হবে।দূর গন্তব্যের চালকদের অন্তত ৪ ঘন্টা পর পর বিশ্রামের জন্য বদলির ব্যবস্থা রাখতে হবে।স্যাটেলাইট মিডিয়ায় বাধ্যতামূলক বিটিভির খবর প্রচারের মতো সব ধরনের চ্যানেল ও প্রচার মাধ্যমে সপ্তাহে অন্তত এক দিন ট্রাফিক আইন ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক প্রচার বাধ্যতামূলক করতে হবে।অন্যদিকে যেহেতু আমরা বাংলাদেশ কে নদীমাতৃক দেশ হিসেবে জানি সেই হেতু নদী,নদীর পানি।সমুদ্র, সমুদ্রের পানি বা নদী-সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণে আমরা দেশকে নিয়ে অনেক দূর যেতে পারি।অখন্ড ভারতের যুগেই নানাবিধ পরিচিতির
মধ্যে নদীমাতৃক বাংলাদেশ নামে বাংলাদেশের ও একটা আলাদা পরিচিতি ছিলো-তাই ব্রিটিশ যুগেই নৌপথের মূল্য বুঝেছিলো ব্রিটিশ ।সে আমলে তাঁরা ইন্ডিয়ান নেভিগেশন এবং রিভার স্টিম নেভিগেশন এর মালিকানায় উপমহাদেশের মাটিতে প্রথম চলাচলে নামায় নৌযান।এবং সে পুরাতন ফর্মুলা এখনও যে অকাজের সীমা অতিক্রম করেছে।তার নমুনাও আমরা দেখতে পারছি এসডিজি বাস্তবায়নের পথে নেমে।এসডিজি র ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে ইতো বলা হয়েছে-
“টেকসই উন্নয়নের জন্য মহাসাগর,সাগর এবং সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহার “এর কথা। কাজেই নৌপথ, সমুদ্র পথ কিংবা নৌ,সমুদ্র ব্যতিরেকে অনেকদূর যাওয়াকে আমরা বৃথা স্বপ্ন বলতে পারি বিধায় সরকারও এদিকটায় নজর দিয়েছেন।
এইতো ষাটের দশকেও প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌ রুটের অস্থিত্ব শক্তিশালীভাবে জানান দিলেও পরিচিতির মিটমাট পর্যন্ত ধারেকাছের সময়ে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটারে থেমেছে।সিজিআইএস এর তথ্য ঘাটতে গিয়ে জানতে পারি-১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ সময় পর্যন্ত নদীভাঙ্গনে দেশের প্রায় ১৭০০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি নৌ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে।তবে বিলীন হয়ে যাওয়া নদী বা নদীপথ গুলো বাছাই করে আমরা ইদানিং তৎপর হয়ে উঠেছি।দেশের উচ্চ আদালতের রায় আমাদের পক্ষে আছে।সেই আলোকে ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সম্বলিত একটি মাস্টারপ্ল্যান ও হাতে নেওয়া হয়েছে।সরকার ডেল্টাপ্ল্যান-২০২১ নামক এ প্ল্যানকে কাজে লাগিয়ে ১৭৮ টি নদীখনন ও পুনরুদ্ধার করার কাজ ও ১০ কিলোমিটার নৌপথ উপযোগি করে তোলা হবে।প্রজেক্ট টি ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে ধারন করবে বলে মনে হচ্ছে।আর এসডিজি বাস্তবায়নে সেদিকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে শক্তি দেওয়া যায়।কাজেই উক্ত অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের অনুকূলে দেশের ২২৭ টি নৌপথের ১৩ হাজার ৪শ ৮৬ টি র মধ্যে নৌচলাচলকারী নৌযানগুলোকে আধুনিক ও দ্রুতযানে রূপান্তরিত করতে হবে।বাংলাদেশের প্রতিটি বাণিজ্যালয় বা বড়ো শহরের পাশ দিয়ে যেহেতু নদীর অস্তিত্ব বিদ্যমান সেই হেতু নৌযানও অনন্য বার্তা নিয়ে আসতে পারে।নদী খননের পাশাপাশি নেপাল ও ভূটানের সঙ্গে নৌচলাচল বাড়ানো যেতে পারে।যমুনা নদীর বুক দিয়ে শারিয়াকান্দি -মাদারগঞ্জের ফেরিকে চলাচল উপযোগি করে নিতে হবে।বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা ১.১৮ লাখ বর্গকিলোমিটার বেশি
সমুদ্রসীমাকে কাজে লাগিয়ে খনিজ ও মৎস্য সম্পদকে নজরে আনতে হবে।নৌপথ খনন করে নৌ চলাচল কে দ্রুততর করতে হবে। যারা সার্টিফিকেটধারী বেকার রয়েছেন বা অপ্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট নিয়ে বসে বসে নানাবিধ অবৈধ বা বিদেশি অর্থে টোপ গেলায় মাঝে মাঝে পারদর্শিতা দেখাচ্ছেন,তাদের বয়েসকে শিথিলে নিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হাতকে অগ্রগামীর সুযোগ দিতে হবে।প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রতি জেলায় দাপ্তরিক শাখা খুলতে হবে।ওয়ানস্টপ সার্ভিসের চাহিদাকে বাড়িয়ে জনগনের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে হবে।প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি অফিসে নূন্যতম একবছর রেকর্ড থাকে এমন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ রেকর্ডার সংযুক্তির মাধ্যমে মাঝে মাঝে রেকর্ড অডিটিং এর ব্যবস্থা রাখতে হবে।ইভিএম বা ভোটদানের মার্কাযুক্ত মেশিনের মতো স্বয়ংক্রিয় অভিযোগ মেশিন তৈরি করতে হবে।সার্ভিসে বিরক্ত জনগন যাতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কর্মচারির নামের পাশে টিপ দিয়ে অভিযোগ দিয়ে আসতে পারে।সাথে সাথে অফিসে আগমন নির্গমনে বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করতে হবে।ইউটিউব, ফেইসবুক বা নেট মিডিয়াতে রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজ ও সংস্কৃতি বিরোধী বক্তব্য বা প্রচার নিয়ন্ত্রণে নেট ফিল্টার তৈরি করতে হবে।যাতে এরকম কিছু আপলোড দেওয়ার সাথে সাথে ফিল্টারে আটকা পড়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচিতি প্রকাশ হয়ে পড়ে।এবং আপলোডকৃত চিত্র বা ডকুমেন্টস স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণকারী মিডিয়া কে বাংলাদেশে দপ্তর খোলায় বাধ্যবাধকতা দিতে হবে।প্রতিটি নাগরিক
জীবনে দেশ প্রেমকে উসকে দিয়ে অন্তত মাসে মাসে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে।প্রতিটি পাড়া মহল্লায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ক্লাব,সংগঠন কে জাগিয়ে তুলতে হবে।ব্যক্তির চেয়ে দল বড়ো,দলের চেয়ে দেশ বড়ো শ্লোগানটি জাগিয়ে তুলতে হবে।প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এ্যাসেম্বলি অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ওয়াদা,জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক করতে হবে।গাছপ্রেম,বৃক্ষপ্রেম,প্রাণী প্রেমে উদ্বুদ্ধট করতে হবে।প্রতি ক্লাসে ৪০ মিনিট নির্ধারিত সম থেকে অন্তত ৫ মিনিট দেশ,সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।মাসে অন্তত সংস্কৃতি,ক্রীড়া ইত্যাদি প্রতিযোগিতার রেজাল্ট বাৎসরিক রেজাল্টের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।কারিগরি,ভোকেশনাল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঠে দূর্বল বা সবল ছাত্রদের বিদ্যার পাশাপাশি এসব শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।স্কুল থেকেই
শরীরচর্চা, সাঁতার ও স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে হবে।ছাত্র রা যাতে স্কুল থেকেই তাদের বডি পার্স,প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ইত্যাদির সম্যক ধারণা নিতে পারে।
মামা চাচার জোর ব্যতিরেকে ইংলিশ,বিজ্ঞান,গণিত,
প্রযুক্তি ইত্যাদি জানা লোক দিয়ে ভরিয়ে তুলতে হবে
অফিসের গদি আঁটা চেয়ার।চাকরিপ্রাপ্তিতে হয়রানি ও ঘুষ প্রথা বন্ধ করে শুধু আইন তৈরি নয়,আইনের ধারা উপধারা অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে নিয়ে আসতে হবে।
সর্বোপরি,এসডিজি অর্জনে,বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে চলার দিক নির্দেশনায় স্থানীয় বিশেষজ্ঞ,
বিজ্ঞানী,পরিবেশবিদ, প্রাণী বিদ এমন কি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিতে হবে।আমাদের দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নানা শিক্ষায় বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী রয়েছেন তাঁদের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে।স্বদেশ প্রেমে বুকের বেলুনে শ্বাস টেনে বলতে বলতে হবে-
জেগেছে বাংলাদেশ, জাগতে হবে আমাকেও।
২৮.১১.২০২১


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জেলা যুবলীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে জরুরী সভা

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট জেলা...

সিলেট লালদিঘী মুদ্রণ শিল্প ব্যবসায়ী সমিতির কমিটি গঠন

        সিলেট লালদিঘী মুদ্রণ শিল্প ব্যবসায়ী...

সিসিক মেয়র ও ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট সিটি...