জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের সংবর্ধনা: এক স্বর্ণালি সন্ধ্যার স্মরণীয় মুহূর্ত

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

মো. আব্দুল বাছিত: প্রত্যেক মানুষের জীবনে কিছু না কিছু আনন্দের মুহূর্ত আসে। স্মরণীয় মুহূর্ত আসে। যাকে সে ভুলতে পারে না কোনো দিন। হৃদয়ের ফুলদানিতে তার স্মৃতি সাজিয়ে রেখে সে গভীর তৃপ্তি এবং পুলক লাভ করে থাকে। জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে কিংবা মানবতার কল্যাণে কাজ করতে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো তাকে অনুপ্রেরণা যোগায়। সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা বারবার হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। জীবনে মহৎকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ যদি মিলে যায় সংবর্ধনা, তাহলে এটি একটি বড়ো প্রাপ্তি। সংবর্ধনা প্রাপ্তি মূলত মহৎকর্মের বিনিময় নয়, বরং এর মাধ্যমে কাজের মূল্যায়ন করার ন্যূনতম প্রচেষ্টা। জীবনে যারা মানবতার কল্যাণে নিবেদিত থাকে, হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে তাদেরকে সংবর্ধনা নামক আয়োজন দিয়ে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায় না। মানুষের জাগতিক এই মূল্যবোধ এবং দর্শন থেকেই মানুষ মানুষকে মূল্যায়ন করে অনুপ্রেরণা দেয়, ভালোবাসা প্রদর্শন করে। সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, স্কলার্সহোমের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জুবায়ের সিদ্দিকী স্যার তেমনই এক ব্যক্তিত্ব। দেশমাতৃকার প্রতি অপরিসীম প্রেম থেকে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন দীর্ঘ ৩২ বছর। সামরিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর থেকেই কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনে জ্ঞানের দীপশিখা জ্বালিয়ে দেবার জন্য শিক্ষাদানকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের বিশাল কর্মময় জীবনের মহৎকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৯ই মার্চ, শুক্রবার মহান স্বাধীনতার অগ্নিঝরা মাসে দেশের অন্যতম প্রাচীন সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সোলেমান হলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিলেটের সর্বস্তরের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকী (অব.) সংবর্ধনা পর্ষদ, সিলেট-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবর্ধনায় জুবায়ের সিদ্দিকী স্যার সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন। জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের বর্ণাঢ্য জীবনের মহৎকর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা প্রদান করতে উপস্থিত হন জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের হাতে গড়া স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই, মেজরটিলা, দক্ষিণ সুরমা এবং পাঠানটুলা ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সকলের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণই স্যারের প্রতি ভালোবাসার এক অনবদ্য নমুনা উপস্থাপিত হয়। বিকাল পাঁচটায় মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই একে একে উপস্থিত হন সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কবি-সাহিত্যিকসহ জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় শহীদ সোলেমান হল। সবগুলো চেয়ার পূর্ণ হয়ে যায়। তিল ধারনের জায়গা পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল না হলরুমে। হলের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অনেককে। সেদিনকার উপস্থিতি জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের চোখের কোণে চকমক আলো জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গভীর ভালোবাসা ও আবেগে তাঁর অশ্রুসজল চোখ দুটি যেন মুক্তার মত ঝকঝক করছিল যা তাঁর অনুভূতিময় বক্তব্যে ফুটে উঠে। আবেগাপ্লুত হয়ে বার বার রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর কন্ঠ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আধুনিক সিলেট নগরীর রূপকার, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে আলোকময় দ্যোতি ছড়িয়েছিলেন সাবেক হাইকমিশনার ও সচিব, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কবি মোফাজ্জল করিম। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মোফাজ্জল করিম ছিলেন জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের সরাসরি শিক্ষক। ছাত্রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নিজেরই শিক্ষক। এর চেয়ে আনন্দ ও গর্বের আর কী হতে পারে? সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, সংবর্ধনা পর্ষদের আহবায়ক সিলেটের বিশিষ্ট সাংবাদিক, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহ সভাপতি, সংগঠক সেলিম আউয়াল। দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, কবি মামুন সুলতানের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত হন জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের প্রিয় ব্যক্তিত্ব সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, স্কলার্সহোম-এর একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, মুক্তিযুদ্ধকালে যুক্তরাজ্যে গড়ে উঠে স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য প্রফেসর ড. কবীর চেšধুরী, প্রবীণ শিক্ষাবিদ, অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ করিম চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির। কবি, সাংবাদিক ক্বারী আব্দুল বাছিতের মনোমুগ্ধকর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হতে থাকেন জুবায়ের সিদ্দিকী স্যার। জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের হাতে কৈতর প্রকাশন, জালালাবাদ কবি ফোরাম, চেতনা যুব পরিষদ, সিলেট লেখিকা সংঘ, স্কলার্সহোম, জননী ফাউন্ডেশন, মাসিক ভিন্নধারা, আবদুল ওয়াহিদ স্মৃতি পারিবারিক পাঠাগার, এডুকেশন ফর সার্ভিসসহ ব্যক্তিগতভাবেও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের প্রতি ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, সাংবাদিক কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, জুবায়ের স্যারের বড়ো বোন তাজপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আনসারুন্নেসা বেগম, জুবায়ের সিদ্দিকী’র সহধর্মীনি ইয়াসমিন জুবায়ের, স্কলার্সহোম মেজর টিলা ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল বারী জামালী, শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন চেšধুরী, দক্ষিণ সুরমা ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ রুমানা চেšধুরী, সিলেট উইমেন্স মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ তাপাদার, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের কার্যকরী পরিষদের সদস্য মাওলানা ফজলুল করিম আজাদ, হলিসিটি স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল মো. ছয়ফুল করিম চৌধুরী হায়াত, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা-লেখক রাহাত তরফদার। জুবায়ের সিদ্দিকীকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি এম. আশরাফ আলী, কামরুল হক জুয়েল, জালালাবাদ কলেজের প্রভাষক কবি ইশরাক জাহান জেলী, কবি আমিনা শহীদ চেšধুরী মান্না।
সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে এক নিবিড়তম অভিভাবকত্বের নাম জুবায়ের সিদ্দিকী স্যার প্রত্যেকের বক্তব্যে এই ভাবটুকু ফুটে উঠে। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখতে গিয়ে জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের সহধর্মীনি ইয়াসমিন জুবায়ের এক অনাবিল আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করেন। অত্যন্ত সাবলীল ও গোছালো ভাবে জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের তাঁর শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসার কথা উচ্চারিত করেন। সিলেটের মানুষের সাথে জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের যে মাটি ও শেকড়ের টান, সেটাও ফুটে উঠে তাঁর বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক হাইকমিশনার ও সচিব, কবি মোফাজ্জল করিম নিজের জীবনের স্মৃতিময় ঘটনাবলীর কিঞ্চিত অবতারণা করেন, জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন। নিজের ব্যক্তি জীবনের শিক্ষকতা অধ্যায়ের অবতারণা করে জুবায়ের সিদ্দিকীর কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। উল্লেখ করেন, একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি গর্ব বোধ করছেন। ছাত্রের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁকে বরণ করছেন, ভালোবাসাময় আবেশে তিনি গভীরভাবে আবেগাল্পুত হন। কবি মোফাজ্জল করিম বলেন, মানুষের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা তাদের তারুণ্য, ব্যক্তিত্ব, মেধা ও প্রতিভার মাধ্যমে সমাজকে আলোকিত করেন। জুবায়ের সিদ্দিকী তেমনই এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর অদম্য প্রচেষ্টা এবং ব্যক্তিত্ব দিয়ে সে শিশু-কিশোরদের সাথী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। জুবায়ের সিদ্দিকী শিশু-কিশোরদেরকে আদর্শের শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য সাথী হিসেবে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে সংবর্ধনার মাধ্যমে সিলেটের মানুষের দায়বদ্ধতা আদায় হল। একটি সার্থক জীবনের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা দিতে গিয়ে কবি মোফাজ্জল করিম বলেন, যারা জীবনে ধৈর্য ও শোকরের মত গুণাবলী অর্জন করতে পেরেছেন তারা একটি আত্মতৃপ্তির জায়গা খুঁজে পেয়েছেন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জুবায়ের সিদ্দিকী তাঁর ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা ও মেধার মাধ্যমে সিলেটের শিক্ষাবিস্তারে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। উজ্জ্বল শিখার মত তিনি আলো জ্বেলে আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়ে প্রতীজ্ঞাবদ্ধ। তাঁকে সংবর্ধনার মাধ্যমে সিলেটের মানুষই সম্মানিত হয়েছেন। সিলেটের মানুষের মধ্যে শিক্ষাবিস্তারে যে কয়জন ব্যক্তি ভূমিকা রাখছেন তার মধ্যে অন্যতম জুবায়ের সিদ্দিকী এমন মন্তব্য করে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটে শিক্ষা সম্প্রসারণে জুবায়ের সিদ্দিকীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্কলার্সহোমের মত প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিয়ে সিলেটের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়েছেন তিনি। এটা তাঁর অর্জন। তাঁকে সম্মাননা জানানোর মাধ্যমে সমাজে আরো গুণী ব্যক্তিত্বের জন্ম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সিলেট নগরীর মধ্যে শিক্ষার বিস্তারে শিক্ষাবিদ সেল গঠনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জুবায়ের সিদ্দিকীর মত আরো যেসব গুণী ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন, তাদেরকে কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও আলোকিত নগরী গড়তে সবার প্রতি আহবান জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান বলেন, জুবায়ের সিদ্দিকীকে প্রশংসা করার জন্য আজকের এই আয়োজন নয়, বরং তাঁর কর্মময় জীবনের মূল্যায়নের জন্যই সমবেত হওয়া। সিলেটে মানসম্মত শিক্ষাবিস্তারে জুবায়ের সিদ্দিকীর অবদান অপরিসীম। তাঁর মত গুণীব্যক্তিত্বের হাত ধরেই সিলেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আমি আশা করছি।
স্কলার্সহোম-এর একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কবীর চেšধুরী বলেন, একজন আদর্শিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত জুবায়ের সিদ্দিকীর। শিক্ষার প্রসারে অত্যন্ত নিবেদিত জুবায়ের সিদ্দিকী দেশ মাতৃকার প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসা থেকেই সমাজকে আলোকিত কবছেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সততা এবং দক্ষতার মাধ্যমে জুবায়ের সিদ্দিকী সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে অভিভাবক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ বলেন, সিলেটে বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখছেন জুবায়ের সিদ্দিকী। তাঁর কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মকে অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে তাঁর সত্যিকার মূল্যায়ন এবং সম্মাননা প্রদান হবে।
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ করিম চৌধুরী বলেন, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রসারে এক নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব জুবায়ের সিদ্দিকী। তাঁর মহৎপ্রাণ হৃদয় সর্বদা মানুষের কল্যাণে চিন্তা করে। তাঁর ব্যক্তিত্ব, প্রতিভার গুণে নিজেকে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির বলেন, একজন আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে জুবায়ের সিদ্দিকী মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছেন তাঁর কর্মের মাধ্যমে। সমাজকে আলোকিত করতে জুবায়ের সিদ্দিকীর মত মানুষ তৈরী করতে হবে। জুবায়ের সিদ্দিকী তাঁর মেধা, মনন ও প্রতিভা দিয়ে যে অবদান রাখছেন তা অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জুবায়ের সিদ্দিকী স্যার অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আজকের এই অভূতপূর্ব সম্মাননা তাঁকে অভিভূত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনে মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছি সর্বদা। একজন শিক্ষক পিতার সন্তান হিসেবে শিক্ষার আলো ছড়ানোকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে নিয়েছি। মানুষের ভালোবাসা আমাকে এক সার্থক মনন উপহার দিয়েছে। এটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুবায়ের সিদ্দিকী সংবর্ধনা পর্ষদের সদস্য সচিব সুজিত রঞ্জন দেব, জুবায়ের সিদ্দিকীর কর্মময় জীবনের ওপর তথ্যচিত্র তুলে ধরেন নেছার আহমদ নোমান। ৭০তম জন্মবার্ষিকীতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্যারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, স্মারক এবং ক্রোড়পত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁরই শিক্ষক মোফাজ্জল করিমের হাত থেকে তিনি সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। পাশাপাশি জন্মদিন উপলক্ষে সিলেটের দৈনিক বিজয়ের কন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত ক্রোড়পত্রও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে জুবায়ের সিদ্দিকী’র ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য জাবেদ আহমদ চৌধুরীর সৌজন্যে কেক কাটা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ কেক কেটে এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় রাখার প্রতিযোগিতায় মত্ত হন। স্যারকে নিজের হাতে কেক খাওয়ানোর জন্য জোর প্রতিযোগিতা শুরু হয় সবার মধ্যে। এই দৃশ্য থেকেই স্যারের প্রতি সকলের ভালোবাসা প্রতীয়মান হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেও জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের উদ্দেশ্যে নিবেদিত জাবেদ আহমদ চৌধুরীর একটি ইংরেজি কবিতা আবৃত্তি করেন স্কলার্সহোমের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কামরুল হক জুয়েল।
অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির বক্তব্যে সংবর্ধনা পর্ষদের আহবায়ক সংগঠন সেলিম আউয়াল সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলোকিত মানুষ তৈরীতে জুবায়ের সিদ্দিকী অসামান্য ভূমিকা রাখছেন। তাঁর মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত হবে। এর মাধ্যমে তাঁর সত্যিকার মূল্যায়ন হবে। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে আলোকময় করতে জুবায়ের সিদ্দিকীর মত মানুষ তৈরী করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যের পর ভাষাসৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খানের মোনাজাত পরিচালনার মাধ্যমেই একটি স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। এক সমৃদ্ধ স্মৃতি ও মুহূর্ত নিয়ে সবাই যার যার গন্তব্যে ছুটে যায়। সময় চলে যায়, তার আপন নিয়মে। রেখে যায় স্মৃতির অজ¯্র পালক। কিছু স্মৃতি অনুপ্রেরণা, কিছু স্মৃতি আবেগের। কিছু স্মৃতি আবার হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে প্রতিটি মুহূর্ত। ৯ই মার্চের সংবর্ধনাও জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করবে আজীবন। আমাদেরও হৃদয়ে ভালোবাসার যে বীজ তিনি রোপণ করেছেন, সেখান থেকে চারা গজাবে। দেশ ও মাটির জন্য। এটা জুবায়ের সিদ্দিকী স্যারের জীবনের বিশাল অর্জন। তিনি ভালোবাসা দিয়েছেন, অর্জন করেছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা। একজন মানুষের জীবনে সত্যিকার ভালোবাসা পাওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে?

আরও পড়ুন



সাংবাদিক ইকবাল মনসুরের কুলখানি সম্পন্ন

সিলেট বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের...

দূর্বার গতি

মিজানুর রহমান মিজান: জীবনের ধর্ম...