জীবনের গল্প “সারপ্রাইজড! “

প্রকাশিত : ০৭ এপ্রিল, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

তোফায়েল আহমদ প্যারিস, ফ্রান্স: বড় বোন তার স্বামী ও সন্তান নিয়ে ফ্রান্সের রোওন শহরে থাকেন। আমি মাত্র কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে এসেছি। থাকতাম প্যারিসে। বাসে গেলে আপার বাসায় ২ ঘন্টার রাস্তা। প্রথম থেকেই আমাকে যাওয়ার জন্য বলতেন। আমি বললাম ওখানকার অফিসিয়াল কাজ শেষ করে কবে যাব জানাবো। সেই ফাকে আপার ঘরের ঠিকানাটা নিয়ে রেখেছি।
ঠিকানা নেওয়ার উদ্দেশ্য হল, না জানিয়ে আপাকে গিয়ে সারপ্রাইজ দিব! হঠাৎ একদিন বিকেলে সিদ্ধান্ত নিলাম আপার বাসায় চলে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ শুরু। জিয়া ভাইয়ের (বড় ভাই) ব্যাংক কার্ড দিয়ে অনলাইনে বাসের টিকিট কাটলাম। সময় ৯ টা ২০ মিনিট। বিকেলে জিয়া ভাইয়ের সাথে ঘুরাঘুরি করে একসাথে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। হঠাৎ খেয়াল হল আমাদের বাস স্টপে যেতে ৪০ মিনিট লাগবে। হাতে সময় বেশি নেই। দুই ভাই দৌঁড় দিলাম। অনেক কষ্টে অবশেষে ৯ টা ১৫ তে বাস স্টপে পৌঁছালাম। ওখানে গিয়ে দুলাভাইকে পেয়ে গেলাম। জরুরি কাজে প্যারিস আসছিলেন এখন বাসায় যাবেন। বললাম আমার যাওয়ার খবর আপাকে না দিতে। একটু পরেই আমার মোবাইলে আপার কল। তখন খুব রাগ হলো দুলাভাইয়ের প্রতি। বুঝতে বাকি রইলো না, আদরের বউকে সব বলে দিয়েছেন। কত দিনের ইচ্ছা আপাকে একটা সারপ্রাইজ দিব!
বাস একটু দেরি করে আসল। ৯ টা ৩৫ এ। সবাই একেএকে টিকিট দেখিয়ে বাসে উঠছে। আমিও মোবাইলে আমার টিকিট দেখালাম। ড্রাইভার আমার টিকিট দেখে বাসে উঠতে বাধা দিল। বললো এই টিকিটে নাকি হবে না। আমি বেশ আশ্চর্য হলাম! কেন হবেনা বলতেন বললো এটা Ouibus এর টিকিট করেছেন আর এটা Flexibus। আমি টিকিট খেয়াল না করে Flexibus এর জন্য এতোক্ষণ অপেক্ষা করেছি। আমার বাসটি এতোক্ষণে চলে গেছে। ড্রাইভার আমাকে Ouibus এর আরেকটি বাস দেখিয়ে বললো তাদেরকে টিকিট দেখাতে। ঐ ড্রাইভার টিকিট দেখে বললো, মছিউর এটাতো আগামীকালের টিকিট। আমিতো পুরাই ত বনে গেলাম! সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই সারপ্রাইজড! ততক্ষণে বাস ছেড়ে দিয়েছে। আমি মন ভার করে আমার বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটছি। আপার বাসায় যাবো এটা বাসার কাউকে বলা হয়নি। মনে মনে ভাবলাম ভলোই করেছি, না জানলে কেউ লজ্জা দিবে না। আপাকে কী বলবো বুঝতে পারছি না। একটু লজ্জাও লাগছে, তাই কল দেইনি। আবারো আপার ফোন। কণ্ঠ বেশ ভারি। বুঝতে পারছি আপা খুব কষ্ট পেয়েছে। আমাকে না নিতে পারায় দুলাভাইয়ের উপর একটা বড়সড় ঝড় গেছে! আহহারে বেচারা ; হুদাই ঝাড়ি খেল আমার জন্য। আপাকে বুঝালাম কালকে তো আসছি, এতো মন খারাপের দরকার নেই।
রাত ১ টায় আপার ফোন। ফোন ধরেই বললেন, “নে তোর দুলাভাইয়ের সাথে কথা বল। ” দুলাভাই কিছু সময় আমাকে না নিতে পারার কারণ বললেন। আমিতো জানিই কেন যেতে পারিনি। বেচারা বউয়ের ভয়ে হয়তো আবার বলছে। আচ্ছা, পৃথিবীর সব প্রাণীই কী তার বউকে ভয় পায় ; না শুধুমাত্র মানুষ ভয় পায়। এ নিয়ে মনে হয় কোনো গবেষণা এখনো হয়নি। ফোন রাখার সময় দুলাভাই বললেন, টিকিটটা সকালে না রাতে একটু ভালো করে দেখতে। আবার টিকিট বের করলাম। টিকিট দেখে বুঝতে পারলাম এটা তো সকালের টিকিট। এখানে এরা (ইউরোপে) ২৪ ঘন্টা সময় ব্যবহার করে। রাত ৯ টা ২০ হলে ২১ টা ২০ লিখা থাকতো। এই ছোট্ট বিষয় খেয়াল না করায় এতটুকু সমস্যা হয়েছে।
সকালে উঠে রওয়ানা দিলাম। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হলে যা হয় ৯ টা ২৩ এ পৌঁছলাম। ৩ মিনিট লেইট! গিয়ে দেখি বাস আমাকে রেখে চলে গেছে! এবার তো পুরোপুরিই শকড্!
আবারো অনলাইনে টিকিট করলাম। ২ ঘন্টা পর। তবে এবার আর কোনো ভুল হয়নি। যথাসময়ে বাস আসল। উঠলাম। বাস ছাড়লো। কিছুক্ষণ পর আপার ম্যাসাজ “কই তুই “। আমি রিপ্লে দিলাম, স্যরি আপা, আজকেও বাস মিস করছি। আপা ভাবলেন মজা করছি। অনেক্ষণ বলার পর বিশ্বাস করলেন সত্যিই বাস মিস করেছি। তারপর কথা বন্ধ। আমিও ইচ্ছে করে কথা বলিনি।
নির্ধারিত সময়ে বাস রোওন শহরে পৌঁছালো। আমি বাস থেকে নেমে গুগল মামার সাহায্যে আপার বাসা পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। এমন সময় আবারো আপার ম্যাসেজ, “তুই এটা ঠিক করিস নি”! আমি যে চলে আসছি আপা সেটা জানে না। অনেক প্রতিক্ষিত সারপ্রাইজের মুহূর্ত চলে আসলো। আপাকে ভিডিও কল দিলাম। ভাবলাম হয়তো অভিমানে রিসিভ করবে না। নাহ্! দিতেই রিসিভ করে ফেলল। অভিমান করাও শিখলো না। রিসিভ করতেই আমি তার বাসার বিল্ডিংটা দেখালাম। এবার সে সত্যিসত্যি সারপ্রাইজড হলো! আনন্দে বলে উঠলো, “ওমা! এটা তো আমাদের বাসা “। আমি বললাম হ্যাঁ, আমিতো তোমার বাসায়ই এসেছি।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

প্যারিসে সংস্কিতিক মন্ত্রী কে এম খালিদের সাথে প্রবাসীদের সাক্ষাত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: প্রবাসীদের সাথে...

মজলিসের সিলেট মহানগর শাখা পুনর্গঠন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশ খেলাফত...

আমেরিকায় লকডাউন কী উঠে যাবে? ঘুরে দাড়ানোর চেস্টা নিউইয়র্কবাসীর

          এমদাদ চৌধুরী দীপু(১৪এপ্রিল,২০২০ ইং)...