জীবনের ক’টি প্রান্ত ছুঁয়ে কবি সালমা বখত চৌধুরী

,
প্রকাশিত : ২২ মে, ২০১৮     আপডেট : ৩ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাসলিমা খানম বীথি: আমি লেখি। আমার মনের সুখ, আমার মনের দু:খগুলো লিখে রাখি। আমার অভিজ্ঞতা, বর্তমানকে দেখা এবং ভবিষ্যতের চিন্তাগুলোকে ভাবিত করে। সেই ভাবনাগুলো কোনোটা কবিতা, কোনোটা গল্প, কোনোটা প্রবন্ধ হয়ে আমার কাছে ধরা দেয়। আমিও যতটা সম্ভব সেগুলোকে পরিপালনের চেষ্টা করি। তার সবগুলো যে সমান সবুজ হয়-তা নয়। তার পরেও আমি আমার বোধকে ভাষায় রূপান্তরিত করি এবং মননশীল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করি। আমার লেখাগুলো বেশির ভাগই বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিক্রিয়া। আমার জীবনের সাথে এগুলোকে মিলিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। তথ্য ও তত্ত্বের জালে নিজেকে আবদ্ধ করার কোনো স্বপ্ন কোনোকালে দেখিনি। আমার খোলা চোখে দেখা কিছু ঘটনা এবং তার পূর্বাপর বিষয় আমাকে এ প্রবন্ধগুলো রচনায় অনুপ্রাণিত করেছে। তাই সময়ের বিচারে এর মূল্যায়ন হবে কি না সে প্রশ্ন আমার কাছে অবান্তর। যে ব্যথাগুলো বলা যায় না, যে কথাগুলো ভেতরকে বিদ্ধ করে, আমি তা-ই বলতে চেয়েছি এবং আমার গ্রন্থের কোনো লেখা যদি পাঠকের মনে দাগ কাটে, তবেই আমার শ্রম সার্থক নিজের লেখালেখি প্রসঙ্গে এ হচ্ছে কবি সালমা বখ্ত চৌধুরীর অনুভূতি।

এক গোধূলী লগ্মে শহরতলীর খাদিমপাড়া নিজের বাসায় বসে সিলেট এক্সপ্রেসকে একান্ত অনুভূতির কথা বলছিলেন কবি সালমা বখ্ত চৌধুরী।
সবুজের সমোরোহের দুপাশ দিয়ে আমাদের গাড়ী প্রবেশ করে কবি সালমা বখ্ত চৌধুরী বাড়িতে। প্রকৃতিকে কতটুকু ভালোবাসেন তা জলন্ত প্রমান খাদিমপাড়াস্থ তার বাসা ‘তাসমিয়াহ’। বাড়ির আঙ্গিনা দুপাশে সবুজ গাছগাছালি। বাসার বারান্দায় চারিদিকের বিভিন্ন ফুল গাছের টব। সাক্ষাতকার গ্রহনের সময় তিনি প্রকৃতির খেলার কথা বলেছিলেন- সুদূর প্রবাসে থাকা তার দুই ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আড়াই মাস থাকার পর ফিরে আসেন তার প্রিয় শহর সিলেটে। প্রবাসে থাকাকালিন তিনি দেশকে ও দেশের প্রকৃতিকে প্রচন্ড মিস করেছেন। ভোরের সিগ্ধ সকালের সূর্য্যরে সাথে প্রকৃতির যে খেলা তা তাকে পুলকিত করে।

১৬ জুন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রণকেলী গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন কবি সালমা বখত চৌধুরী। পিতা মরহুম রইছ উদ্দিন চৌধুরী বন বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। মাতা মরহুমা সামসুন্নেছা চৌধুরী ছিলেন একজন গৃহিণী। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সালমা বখ্ত সবার ছোট। তার বড় ভাই এ, কে,শামসুদ্দিন চৌধুরী একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ক্রীড়ামোদী। তিনি আমেরিকা প্রবাসী। মেঝ বোন সুলতানা চৌধুরী রেহা লন্ডন প্রবাসী । তিনি একটি অর্গানাইজেশন এর কো-অডিনেটর। কবি সালমা বখত চৌধুরী’র কবিতা দিয়ে লেখার জগতে পদচারণা। সুনামগঞ্জের আরপিন নগর নিবাসী মরহুম শাহ বখ্ত-এর বড়ো ছেলে মরহুম জাহাঙ্গীর বখত খসরু এর সাথে তার বিয়ে হয়। ঢাকায় দীর্ঘদিন স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। সুর্দীঘ বার বছর শিল্পপতি স্বামীর সাথে নিজস্ব ঔষধ কোম্পানীর ডাইরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তিন পুত্র সন্তানের জননী। ১৯৯৬ সালে একদিন ভোরবেলা ঘুম ভাঙ্গে বুকের ব্যথা নিয়ে। পরিবারের সবাই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কবি সালমা বখত চৌধুরী জীবনকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন। সুখের সাগরে ভেসেছেন শৈশব, কৈশোর, এবং যৌবনের সবচেয়ে সুন্দরতম সময়গুলোতে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলা নিকেতন, সবুজ শ্যামলিমায়, ঘেরা পাহাড়ী বনাঞ্চলের সান্নিধ্যে কাটিয়েছেন জীবনের সোনালী সময়। খুব স্বাভাবিকভাবেই, প্রকৃতির উদার পরিবেশ তাকে লেখালেখিতে অনেকখানি এগিয়ে নিয়েছে। যা মহান সষ্টার দান। যার কারনে শিশু বয়সেই মুখে মুখে উচ্চারণ করতেন, স্বরচিত ছড়া কবিতার ভাঙ্গাভাঙ্গা ছন্দ সুর।

তার লেখা সাপ্তাহিক বেগম, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আল-আমীন, দৈনিক সিলেটের ডাক, সাপ্তাহিক সিলেটের পত্রিকা, দৈনিক সিলেট বাণী, দৈনিক যুগভেরী, লন্ডন থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সুরমা, সাপ্তাহিক সিলেটের ডাক ইত্যাদি ছাড়াও সিলেটের প্রথম অনলাইন পত্রিকা সিলেট এক্সপ্রেস সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রপত্রিকায় তার লেখা নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে।

কবি সালমা বখ্ত চৌধুরী এ পর্যন্ত সম্মাননা পেয়েছেন- কবি বে-নজীর সাহিত্য পুরষ্কার (২০০৩), এভারগ্রীণ সাহিত্য পুরষ্কার (২০০৪), ড.আশরাফ সিদ্দিকী স্বর্ণপদক (২০০৫), রিয়াফ স্বর্ণপদক (২০০৫), বঙ্গবীর ওসমানী সাহিত্য পুরষ্কার (২০০৫), শের-এ বাংলা পুরষ্কার (২০১১)।

সিলেটের প্রথম অনলাইন দৈনিক সিলেট এক্সপ্রেস ডট কম-এর পক্ষ থেকে কবি ও সংগঠক সালমা বখত চৌধুরী’র একটি সাক্ষাতকার গ্রহণ করি। বিগত ১৪ নভেম্বর ২০১৩ খাদিমপাড়াস্থ তার বাসা ‘তাসমিয়াহ’-তে সাক্ষাতকারটি গ্রহণ করেন সিলেট এক্সপ্রেস-এর স্টাফ রিপোর্টার তাসলিমা খানম বীথি এবং আলোকচিত্র ধারন করেন সাংবাদিক মাহমুদ পারভেজ।

বীথি : কবে থেকে লেখালেখি শুরু করেছেন ? প্রথম লেখা কি ছিল?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : ছোটবেলা থেকেই আমার লেখালেখি শুরু। তখন আমি ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন হাই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রধান শিক্ষক সবাইকে বলেছিলেন স্বরচিত কবিতা লিখে আনার জন্য। সে সময় স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতায় আমি প্রথম হই। প্রথম লেখাটি ছিল একটি স্বরচিত কবিতা ‘হে মহান প্রিয় কবি নজরুল’। এ কবিতার জন্য একটি বই প্রাইজ পেয়েছিলাম আমি।

বীথি : লেখালেখিতে আপনাকে কে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : আমার লেখালেখি শুরুর খবরটা পরিবারের কেউ জানতো না। তবে জানার পর কেউ বাধা দেয়নি। আমার মেঝ খালা বাড়ির ভাদ্বেশর, আমি সেখানে থেকে পড়াশোনা করতাম। সেই সময় আমার খালু, খালাতো বোন জাহানারা চৌধুরী হেনু আন্তরিকভাবে উৎসাহ দিতেন। আমার ভাই আজও আমাকে বলেন কলম হাত থেকে সরাবে না। বড় বোন সুলতানা চৌধুরী লেখালেখির করার জন্য খুব উৎসাহ দিয়েছেন।) এ ছাড়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এর সাথে পারিবারিক সূত্রে আমার সম্পর্ক। তার লেখার খুব ভক্ত ছিলাম আমি। তিনি অনেক সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন। আমার ছেলেদেরকে বলতেন মাকে জ্বালাতন করবে না। ভালো করে যেনো লেখালেখি করতে পারে। তার কন্যা সাদিয়া চৌধুরী পরাগ-এর সাথে আমার বন্ধুর সম্পর্ক। তিনি এবং কথাসাহিত্যিক শাহেদ আলী সাহেব এবং তার সহধর্মিনী চেমন আরা সাহেদ আমাকে খুবই উৎসাহ দিয়েছেন।

বীথি : আপনার লেখা কতটা বই বের হয়েছে। বইগুলো নাম কি ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : আমার এ পর্যন্ত সাতটি বই বেরিয়েছে। বইগুলো হচ্ছেÑ কবিতার বই: ঝরাপাতার কষ্ট, আলোয় জ্বলে খেলা, ও নীল বেদনায় সুখের ছোঁয়া , ছোট গল্পের বইÑ হৃদয়ে সৈকতে পূর্ণিমা,গদ্যÑজোট সরকারের কর্মসূচী, অস্ফুট সংগ্রাম, জীবন সে তো রংধনু।

বীথি : নতুন কোন বই বের করার পরিকল্পনা আছে কি ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : নতুন বই বের করার অবশ্যই পরিকল্পনা আছে। ২০১৪ সালে আমার নতুন দু’টি বই বের হবে। ‘বাবার কাছে খোলা চিঠি’ ও ‘এক কিশোরীর চোখে মুক্তিযুদ্ধ’।

বীথি: আপনার শৈশব ও কৈশোর কোথায় কেটেছে ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : আমার বাবা বন বিভাগে চাকুরীর সুবাদে ছাতকে শৈশব কেটেছে।
বাবার রির্টায়ার্ডের পর গোলাপগঞ্জের রণকেলীতে চলে আসলে সেখানেই কৈশোর কাটে। ছোটবেলা খুব চঞ্চল ছিলাম। বাবা বলতেন আমার এই মেয়েটা যদি ছেলে হত তাহলে আমার নাম রাখতো। আমরা সব ভাইবোন বাবার কাছ থেকে ইংরেজী ভাষায় কথা বলতে শিখেছি। খাবার টেবিলে বসলেই বাবা আমাদের সবাইকে ইংরেজীতে জিজ্ঞাসা করতেন কি দিয়ে খাচ্ছি।

বীথি: কীসের তাড়নায় আপনাকে কবিতা লিখতে বাধ্য করে ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : যে কোন ঘটনা আমার মন ছুঁয়ে যায় তাই নিয়ে আমি কবিতা লেখি।

বীথি : কবিতার মধ্যে প্রেম কতটা জরুরী ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : কবিতার মধ্যে প্রেম অনেকটাই জরুরী। কারন আমি মনে করি প্রেম শব্দটি শুধু প্রেমিক প্রমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটা পাখির সাথেও প্রেম করা যায়। যদি দুজনার গঠনমুলক লেনদেন থাকে। তা থেকেই কবিতার জন্ম হয়।

বীথি: মনে পড়ে জীবনে প্রথম কবিতা লেখার আগে ও পরে অনুভূতি ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : সেটাতো দারুণ অনুভূতি। একটি কবিতা লেখার পর আমি বারবার পড়তাম। খালাতো ভাইবোনেরা দেখে যাতে হাসাহাসি না করে সেজন্য বাথরুমে গিয়ে লেখা পড়তাম। একটি কবিতা লেখা শেষ হলে। বিশ্বাস হত না আমি নিজে লেখেছি কিনা। সত্যি কি আমি লেখেছি। প্রথম লেখার অনুভূতিগুলো ছিল এরকম।

বীথি : প্রিয় লেখক কে ? কার বই বেশি পড়েন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : প্রিয় লেখক কাজী নজরুল ইসলাম, হুমায়ূন আহমেদ ও কবি আল মাহমুদ। সব ধরনের বই পড়ি। তবে শিক্ষণীয় বইগুলো বেশি পড়ি।

বীথি : আপনার সাংগঠনিক জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : ১৯৮৭ খ্রীষ্টাব্দ থেকে আমার সাংগঠনিক জীবন শুরু হয় । তখন তমদ্দুন মজলিস সাহিত্য সংগঠন এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম। ১৯৯৬ খ্রীষ্টাব্দে আমি সিলেটে চলে আসি। ২০০২ সাল থেকে লেখিকা সংঘ সংগঠনের সাথে এবং পরে নন্দিনী সাহিত্য ও পাঠচক্র-এ সাথে জড়িত হই। এখন সিলেট লেখিকা সংঘের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্বে আছি। এছাড়া লেখিকা সংঘের অনেকগুলো শাখা আমি প্রতিষ্ঠা করেছি। এগুলো হল সুনামগঞ্জ লেখিকা সংঘ, মৌলভীবাজার লেখিকা সংঘ, ছাতক লেখিকা সংঘ আর এখন কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল লেখিকা সংঘ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

বীথি ; লেখালেখিতে আপনার স্বামী কি রকম ভূমিকা রেখেছেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : প্রয়াত জাহাঙ্গীর বখ্ত খসরু যিনি প্রচন্ড ভালোবাসতেন কবিতা। যার অনুপ্রেরণায় আমার এত দূর এগিয়ে আসা। তিনি যতদিন বেঁচেছিলেন অনেক উৎসাহ অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তিনি বলতেন, তিনি আমার যোগ্য না। লেখালেখিতে তিনি কখনো আমাকে বাধা দেননি। তার সহযোগিতা অনুপ্রেরণা ছিল বলেই আজ আমি এত দূর আসতে পেরেছি। আমার স্বামী মরহুম জাহাঙ্গীর বখ্ত খসরু ১৯৯৬ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ মে মৃত্যুবরণ করেন।

বীথি : আপনার সন্তানদের সর্ম্পকে কিছু বলুন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : আমি তিন পুত্র সন্তানের জননী। বড় ছেলে আদনান ইংল্যান্ড প্রবাসী, মেঝ ছেলে ফারহান আমেরিকা প্রবাসী আর ছোট ছেলে রুম্মান আমেরিকা প্রবাসী হওয়ার পথে। আমার ছেলেদের সাথে এমনই সর্ম্পক যে, প্রবাসের শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে প্রতিদিন ফোন করে খোঁজ খবর নেবে। একটু নরম সুরে কথা বললে তাদের টেনশনের সীমা থাকে না। অস্থির হয়ে জিজ্ঞেস করবে আমি কি সুস্থ না অসুস্থ। পরে আবার টেনশন মুক্ত হবার জন্য ছোট ছেলে রুম্মানের কাছে ফোন করে জিজ্ঞেসা করবেÑআমার শরীর কেমন আছে। আমার ছেলেরা যেমন যতœশীল তেমনি তাদের বউয়েরাও আমার প্রতি খুবই যতœশীল। ছেলের বউদের সাথে খুব ভালো ও বন্ধুর মতো সর্ম্পক আমার। আমার ছেলে ও ছেলের বউ শিউলী, ইনা, শিমু এবং নাতি তিহামী, ঈনায়া, আদিয়ান ও ইন্তেছার সবাইকে খুব মিস করি।

বীথি: আপনার জীবনে কিছু মধুর মূহুর্তের কথা বলেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : ছোটবেলার মধুর স্মৃতিগুলো আমার হৃদয়ে এখনো জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠে। আমার স্কুলের একটি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বাবা ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। সেই প্রতিযোগিতায় আমি কবিতা আবৃত্তি করেছিলাম। কবিতা আবৃত্তি শোনার পর বাবা চট করে এসে একটি টেবিলে আমাকে দাড় করিয়ে দিলেন। তখন মুর্হুমুর্হু করতালি হতে লাগলো। সে মুহূর্তের কথা মনে পড়লে আমি আনন্দে পুলকিত হই। বাবা চাইতেন এমনিভাবে যেনো আমি গড়ে ওঠি যাতে বাবার নাম রাখতে পারি। তাই নিজেকে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করি।

বীথি: কি খেতে ভালোবাসেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : মিষ্টি আর টক বেশি খেতে ভালো লাগে। আমার পরিবারে প্রতিদিন যতগুলো খাবার রেসিপি থাকবে তার মধ্যে টক জাতীয় রান্না থাকবেই।

বীথি: আপনি কাকে সবচেয়ে বেশি মিস করেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : বাবা-মাকে আর আমার স্বামীকে সবচেয়ে বেশি মিস করি।

বীথি : আপনার শখ কি ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : দারিদ্র মানুষের সেবা করা আমার শখ।

বীথি : কি অপছন্দ করেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : মিথ্যা কথা বলা, গরিব মানুষের প্রতি অবহেলা, মুখের ভাষা দিয়ে অন্যকে কষ্ট দেয়া, যার যে প্রাপ্য তা থেকে তাকে বঞ্চিত করাকে অপছন্দ করি।

বীথি : অবসর সময় কি করেন ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : অবসর সময় আমি লেখালেখি করি। পছন্দের গান শুনি, টিভি দেখি। আর নিরবে একা একা বসে দেশের কথা, সন্তানদের কথা ও নিজের কথা ভাবি।

বীথি : একজন লেখকের কি কি গুণ থাকা উচিত ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : একজন লেখকের প্রথমত অসীম ধৈর্য্যর চর্চা করতে হবে, মনের চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখা ও বেশী বেশী করে বই পড়তে হবে।

বীথি: তরুণ প্রজন্মের কাছে আপনার প্রত্যাশা কি ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : তরুণ বয়সে আমরা যেভাবে আত্মীয় স্বজনদের সাথে বেড়ে ওঠেছিলাম। তখনকার সেই মধুর এবং সৌহার্দপূর্ণ সময় অতিবাহিত করে এসেছি। সেই পারিবারিক শান্তি, সামাজিক শান্তি, বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের øেহ করা ইত্যাদি মিলে আমরা যে পরিবেশে বেড়ে ওঠেছি। আজকাল এরকম পরিবেশ দেখা যায় না। তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার প্রত্যাশা তারা যেনো সেই রকম সুন্দর একটি পরিবেশ গড়ার চেষ্টা করে।

বীথি: বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চান ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : বাংলাদেশকে আমি সুশৃংঙ্খল সমাজ ব্যবস্থা, আইনের প্রতি নাগরিকদের শ্রদ্ধাশীল এবং দরিদ্র জনগনকে প্রফুল্লচিত্তে দেখতে চাই।

বীথি: আপনাকে সিলেট এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ?
সালমা বখ্ত চৌধুরী : তোমাকেও সিলেট এক্সপ্রেসকে ধন্যবাদ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট-৬ আসনে নির্বাচন নিয়ে যা বললেন বিএনপির এমরান!

         একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট...

বিদেশ ফেরত ছেলের লাশ আনতে নিজেই লাশ হলেন

         সৌদি আরবে কিছুদিন আগে মারা...