জানাজার নামাজের আগে কেঁপে ওঠল চোখ, অতঃপর…

প্রকাশিত : ২৯ মার্চ, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শামীম মালিক। বয়স ৪০-এর কোঠায়। বার্ধক্যের ছোঁয়া না পেলেও এরই মধ্যে তার শরীরে বাসা বেঁধেছিল নানা রোগ। দুই বছর ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (পিজি) বিভিন্ন হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করাচ্ছিলেন তিনি। সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ডায়ালাইসিস করানো হতো তাকে। গত রাতে পিজি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করিয়ে ভোর ৫টা নাগাদ সুস্থভাবেই বাসায় ফেরেন শামীম। তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। ইতোমধ্যে তার স্বজনেরা কান্নাকাটি শুরু করেন। পাশাপাশি শুরু হয় দাফনের জন্য দৌড়ঝাঁপ। নিয়মানুযায়ী গোসল শেষে কাফন পরানো হয় তাকে।

নামাজে জানাজার জন্য লাশ খাটিয়ায় উঠানোর প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। বিস্ময়কর শোনালেও এমন সময়ই পাশ থেকে একজন জানান দেন : মৃতের চোখ নড়ছে, তিনি এখনো বেঁচে আছেন। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর আবার তার বেঁচে যাওয়ার কথা শোনার সাথে সাথে সবার মধ্যে যুগপৎ দেখা দেয় আনন্দ ও উৎকণ্ঠা। সবাই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রিয়জন আবার বেঁচে উঠেছে বা উঠবে সেই আশায় প্রায় অর্ধশত লোক মিলে তাকে নিয়ে আসেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে হাসপাতালে আনার পর তার ইসিজি পরীক্ষা করে ডাক্তার শোনালেন নিরাশার বাণী। ডাক্তারেরা জানান, অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও মৃত্যুর সনদপত্রে বেলা ১টা ৪ মিনিটে তার মৃত্যুর সময় লেখা হয়। স্বজনেরা আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ যেন মৃত্যুর পরে আবার ফের মারা যাওয়ার ঘটনা।

গতকাল দুপুরে পুরান ঢাকার উর্দু রোডের ৪৮ নম্বর বাসায় ব্যবসায়ী হাজী শামীম মালিকের মৃত্যুকে ঘিরে এমনই ঘটনা ঘটে। মৃত শামীমের বন্ধু বাবু জানান, বুধবার সকালে পিজি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন শামীম। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় চিকিৎসক বাসায় আনা হলে শামীমকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরই তার লাশের জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল। সব প্রক্রিয়া শেষে যখন লাশ জানাজার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে, শেষবারের মতো শামীমের লাশ দেখতে আসা লোকের মধ্যে একজন বলে ওঠেন, শামীম এখনো জীবিত আছে, তার চোখো তারা নড়াচড়া করছে। এ কারণে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা: তারেক জানান, শামীমকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে আনা হয়। স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনেরা জানান, উর্দু রোডে জ্যোৎস্না ভবন নামের পৈতৃক মার্কেটের দেখাশোনা করতেন হাজী শামীম। তার বাবা মৃত অ্যাডভোটেক ফজলুল হক। এক সন্তানের জনক ছিলেন তিনি।নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০৬:০৫ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০৬:০৯নয়াদিগন্ত


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর

         নিজস্ব প্রতিবেদক: মুসলমানদের জন্য রমজানের...

সিলেটের মানুষ আবারও বিপুল ভোটে আরিফুল হককে বিজয়ী করবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  বিএনপির...

আগামী নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  সিলেট-৪ আসনের...

আজ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মরণসভা

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ,...