জাদুসূত্র- এম আলী তালুকদার

,
প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ৫ দিন আগে
  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    54
    Shares

এক্সপ্রেস সাহিত্য ডেস্ক বেচারা দাইয়ান মাথার পেছনের দিকের যে কয়টা চুল আছে সেগুলাও উপরে ফেলতে চাচ্ছে,লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে আসছে।স্কুলের পূর্বদিকের বিশাল পুকুরটা যেন হতাশা ক্ষেত্র আর সে পুকুরে হাবুডুবু খাচ্ছে। রসায়ন স্যার আনিস সাহেব এর ক্লাস ছিল আজ। ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় যাই হোক না কেন স্যার স্কুলে আসবেন এবং ঠিক সময় মতোই ক্লাস নিবেন।পড়া না পারলে মারবেন না, গালাগাল দিবেন না কিন্তু এমন কিছু নীতিবাক্য বলবেন যা এক সাগর লজ্জা এবং আত্ম ধিক্কার এর জন্ম দিবে। কেউ কেউ এটাকে হতাশা হিসাবে নেয় আবার কেউ নেয় মনোভাব এর চার্জ হিসাবে।মধু ছেলেটা স্যার এর নীতি বাক্য শুনে রীতিমত পরিবর্তন হয়ে গেল।নবম শ্রেনীর বিজ্ঞান বইটা ছিল তার পরম অপ্রিয় বিশেষ করে ৭ম অধ্যায়।কিসব বিক্রিয়া,এসিড-ক্ষার পাকস্থলী, pH মিটার তার কাছে অসহ্য লাগতো।বিক্রিয়াগুলো তার ব্রেইনের নিউরনে বিষক্রিয়া উৎপাদন করতো।আর বিজ্ঞানের স্যার রাফসান তার কাছে মনে হতো বিষের বোতল। স্যার বুঝাতেন ঠিকই কিন্তু তার মাথায় কিছুই ঢুকতো না।তার সমস্যা কোথায় তা বের করার সে চেষ্টা করেছে অনেক কিন্তু সে এর সমাধান করতে পারেনি।রাফসান সাহেব প্রতিদিন একটা উদ্ভট পারফিউম ব্যবহার করেন।ক্লাসে ঢোকা মাত্রই এটা তার চিন্তা চেতনাকে এলোমেলো করে দেয়।আচ্ছা, স্যারকে কি সে বলবে যাতে এই পারফিউমটা না ব্যবহার করেন।তার সাহস হয় না।সে ভাবে অন্যরা তো দিব্যি ক্লাস করছে তাদের তো সমস্যা হয়না।একদিন রাফসান সাহেব ক্লাসে আসেননি,তাঁর পরিবর্তে ক্লাস নিতে আসেন আনিস সাহেব।তিনি ৭ম অধ্যায়টা এতো সুন্দর ভাবে বুঝান যে মধু রিতীমত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সে আর্টস থেকে সাইন্স বিভাগে চলে আসবে।অথচ, সাইন্স বিভাগের স্যার ভেবে সে প্রথমে আনিস সাহেব কে কঠিন মেজাজের মানুষ ভেবেছিলো। ক্লাস শেষে যখন তাকে প্রশ্ন ধরান যে pH মিটার কি, উত্তরটা জানা সত্বেও সে উত্তর দিতে পারেনি।রাফসান সাহেব এর ক্লাসের জড়তা হয়তো তখনো যায়নি।এর খেসারত হিসাবে তাকে আনিস সাহেবের কঠিন মেজাজের নীতিকথা তাকে শুনতে হয়েছিল।কিন্তু একি,এই কঠিন মেজাজের কথাগুলো তার ভালো লাগছে।তার একি হলো? তার মন চাচ্ছে যাতে আনিস সাহেব তাকে আরো কঠিন কথা বলেন। কথাগুলো তাকে পরিবর্তন করে দিলো।এখন সে দাইয়ানদের সাথে সাইন্স বিভাগে পড়ে।দাইয়ান এর আজকের ক্লাসের কঠিন বাক্যগুলো খারাপ লাগার সাগরের পরিবর্তে তৈরি করেছে পুকুর।আচ্ছা তার কি মধুর মতো মনোবল বাড়ছে না হতাশা তৈরি হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না।আনিস সাহেব ক্লাসের শেষের দিকে সবাইকে দুই ভাগে ভাগ করেন।একটি গ্রুপের নাম দেন ‘দিপু গ্রুপ’ অন্যটার নাম ‘ সেন্টমার্টিনের প্রবাল প্রাচীর ‘।প্রতি ক্লাসে প্রথম গ্রুপের নাম পরিবর্তন হয়। যেমনঃদিপুর জায়গায় মিতা, হেমন্ত, সামস,মধু ইত্যাদি। কিন্তু ২য় গ্রুপের নাম পরিবর্তন হয়না।গ্রুপ দুটির মধ্যে যে বেশি নম্বর অর্জন করবে সে হবে ‘স্টুডেন্ট অব দ্যা ক্লাস’ এবং তার নাম অনুসারে হয় ১ম গ্রুপের নাম।দাইয়ান একদিন স্টুডেন্ট অব দ্যা ক্লাস হয়েছিল।এর সুবাদে সে স্যারকে ২য় গ্রুপটির নাম পরিবর্তন না করার কারন জানতে চাইলে আনিস সাহেব বলেন যে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৭০% প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়ে গেছে।তাই প্রবাল প্রাচীর এবং প্রকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই নামকরণ করেন।আজ জয়ী হয়েছে দিপু গ্রুপ।দাইয়ান ছিল ২য় গ্রুপে।দাইয়ান প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি তাই তারা পরাজিত হয়েছে।নইলে ড্র হতো।
আনিস সাহেব ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এটা ইঙ্গিত করেন ২য় গ্রপের পরাজয়ের কারন দাইয়ান কারন টার্নিং পয়েন্টে সে উত্তর দিতে পারেনি।গ্রুপের সবাই তাকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করলো।বিশেষ করে সদরে বাসা রিপন ছেলেটা।এই ছেলেটাকে তার অসহ্য লাগে।দাইয়ানের মাথায় চুল কম থাকায় এমনিতেই তাকে হাসির পাত্র বানানো হয় এর মধ্যে আজকের কাহিনী। রিপনের বাবা নাকি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কাজ করে। ইদানিং রিপনের সাথে তুলির বেশ খাতির দেখা যাচ্ছে।এমন সময় তার মনে হলো রাদারফোর্ড এর পরমাণু মডেলের পাতলা স্বর্ণপাতের পুরুত্ব তো ৬×১০^৭। কেন যেন এই কথাটি তার মনে হলো না!এই কথা ভেবে তার হতাশা লাগতে লাগলো এবং সে বুঝতে পরলো যে সে আসলে মধুর মতো মনোবল পাচ্ছে না সে অর্জন করছে হতাশা।তার হতাশা কাটার ২ টি অদ্ভুত উপায় আছে। ১)কেউ তাকে সান্ত্বনা দিবে ২) আনিস স্যার এর কথা ভাববে।যেহেতু সবাই তাকে নিয়ে মজা নিচ্ছে সেহেতু ১ নম্বর উপায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।তাই সে ২ নম্বর উপায় বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। সেভাবে, ” আনিস স্যার প্রতিদিন কিভাবে সময়মতো স্কুলে আসেন প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্বেও?” দুই দিন আগে তুলির সাথে তার বিশেষ প্রয়োজনে সে সকাল ৮ টায় স্কুলে চলে এসেছিলো। তুলি তাকে এরও এক মাস আগে বলেছিল যে দাইয়ানের টাক মাথা নিয়ে সবাই মজা করে।ক্লাস ক্যাপ্টেন হিসাবে তুলি তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করবে এবং সে তাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানাবে।ঠিক এক মাস পর সে তাদের সম্পর্কে এক নতুন মাত্রা দিবে যা ঘোষণা করার কথা ছিল সে দিন।তুলি তাকে সারপ্রাইজ দেয়ার জন্যই সেদিন সকাল ৮ টায় আাসার জন্য বলেছিল।সে দিনের আগের পুরো মাস দাইয়ানের খুবই ভালো কেটেছে। কেউ তাকে নিয়ে মজা নেয়নি।তুলি তার সাথে এতো ভালো ভাবে মিশলো যে দাইয়ান তার প্রতি দুর্বল ও নির্ভরশীল হয়ে পড়লো।সারপ্রাইজটা পাওয়ার জন্য তার মন ছটফট করছিল।সে দিনকার সকালের কাক গুলোকেও তার কেন যে এতো ভালে লাগছিলো!পিপঁড়া তার পরম অপ্রিয় ছিল।কিন্তু সেদিনকার ক্ষুদে পিপঁড়াগুলোও তার কাছে এতো ভালো লাগছিল।কিন্তু তুলি আসলনা।শুরু হলো হঠাৎ বৃষ্টি। সাথে বজ্রপাত আর ঝড়।বারান্দার এক কোণে সে খুবই ভয়ে গুটিয়ে গিয়েছিলো।টানা দুই ঘন্টা চললো বৃষ্টি। মাঠের পানি উঠেছে বারান্দায়, ব্যাঙ ডাকছে চারদিকে।চারদিকে টান্ডা বাতাস বইছে দখিন দিক থেকে।দখিনা বাতাস কি সেদিন সে বুঝেছিল ভালে ভাবেই।স্কুলের পাশের দ্বীপ্তদের সবুজ ধান গাছ গুলোতো স্বাধীনতা দিবসে স্টেডিয়ামে প্রদর্শিত ডিসপ্লে এর মতো ঢেউ খেলে যাচ্ছিলো।স্বাধীনতা, বিজয় দিবসের এই অনুষ্টানগুলো তার খুবই ভালে লাগে।দেশের বিভিন্ন বাহিনী তাদের অস্ত্র আর স্যালুটে তার প্রাণ ভরিয়ে দেয়।গেইটের দ্বারের বড়ো গাছটা ভেঙ্গে পড়েছে অফিসের টিনের চালে।তুলি সময় মতো না আসলেও তার মনে হচ্ছে তুলি আসবে।ঘড়িতে ঘন্টার কাটা ১০ টা ছুঁই ছুঁই করছে।এমন সময় দেখা গেলো কালো রেইন কোর্ট পড়ে কে একজন আসছে।সে ভাবলো, “বেচারি তুলি নিশ্চয়ই। ” কিন্তু না, এ যে আনিস স্যার। এতো প্রতিকূল পরিবেশ থাকা সত্বেও তিনি স্কুলে চলে এসেছিলেন। তার মনে মনে প্রশ্ন জাগলো,” নেপালের মতে ভূমিকম্প হলেও কি স্যার স্কুলে টাইমলি চলে আসতেন? ” সে দিন তুলি আসলো সকাল ১১ টায়। সাথে সদরে বাসা রিপন ছেলেটা।সে দাইয়ানকে একটি চিঠি দেয়ার জন্য বের করলো।দাইয়ান ভাবলো যদি তুলি চিঠিতে কাঙ্ক্ষিত কথাটি লিখে থাকে সারপ্রাইজ দেয় তাহলে সে কি চট করে দারোয়ান সুরেশ কাকার বাড়ি থেকে একটা সাদা গোলাপ নিয়ে আসবে? সে আবার ভাবে,”এরে,এই ঝড়ে গাছটা ঠিকে রয়েছে তো!।” চিঠিটা হাতে নেয়ার পর তার হাত কাঁপছিলো। কি একটা অনুভুতি থাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।তার মনে হচ্ছিলো ঐ দখিনা বাতাসের সব ঠান্ডা অক্সিজেন যেন একসাথে হৃদয়ে ঢুকে যাচ্ছে।তার মনে হলো বাতাস তো ঢুকার কথা ফুসফুসে, তা তার হৃদয়ে কেন ঢুকছে! না তার হৃদপিণ্ডের রক্তগুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে?আনিস স্যার তো বলেছিলেন হৃদয় থাকে ব্রেইনে।তার সাথে হচ্ছে কি।এ যেন স্বর্গীয় অনুভূতি।সে ভাবে,” আমি স্বপ্ন দেখছি নাতো?সকাল ৮ টায় চলে আসা,ঝড়,ভয়,আনিস স্যারের আসা,তুলির চিঠি দেয়া এসব কি নিছক স্বপ্ন!”সে হঠাৎ দেখতে পায় তুলি নেই।সে ভাবে,” সারপ্রাইজ দিয়ে চলে গেলো! বেচারি লজ্জা পেয়েছে।
সে চিঠিটা পড়ে এটা বুঝে ছিলো যে,তুলি বুঝাতে চাচ্ছিলো আগামী মাসে শিল্পকলা একাডেমি তে একটা নাটক প্রতিযোগিতায় তুলি অংশ নিতে যাচ্ছে তাই তার একটা পরীক্ষা মূলক অভিনয় করার দরকার ছিল। তাই তুলি, রিপনের উপস্থিতিতে দাইয়ান এর সাথে অভিনয় করেছে মাত্র।আর এটাই তার সারপ্রাইজ। দাইয়ানের মনে হয়েছিল দখিনা বাতাসের উপস্থিতি থাকা সত্বেও তার কান গরম হয়ে যাচ্ছিলো, রক্তগুলো জমে যাচ্ছিলো। হাটু কাঁপছিলো।তার তখন মনে হয়েছিল সে কেন তার সাথে এই আচরণ করছিলো।বিগত একমাস ‘সময়’ তুলি কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে তার সাথে এতো আবেগ দেখালো? সময়, আবেগ আর দৃষ্টিভঙ্গির সম্পর্ক কি? আচ্ছা সে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে কি দার্শনিক হয়ে যাচ্ছে নাকি তা নিছক তার আবেগ, সে পাগল হয়ে যাচ্ছে না তো? না হলে,সে সময়,আবেগ আর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবছে কেন! সে কি এই তিন চলক নিয়ে আনিস স্যারকে প্রশ্ন করবে? উনি তো সাইন্সের শিক্ষক। উনি এসব সমাজের প্রশ্নের উত্তর দিবেন কি!তার সাহস হয়নি প্রশ্ন করার।হঠাৎ তার পিঠে বরাফের মতো কি একটা যেন গড়িয়ে পড়লো।সে চমকে উঠে এবং ‘২) উপায়ের’ জগত থেকে ফিরে আসে।সে দেখে মধু তাকে বলছে,” কিরে মন খারাপ? আরে আনিস স্যার এমনই।স্যারের কথায় এখনও মন খারাপ!” দাইয়ান মাথা নাড়ে।মধু বলে,” ওহ রিপন ছেলেটা।ওকে আমারও ভালো লাগেনা।শুধু মেয়েদের সাথে থাকে।আর বাচাল একটা।ওর কথায় কান দিলে চলে? সব ঠিক হয়ে যাবে।আচ্ছা আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? আমি জানি তুই পারবে।দিবে?”
দাইয়ান তার হতাশা কাটানোর ‘১) নম্বর উপায় শেষ করে ফেলে এবং নিজেকে হালকা অনুভব করে বলে, ” আমার একটা কাজও তোকে করে দিতে হবে আর তা হলো: তোর ভাই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে অনার্স দিচ্ছেন। উনাকে বলবি যাতে উনি সময়,আবেগ আর দৃষ্টিভঙ্গি এর মধ্যে একটা সম্পর্ক স্থাপন করে দেন উনার নিজের মতো করে।যদি এই কাজ করে দিতে পারিস তাহলে তোর প্রশ্নের উত্তর দিবো।এবার বল তোর প্রশ্ন কি?”
মধু বলে,” আগামী বুধবারে রিপন আর আমার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা হবে।আর হলো একটি ধাঁধার উত্তর দেয়া।এর বিচারক হলো তুলি।সে বেলেছে যে উত্তর দিতে পারবে তার সাথে সে ইয়ে… করবে…”
দাইয়ান বলে,” থাম থাম ইয়েটা কিরে!”
মধু বলে,” বুঝো না! ইয়ে মানে…. কি বল, প্রেম।প্রশ্নটাতো শুনবে? প্রশ্ন হলো,’ডিম আগে না মুরগী আগে?’ ”
দাইয়ান জবাব দেয়,” এই তোর প্রশ্ন! এটা কোনো প্রশ্ন হলো? এগুলাতো মূর্খের প্রশ্ন! উত্তর দেয়াই লাগবে?”
মধু বলে,” দেয়াই লাগবে।রিপন ছেলেটাকে একটা শিক্ষা দেবো।সদরে বাসা,বাবা শিল্পকলাতে চাকরি করে। কি ভাব! তার ভাব আমি ছুটাবো। ”
দাইয়ান বলে,” ঠিক আছে,ঠিক আছে।আচ্ছা তুই আমার পিঠে বরফ দিয়েছিলি না? বরফ পেলে কোথায়?”৷ মধু বলে,” বরফ নয় শিলাবৃষ্টি হচ্ছিলো তো তুই দেখিসনি? তুই এতো কি ভাবিস। আর এতো গভীর ভাব যে একটা শীলাবৃষ্টির বন্যা বয়ে গেলো।তুই কিছুই টের পেলিনা! তোর হয়েছেটা কি?”
দাইয়ান: ” তেমন কিছু না ‘২ নম্বর উপায়’ নিয়ে ভাবছিলাম। ”
মধু, ” ২ নম্বর উপায়! এটা আবার কি?”
দাইয়ান, ” এসব কিছু না,ও তুই বুঝবে না।ডিম খেতে হলে যা করতে বলছি তা করগে।”
মধু তার ভাইয়ের প্রিয় সন্ধ্যা মালতির দুটি ফুল যুক্ত চারা তাকে উপহার দিয়ে অনুরোধ করে যাতে তিনি সময়,আবেগ আর দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে নিজের মতো করে সহজ ভাষায় একটা সম্পর্ক স্থাপন করে দেন ।তার ভাই রাজি হলেন।
তিনি সম্পর্কের নাম দেন ‘ জীবন সূত্র ”

ধরি,
আবেগ (E)
দৃষ্টিভঙ্গি (A)
সময়(T)

এখন,
★E সমানুপাতিক T [জীবন সূত্র ১]
★A সমানুপাতিক T [জীবনসূত্র ২]

এখন,
E×A= C×T
অথবা
E×A= T ; C = 1 or আপেক্ষিক

এখন আমরা বলতে পারি,
E= T÷ A এবং A=T÷E

এবার মধু বলে,” ভাই সহজে বুঝানো যায়? ”
তার ভাই বলেন একটু লক্ষ্য কর, বুঝতে পারবে।তার পরও আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।দেখ, সময়ের(T) সাথে সাথে সমানুপাতিক হারে সময়ের অবস্থা বুঝে আবেগ(E) ও দৃষ্টিভঙ্গি (A) পরিবর্তন হয়। যা বলেছি ‘জীবন সূত্র ১&২ ‘ এর মধ্যে।আর এই দুই সূত্রকে একত্র করে দুইটা বা একটা সমীকরণে প্রকাশ করেছি।আর এই সমীকরণ দুটি হলো,

★আবেগ(E)=
সময়(T) ÷দৃষ্টিভঙ্গি(A)
মানে তুমি তোমার কাঙ্ক্ষিত সময়কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিবেচনা করলে তোমার আবেগ পাবে যা অন্যের সাথে নাও মিলতে পারে। কারন সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়।
আর,
★ দৃষ্টিভঙ্গি (A)=
সময়(T)÷ আবেগ(E)
মানে তুমি তোমার কাঙ্ক্ষিত সময়কে নিজের আবেগ দিয়ে বিবেচনা করলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পাবে যা অন্যের সাথে নাও মিলতে পারে।কারন অন্যের আবেগ আর তোমার আবেগ না!
আর এসব সূত্র মাঝে মধ্যে কাজ নাও করতে পারে কারন মানুষ এতো জটিল যে তাকে সূত্র দিয়ে প্রকাশ করা কঠিন।একজন সমাজবিজ্ঞানী এম এম গরডোন বলেছেন মানুষের ব্যবহার বুঝা হলো বিশ্বের সবচেয়ে উত্তেজনা পূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ।তাই আমি ধ্রুবক হিসাবে C= 1 বা আপেক্ষিক ধরে নিয়েছি যাতে একটা অনিশ্চয়তা থাকে। আর C সব সময় বলে, ‘যা দেখছো তা, না!’ তবে এই সূত্র গুলো তোমায় কাজে দিবে আশা করি।এবার গাছের টবে একটু পুকুরে জল দে তো।” মধু, দাইয়ানের কাছে এসে সব খুলে বললো।দাইয়ান ‘ডিম আগে না মুরগী আগে ‘ এই ধাঁধার উত্তর দিয়ে দিলো।দাইয়ান চলক গুলার সম্পর্ক গুলো দেখে ও বুঝে তার মধ্যে নতুন প্রেরণা পেল।সে ভাবলো আনিস স্যার তাকে কঠিন নীতিবাক্য না শুনালে এবং তুলি অভিনয় না করলে তার মনও খারাপ হতো না আর সে জীবনের নতুন স্বাদও পেতো না।সে আল্লাহ কে ধন্যবাদ জানায় তাকে দুঃখ এবং এর ফলে নতুন জীবনের প্রেরণা দেয়ার জন্য।সে এটা ভাবে যে, যেকোন সময়ে সে কোনো কিছুকে কোন দৃষ্টি ভঙ্গিতে দেখছে এবং এর ফলে তার কি আবেগ সৃষ্টি হচ্ছে তা অন্যের সাথে মিলে যাবে এটা ভাবা ভুল এবং সময়ের সাথে বাস্তবতার নিরিখে আবেগ এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে পারে।আসলেই ‘যা দেখছ তা, না।’
তুলি ধাঁধার উত্তর জানতে চায় রিপন উত্তর দিতে পারেনি। মধু উত্তর দেয়,” আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে *ডিম আগে না মুরগী আগে? * এর উত্তর হচ্চে ‘ডিম’
এর ব্যাখ্যা আমি দুই ভাবে দিচ্ছি
১) এখানে দুটা জিনিসকে তুলনা করা হচ্ছে এক, ডিম এবং দুই, মুরগী। যেহেতু প্রশ্নের মধ্যে আগে মুখ দিয়ে ডিম আসছে বা ডিম শব্দটা আগে আসছে এবং প্রশ্নের মধ্যে ‘আগে’ শব্দটা কাল না অবস্থানের কথা বলছে তা স্পষ্ট করা নেই তাই ধারাবাহিকতা বিবেচনা করে অবস্থানের নিরিখে উত্তর হচ্ছে ‘ডিম’।

এবার,
২) যেহেতু কিসের ডিম এটা স্পষ্ট করে বলা হয় নি এবং বিজ্ঞান বলে যে মুরগির আগে পৃথিবীতে ডাইনোসর এসেছিলো আর আমরা এও জানি যে ডাইনোসর ডিম পারে।তাই তার ডিম মুরগির আগে এসেছিল।তাই উত্তর হচ্ছে ‘ডিম’।
আসলে এগুলা মুর্খের প্রশ্ন। তারপরেও উত্তর দিলাম।এবার বলো ইয়ে করছো তো?”
তুলি বললো,” আমি তোমার উত্তর শুনে অবাক। আসলে আমার নাটকে এই ধাঁধাটা আছে।আর উত্তর জানলে অনেক ভালো হতো।আর আমি জানি যে, তুই এর উত্তর না পারলেও সংগ্রহ করে আনবি।এবার নাটকে ভিন্নমাত্রা আসবে! আমার যে, কি ভালো লাগছে,মধুরে ও আমার মধু! কিন্তু আমি তোর সাথে ইয়েটা করছিনা।নাটকে আমার চরিত্র ছলনাময়ী। আর এর অনুশীলন হিসাবে তোর সাথে অভিনয় করলাম।কেমন হলো রিপন অভিনয়।”
রিপন,” পাক্কা, আমি তো রাদারফোর্ড এর পরমাণু মডেলের জিংকের পর্দায় স্বর্ণ কণার মতো তোমার অভিনয়ের বাহার দেখতে পাচ্ছি!”
এই ঘটনার পর মধু ভেঙ্গে পড়ে এবং দাইয়ানের কাছে সব খুলে বলে।দাইয়ান তাকে ‘জীবন সূত্র ‘ দিয়ে জীবনের নতুন প্রেরণা দেয়।তারা নতুন উদ্যমে পড়ালেখা শুরু করে।তারা ” জাদুসূত্র সংঘ” নামে একটা সংঘ গড়ে তুলে এবং তাদের যে যে বন্ধু মন খারাপ হয় অন্যের দ্বারা তারা তাকে জাদুসূত্র দিয়ে তাকে বুঝায় এবং নতুন জীবন বোধ দেয়ার চেষ্টা করে।এদিকে আনিস সাহেব জাদুসূত্র দেখলেন এবং একে ম্যাজিক অব দ্যা লাইফ’ নামে আখ্যা দিলেন।উনার সহযোগিতায় জাদুসূত্র জাতীয় সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করেছে।এবার জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য ধ্রুবক= C মানে আপেক্ষিকতা নিয়ে গবেষণা করছে ‘জাদুসূত্র সংঘ’। আর তাদের স্লোগান হচ্ছে “C বলে, ‘যা দেখছো তা, না।”


  • 54
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    54
    Shares

আরও পড়ুন