জাতির জনকের মাজারে একদিন

প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এম. শাহরিয়ার কবির সেলিম: আওয়ামীলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীর মনে এই আকাঙ্ক্ষা সবসময় জেগে থাকে যে, যিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন,টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে জাতির সেই জনকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো ।
বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা সম্মিলিতভাবে এই সুযোগ পেলেন গত ২৭ আগস্ট । এদিন এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সিলেট ৬ আসনের আগামীর এম.পি পদপ্রার্থী নৌকার কাণ্ডারি, কানাডা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জননেতা সরওয়ার হোসেন। বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদধারী নেতৃবৃন্দ,বর্তমান এবং সাবেক চেয়ারম্যানবৃন্দ,ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সহ প্রায় ৩০০ জন মুজিব আদর্শের একনিষ্ঠ এবং ত্যাগী নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জেয়ারত করতে যান তিনি। জাতির জনকের মাজার জেয়ারত করে,তার আত্মার শান্তি কামনা করে সবাই সন্তুষ্ট,আবেগে আপ্লুত হন । এ এক অনন্য-অনুপম দৃশ্য । যে দৃশ্য বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মানুষ এর আগে কখনো দেখে নি!
আগস্ট বাঙালির জীবনে গভীর বেদনা নিয়ে আসে । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে শহীদ হন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা,হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।
১৫ আগস্ট ‘জাতীয় শোক দিবস’ উপলক্ষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট -৬ আসনের সম্ভাব্য নৌকা প্রতিকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, কানাডা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন,সাহিত্য-সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক, জননেতা সরওয়ার হোসেনের উদ্যোগে বিয়ানীবাজার- গোলাপগঞ্জের আওয়ামীলীগের তিন শত তৃণমূল নেতাকর্মীকে নিয়ে একসাথে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত করেন। একসাথে এতজন আওয়ামীলীগের কর্মী সাথে নিয়ে জাতির জনকের মাজার জেয়ারত করার মতো এতো সৃজনশীল কাজ কোন সাধারণ রাজনৈতিক কাজ নয়। যা করতে সৎ সাহস ও হৃদয় লাগে। ছলে বলে কৌশলে কেবল নেতাকর্মীদের ব্যবহার করাই যখন আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কর্মকৌশল, সেখানে কানাডা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের গণমানুষের প্রতিনিধিত্বের স্বপ্নচারী, বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান জননেতা সরওয়ার হোসেনের এই কালজয়ী উদ্যোগে হৃদয় নিংড়ানো অভিনন্দন জানাতে হয়। তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক প্রদান করেন ও বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করে আসছি । ছাত্রজীবনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এবং বর্তমানে মহানগর শ্রমিকলীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন জীবনে অনেক স্মরণীয় মুহুর্ত এসেছে,কিন্তু এতোজন নিজ এলাকার নেতাকর্মীর সাথে বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত করে যে তৃপ্তি পেয়েছি তা এককথায় বিরল ।
একসাথে বঙ্গবন্ধুর মাজারে যাওয়ার ঘোষণার পর থেকে বিয়ানীবাজার- গোলাপগঞ্জের নেতা-কর্মীদের মনে অন্যরকম এক আবেগ ছড়িয়ে পড়েছিল । সবাই হৃদয়ে গভীর টান নিয়ে ২৬ আগস্ট রাতে নির্ধারিত রাত ১২ টায় গোলাপগঞ্জের এমসি একাডেমি মাঠে সমবেত হন । সময়মতো যাত্রা শুরু করে আমরা টুঙ্গিপাড়া পৌঁছি । ২৭ আগস্ট বিকেল ৫টায় বঙ্গবন্ধুর মাজার জেয়ারত,দোয়া ও ফুলের শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাই । এসময় আমরা জাতির পিতার আত্মার শান্তি কামনা করি,জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য মহান মাওলার আনুগত্য কামনা করি ।
একসাথে এতজন নেতাকর্মী এতোদূর গেলেও কোথাও আমাদের কোন সমস্যা হয় নি । খাওয়-দাওয়া থেকে শুরু করে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে । জননেতা সরওয়ার সবার দেখভাল করেছেন দায়িত্ব নিয়ে । পাটুরিয়া ফেরিতে নিজ হাতে সবাইকে নাস্তা করিয়েছেন । একজন বড় মাপের নেতার পক্ষেই এটা কেবল সম্ভব । সবার যাতায়াত এবং খাবার-দাবারসহ যাবতীয় ব্যয়ভার তিনি একাই বহন করেছেন । তার প্রতি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই ।
মন না চাইলেও ছাড়তে হয় প্রিয় টুঙ্গিপাড়া । রাত ১০টায় আমরা সিলেটের পথে রওয়ানা দিয়ে সুন্দরভাবে হযরত শাহজালালের (রহ.) পুণ্যভূমিতে নিরাপদে পৌঁছি…
লেখক : সভাপতি,সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগ


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন