জলাতঙ্ক নির্মূলের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

মো. আব্দুল বাছিত:

জলাতঙ্ক নির্মূলের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ে আক্রান্ত হলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। সর্বাবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব কাপড় কাঁচার সাবান ও পানি দিয়ে ১৫ মিনিট ধরে ক্ষত স্থান ধৌত করতে হবে। জলাতঙ্কমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি অন্যকে সচেতন করে তুলার দায়িত্ব নিতে হবে।
২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে সিলেট জেলায় ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান (এমডিভি) কার্যক্রম ২০১৮ উপলক্ষে সিলেট জেলা অবহিতকরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বুধবার (২৪ অক্টোবর) সকালে দরগাহ গেইটস্থ একটি অভিজাত হোটেলের হলরুমে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম।
সিলেট জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ও রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিয়ার রহমান, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ বদরুল হক, জোন্যাটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, সিডিএ, ডিজিএইচএস-এর ডিপিএম ডা. উম্মে রুম্মান সিদ্দিকী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির।


সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক উদ্দিন চৌধুরী, জকিগঞ্জ ইকবাল আহমদ চৌধুরী, গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজ নাজমুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান ফাতেমা, বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর মো. আজম খান, বিয়ানীবাজার উপজেলা রঞ্জিত কুমার আচার্য। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ডা. আবুল হারিছ এবং গীতা পাঠ করেন জসমিতা অর্জুন। উল্লেখ্য, জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে সিলেট জেলার জনসংখ্যার অনুপাতে সমগ্র সিলেট জেলা আনুমানিক ৫৩ হাজার কুকুরের মধ্যে ৭০ ভাগেরও অধিক কুকুরকে দুটি ধাপে টিকাপ্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম পর্যায়ে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সিলেট সদর, বিয়ানীবাজার, কোম্পানীগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর এবং দ্বিতীয় ধাপে গোয়াইনঘাট, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর এবং বালাগঞ্জে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সমগ্র সিলেট জেলায় দুইধাপে ৩০৭ টি টিকাদান টিম কাজ করবে এবং প্রতিটি টিমে ৭জন সদস্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করবে। সভায় বক্তারা কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণীর ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেন। ২০২২ সালের মধ্যে দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। সভায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দ, স্বাস্থ্য, পরিবার ও প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাছাড়াও সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন