জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০১৯     আপডেট : ১ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নূর আহমদ

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। গতকাল শনিবার থেকে নগরীর পয়েন্টে পয়েন্টে মিলছে গরু। ক্রেতা বিক্রেতাদের দাবি বিগত বছরের তুলনায় এবার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরুর কদর একটু বেশি। নগরীর অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা আজ রোববার কোরবানীর পশু ক্রয় করবেন। ফলে শেষ মুহূর্তে পুরোদমে জমবে পশুর হাট।
গতকাল শনিবার সিলেট নগরী ঘুরে দেখা যায়, নগরীর একমাত্র পশুর হাট কাজির বাজার ছাড়াও বিভিন্ন রাস্তার উপরে অসংখ্য অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। এসব হাটে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা পশু আটকে রাখা হয়েছে। শহরে প্রবেশের মুখে ও প্রতিটি রাস্তায় অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে বাইরে থেকে নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের পশু জোর করে নামানোর অভিযোগ করেছেন বহিরাগত ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রচুর পশু আমদানি হয়েছে। বেচাবিক্রিও বেশ বেড়েছে। তবে, চড়া দরে গরু কেনা হওয়ায়, বিক্রেতারা সহজেই গরু ছাড়তে চাচ্ছেন না।
সিলেটের প্রধানতম পশুর হাট কাজির বাজারে কোরবানির গরু কিনতে আসা দক্ষিণ সুরমার আহমদপুরের আব্দুল আলী বলেন, দুইদিন থেকে গরু কিনতে হাটে ঘুরেছি। সবখানেই গরুর দাম অনেক বেশি চাচ্ছে। তাই উপায়ান্তর না পেয়ে মাঝারি সাইজের গরু ৫৫ হাজার টাকায় কিনে বাসায় ফিরছেন।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী রশিদ মিয়া জানান, তিনি ৯০ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন। তিনি বলেন, কোরবানীর ঈদে তিনি দেশে আসেন এবং দেশে কোরবানী করেন। গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের ব্যবসায়ী ছাড়াও কাজির বাজারে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা থেকে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী সাহাদাত হোসেন জানান, চারদিন হলো তিনি ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন। এই চারদিনে তিনিও তার লোকজনের খরচ হয়েছে অনেক টাকা। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ, পরিবহন ও রাস্তার খরচ মিলে পশুর দাম বেশি পড়েছে। তাই, গতবারের চেয়ে কিছুটা বেশি দরে তাদের গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তা কোনো অবস্থাতেই চড়া না।
দেশি গরু ছাড়াও এবার ভারতীয় নেপালী-গরু হাটে এসেছে। এসব গরু আকারে বড়। এছাড়া, মাঝারি ধরনের গরুরও কাটতি রয়েছে পশুর হাটে।
অন্যদিকে, পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা দামের খাসির সংখ্যাই বেশি হাটে। পথে পথে খাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিক্রেতাদের।
কাজিরবাজারে সব ধরণের গরু আছে। তবে এবার দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। বাজারে ছোট ও মাঝারি গরুর পরিমাণ অনেক। এছাড়া, খাসির পরিমাণও চোখে পড়ার মত। ৪০ হাজার টাকায়ও ছোট আকারের গরু পাওয়া যাচ্ছে। তবে, ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে গরু কেনার ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। এছাড়া, ২০ হাজার টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা দামের খাসিও বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে সুবিদবাজার, টিলাগড় পয়েন্ট থেকে এমসি কলেজ, রিকাবী বাজার, নাইওরপুল, শহরতলীর কুমারগাও তেমুখি, শাহপরাণ এলাকা ও বিমানবন্দরের বড়শালা এলাকায় পশুর অস্থায়ী হাট বসেছে।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন জানান, একটি ট্রাকে করে ৬টি গরু নিয়ে আসেন। কুমারগাও তেমুখি এলাকায় আসামাত্র জোরপূর্বক গাড়ি আটকে দেয়া হয়। তিনি জানান, মূলত কাজিরবাজার গিয়ে গরু বিক্রি করার ইচ্ছে ছিল। এখানে তিনি ভাল দামে বিক্রি করতে পরবেন কি না এবং সবকটি গরু বিক্রি করতে পারবেন কি না-এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
কাজির বাজার পশুর হাটের ব্যবস্থাপক সাহাদাত হোসেন লুলন বলেন, অন্যদিনের তুলনায় গতকাল শনিবার বাজার প্রচুর গরু বাজারে এসেছে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে সিলেটে গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের গরুবাহী ট্রাক বিভিন্ন সড়ক দিয়ে প্রবেশ করার পর পরই মোটর সাইকেল দিয়ে ট্রাককে ঘিরে ধরে অথবা বিভিন্ন লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে জোরপূর্বক হুমকি-ধমকি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অবৈধ বাজারে। তাই, যেসব গরু আমাদের মতো বৈধ হাটে আসছে-তারা তাদের পশুর দাম ছাড়তে চাইছেন না। শেষ মুহূর্তে এর প্রভাব সাধারণ ক্রেতাদের উপর পড়তে পারে বলে জানান তিনি।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, নগরীতে অবৈধ পশুর হাট না বসানোর ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। যারা অবৈধ হাট বসাচ্ছে তা উচ্ছেদে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জ্ঞান অর্জনে পূণ্যার্থীদেরকে ব্রতী হতে হবে

         অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এম. সি,...