জমজ

প্রকাশিত : ২৩ জুন, ২০১৯     আপডেট : ৯ মাস আগে  
  

লোকমান হাফিজ:

-ওই তুই কি আমার ভাই বোনকে পড়াতে পারবি? বলল রাশিদ। টং দোকানের দুধের চায়ে চুমুক দিয়ে
সালমান ভাবলো যেহেতু অবসর থাকি প্রায় সময়ই। সেহেতু সময়টা কাজে লাগিয়ে দেই।তাই সে বলল
-হ্যাঁ পড়াতে পারব। ওরা কি তোর আপন ভাইবোন?
-না, ওরা আমার খালাতো ভাইবোন।
-তাহলে তুই পড়াচ্ছিসনা কেনো?
-আমি পড়ালে ওরা আমাকে তেমন গুরুত্ব দেবেনা। বুঝতেই তো পারছিস বাড়ির গরু বাড়ির ঘাস খায়না।
– তা ঠিক বলেছিস।
-তাহলে আগামি মাসের ১তারিখ থেকে শুরু করে দেবে। আমি খালার সাথে কথা বলে রাখব।
-আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে আজকে আসি।
– ওকে, পরে দেখা হবে। বলে রাশিদ চলে গেলো।

সালমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাশিদ। এক সাথেই তাদের পড়ালেখা। তারা প্রতিদিনই একজন আরেকজনের সঙ্গে দেখা করে। সালমান ভাবতেছে খারাপ কি? পড়ানোতো ভালোই। একদিকে মাস শেষে পকেটে কিছু টাকাও আসবে। আর অন্যদিকে বইগুলো আবার রিভিশন দেওয়া ও হয়ে যাবে। ছাত্রজীবনে টাকার খুব প্রয়োজন হলেও টাকা পাওয়া যায়না। কারণ বাসা থেকে যা দেওয়া হয় তা ভার্সিটির খরচ গাড়ি ভাড়া ওই গুলো ছাড়া আর কিছু না।

কথা মতো এক তারিখ থেকে শুরু করে টিউশনি। রাশিদ জিজ্ঞেস করে-
-কীরে কেমন লাগছে টিউশনি?
-ভালোই লাগছে রাশিদ। তবে আরো ভালো লাগছে তোর ভাইবোন দুটুই ব্রিলিয়ান্ট।
জীবনের প্রথম কাউকে পড়ানো ভালোই লাগছে সালমানের।
-ঠিকআছে চালিয়ে যা। তবে আমার খালা একটু রাগী, তুই কিছু মনে করিসনা বন্ধু।
-না বন্ধু এ কী বলিস।

সত্যি রাশিদের খালা খুব রাগী। এবং বদমেজাজী। ভালো কোনো কিছু জিগ্যেস করার সময়ই উনার সুন্দরী বদনখানি আগুনের মতো লাল ঘোলাটে হয়ে যায়। ভয় পেয়ে সালমান নিচের দিকে চেয়ে চেয়ে কথা বলে।

একদিন সালমান পড়াতে যায়নি।
ভয়ে ভয়ে কলিংবেল চাপতেই দরজা খুলেন ভদ্রমহিলা বলেন
– আপনি কালকে আসেননি কেনো?
-আমার একটু কাজ ছিলো। তাই আসতে পারিনি।
-ঠিক আছে তবে শুক্রবারে এসে কালকেরটা কাভার করে যাবেন।
-জি আচ্ছা।
বলে পড়ানো শুরু করে। আর ভাবে আজ থেকে তো আর মিস করা যাবেনা। মিস করাতো দেখছি মহাবিপদ। কিন্তু প্রত্যেক মাসের শেষের দিকে তো সালমান বাড়িতে যেতে হয়। তাই সে খুব চিন্তায় পড়ে যায়।কি করবে এখন।ভেবে পায়না সালমান। একদিন মিস হতেই এমন! চার পাঁচ দিন মিস হলে কি যে হবে আল্লাহ ভালো জানেন।

তার একটি ভাই আছে তার সাথেই থাকে। সে যদি কখনো কোনো ঝামেলায় পড়ে। তাহলে তার ভাই সুফিয়ানের সাথে বুদ্ধি করে। এবারও সুফিয়ান চমৎকার একটি বুদ্ধি দেয়। আর এই বুদ্ধি অনুযায়ী কাজ চলতে থাকে।

একদিন রাশিদকে তার খালা ফোন করে বলেন বাসায় আসার জন্য।
রাশেদ বাসায় আসার পর তার খালা বলেন,
-আচ্ছ রাশিদ, আমিতো স্যারকে ঠিক মতো টাকা দেই। তাহলে কেনো প্রতি মাসের শেষে তিনি মুখ কালো করে পড়াতে আসেন। আমি যখন টাকা দেই তখনও তিনি কালো মুখে আমার হাত থেকে টাকা নেন। আচ্ছা এই টাকায় যদি উনার হয়না তাহলে বললেইতো হয়। আমি আরো টাকা বাড়িয়ে দিতাম।
-নানা খালা ও টাকার জন্য এমন করেনা।
-তিনি যদি টাকার জন্য এমন করেনা তাহলে তিনি মাসের সব দিন হাসিমুখে থাকেন। এমনকি তিনি কোনো দিন লেইট করে আসলে বা টিউশনি মিস করলে আমি রেগে কথা বলি তখনও তিনি আমার সাথে হাসি মুখে কথা বলেন তবে মাসের শেষে এমন কেনো?

-খালা, ঘটনা টাকা নয় ঘটনা অন্যটা। সেটা হচ্ছে, সালমান টিউশনি মিস করলে আপনি রাগ করেন। তাই তিনি তার জমজ ভাই সুফিয়ানকে মাসের শেষের দিকে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। তারা দু ভাইয়েরঙমুখের মধ্যে হুবহু মিল ব্যতিক্রম শুধুই হাসি…

আরও পড়ুন



সিলেট লায়ন্স ক্লাবের খাবার ও ডেন্টাল সামগ্রী বিতরন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:আর্ন্তজাতিক লায়ন্স সেবা...

লা-মাযহাব বিরোধি সমাবেশ স্থগিত

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :  উলামা...

বার্সেলোনায় ছাতক দোয়ারাবাসীর ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

স্পেনের কাতালোনিয়ায় বসবাসরত ছাতক দোয়ারাবাসীর...