জন্মদিনে শুভেচ্ছা

প্রকাশিত : ০২ মার্চ, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আফতাব চৌধুরী: অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা-শিক্ষাবিদ, সমাজ সেবক, কলামিস্ট, গ্রন্থপ্রণেতা, শিক্ষা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে অতি পরিচিত নাম জুবায়ের সিদ্দিকী। বর্তমানে পেশায় শিক্ষক হলেও মননশীল ও সৃজনশীল কর্মকান্ডে তার দৌর্দন্ত প্রতাপ আমরা লক্ষ্য করেছি। চিন্তা ও চেতনায় প্রাগসর আধুনিক মন মননের এক অনবদ্য রূপকার। জীবন যাপনে সাধারণ, পোশাকি নয়-কিন্তু চিন্তা ও চেতনায় অসাধারণ এক মানুষ, কিছুটা অহংকারিও বটে! আধুনিকতার চর্চায় যে ক’জন শুদ্ধপুরুষ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত জুবায়ের সিদ্দিকী তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। সদা বন্ধু বৎসল-অনায়াসে মিশে যেতে পারেন অনুজ লেখক, কবি ও অপেক্ষাকৃত কম বয়েসী তুর্কীদের সঙ্গে। এটি সম্ভব হয়েছে তাঁর অমায়িক সদালাপী আচরণ ও পাঠ্যাভাসের কারণে। একটি কথা প্রনিধানযোগ্য যে তরুণদের সঙ্গে মিশতে যে গুণ একজন বয়ঃজ্যেষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি বা লেখকের থাকা দরকার-তাহলো প্রভাব সঞ্চারী অবারিত পাঠ এবং সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে বিশ্বরোধনের অপরিমেয় চর্চা। জুবায়ের সিদ্দিকী ধারন করেছেন ত্রিকালজ্ঞ ঋষির মত তিনটি কালকে। অতীতকে তিনি বাদ দিতে পারেননি। বর্তমানের উপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্নকে রূপায়নে তরুন প্রজন্মকে সদা জাগ্রত রাখার তার অবিরত চেষ্টা।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয় তাঁর কাছে কেউ কোন কাজে গেলে ক্ষণিকের মধ্যে তিনি তাকে আত্মস্থ করার তীব্র সম্মোহনশক্তি সংরক্ষণ করেন। শিষ্ঠাচার দ্বারা চালিত এ ভদ্রলোক এতই মার্জিত এবং রুচিবোধ সম্পন্ন যে, তার সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও মেলা-মেশার সুযোগে আমি তা আত্মস্থ করার সুযোগ পেয়েছি। এদিক বিবেচনায় আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কোন কু-চিন্তা, কু-পরামর্শ বা পরচর্চা নেই। বৈষয়িক আর্তি নেই। গঠনমূলক আলোচনায় অন্যকে প্রভাবিত করার যে ক্ষমতা তাঁর আছে, আমার নেই। আমি লক্ষ্য করেছি, কেউ কোন সময়ে-অসময়ে বিপদে-আপদে পড়ে তার কাছে গেলে তাকে তিনি শক্তি ও সাহস যুগিয়ে হৃদয়নিংড়ানো ভালবাসার উত্তাপে উত্তপ্ত করেন, উজ্জীবিত করেন। কারো বেলায় তাঁর ব্যত্যয় দেখিনি।
আন্তরিকতার পরশে আলোকিত হৃদয়ের আলোকচ্ছটায় অন্যের অন্ধকার দূর করার ব্রত নিয়েই যেন তাঁর জন্ম। জাতি-ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া এ নির্লোভ ব্যক্তিত্বের জীবনাচরণ থেকে যা দেখেছি, যা পেয়েছি তা দ্বারা আমি নিজে ফলবান হয়েছি। কিন্তু তাঁর মত বিশাল অন্তর খুলে দিয়ে আমি এ পর্যন্ত কাউকে এমনভাবে ফলবান করতে পারিনি, মিশতে পারিনি বা মিশাতেও পারিনি। নিজের অক্ষমতার এমন গ্লানির ভারে আমি ভারাক্রান্ত। তার প্রতি আমার ভারাক্রান্ত হৃদয়ের নিঃসরিত হিংসায় আমি নিজেই জ্বলছি- তাকে জ্বালাতে পারিনি।
জুবায়ের সাহেব, আপনাকে ঘিরে শাহী ঈদগাহ মোড়ে আজকের তারুণ্যের গুঞ্জরনের চিত্রটি যখন দেখি আশান্বিত হই। আমার মনে হয় একটি মধুভর্তি মৌচাককে ঘিরে যেন এক ঝাক পিপাসিতের তৃষ্ণা নিবারনের স্বর্গীয় আকুলতা। আমি তখন বলি পূর্ণ হোক-পূর্ণ হোক। এসব কুসুমের জীবন মন ভাবনার জগত পূন্যময় হউক।
জুবায়ের সাহেব, আপনাকে আমি সাহেবই বলি। এ সাহেবের কোন অর্থ নেই- এটি একটি ভালবাসার ডাক। আসুন আমরা পরস্পরকে ডাক দিয়ে যাই জীবনের পথে। একাত্তরে পদার্পনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলছি দীর্ঘজীবি হোন, বেঁচে থাকুন সুস্থ শরীর ও মন, নিয়ে- হাতটি বাড়ান – হ্যান্ডশেক করি।
সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক সদস্য- কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সদস্য-কার্যকরী পরিষদ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট ট্যুরিজম ক্লাবের ঈদ পূণর্মিলণী ও ফল উৎসব অনুষ্টিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : সিলেট...

আবার আসবেন

         মুয়াজ বিন এনাম: এই কথা...

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখন সিলেটে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সড়ক পরিবহন...

নগরীর তালতলায় ফিজা এন্ড কোং শাখার উদ্বোধন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট নগরীর...