জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের শিমুলবাগান ভ্রমন সম্পন্ন

প্রকাশিত : ০৯ মার্চ, ২০২০     আপডেট : ৭ মাস আগে
  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

হেলেনা বেবিঃ শতত উচ্ছ্বাস উল্লাস আনন্দ আর হৈ-হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের “প্রকৃতির রূপ দর্শন ২০২০” শিমুলবাগান, যাদুকাটা নদী, বাঁশতলা, ভ্রমন।

জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের একঝাঁক প্রাণবন্ত তারুণ্য ও সিলেটের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গত শুক্রবার সকাল নয়টায় আম্বরখানা গোল্ডেন টাওয়ার এর সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের “প্রকৃতির রূপ দর্শন ২০২০” এর অভিযাত্রীদল। বসন্তের স্নিগ্ধ সকাল আর প্রকৃতির স্পর্শের রোদেলা দুপুরের সুরভিত বাতাসে অভিযাত্রীদলের সদস্যরা গান, কবিতা আবৃত্তি ও অতিথি ডেলিকেটদের রসালো বক্তব্যে মুখরিত হয়ে উঠে যাত্রাপথ। অভিযাত্রীদের গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছলে আমাদের সফরসঙ্গী অভিযাত্রীদলের গাইডের দায়িত্বে থাকা সিলেট জজ কোর্টের পেশকার নারজেল হোসাইন তার বাড়িতে অভিযাত্রীদকে স্বাগত জানান। সেখানে সংক্ষিপ্ত চা বিরতি ও উঠোন বৈঠকের পর নৌকা যুগে যাদুকাটা নদী পার হয়ে অভিযাত্রীদল পৌঁছেন সকলের আনন্দ উচ্ছ্বাসের কেন্দ্র স্থল প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দেশের সবচেয়ে বড় শিমুলগাছ ব্যষ্টিত পর্যটন স্পষ্ট শিমুল বাগান।

যাদুকাটা নদীর নিকটবর্তী “মানিগাঁও গ্রামে’ প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা এই শিমুল গাছের বাগান। নদীর ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, মাঝে যাদুকাটানদী আর এপারে রক্তিম ফুলের সমারোহ আর অগুণতি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত শিমুল বাগান। তার পাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির আরেক মায়াময় স্থান বাঁশতলা। সেখানই থেকে টমটম অথবা মোটর বাইকে যেতে হয় মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ অপরূপ রূপদর্শনের লোভনীয় আরেক রূপসী কন্যা “নীলাদ্রি লেক”। প্রকৃতির প্রতিটি নৈসর্গিক লীলাভূমি যেন পৃথিবীতে স্রষ্টার একেক অনবদ্য সৃষ্টিকাব্য। আর আমাদের জন্যে স্রষ্টার এক অপূর্ব দান।

বৃষ্টিস্নাত বিকেলের ২.৩০মিঃ অভিযাত্রীদলের সদস্যরা শিমুল বাগান পৌঁছে প্রথমেই অতিথি ডেলিকেটদের নিয়ে জননী ফাউন্ডেশন এর সেক্রেটারি এডভোকেট জাবেদ আহমেদ এর বার্থডে কে, কেক কেটে সেলিব্রিট করেন। এবং দুপুরের লাঞ্চ পর্ব শিমুল বাগানের শিমুলবৃষ্টির ভিতরেই শেষ হয়। এরপর শুরু হয় গ্রুপ ছবি, সেলফি, শিমুলমালা মাথায় ও গলায় পরে ছবি, গোড়ায় চড়ে ছবি, শিমুলফুলে অলংকৃত প্রিয়জনের নামের প্রথম অক্ষর বিশিষ্ট লাভচিহ্নের ভিতর ছবিসহ সবধরনের ফটোসেশান পর্ব শেষ হয় গুড়িগুড়ি বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে।
এসময় অভিযাত্রীদলের সাথে প্রকৃতির যেন প্রচন্ড অভিমান চলছিলো তাই গুড়গুড়ি বৃষ্টির সাথে দমকা ঝড়ের এক প্রতিকূল আবহাওয়ায় অভিযাত্রারা সেখানে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে পারেননি। সবার সিদ্ধান্ত হয় “নীলাদ্রি লেক” না গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছার। ফিরতি পথে পর্যটকদের ছাউনিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর আকাশ আবার তার অভিমান ভেঙে কালো মেঘঝেড়ে প্রচ্ছন্ন স্বচ্ছতা ও শুভ্রতায় আমাদের আকৃষ্ট করে। অভিযাত্রীদলের সদস্যরা মুহূর্তেই সব ভুলে আবার হারিয়ে যান প্রকৃতির রূপ মহিমায়, উপভোগ করতে থাকেন মেঘালয় কন্যার পাদদেশে বাংলাদেশ সীমান্তে গড়ে উঠা বাঁশতলা আর যাদুকাটা নদীর অপরূপ নির্যাস। গ্রুপ ছবি, সেলফি ও ভাটি বাংলার বাউল, মরমী সাধকদের গানের গানে মুখরিত হয়ে উঠে পড়ন্ত বিকেলের এই স্মরনীয় মুহূর্ত টি।
ফিরতি পথে আসন্ন সন্ধ্যার বর্ণিল মুহুর্তে ফেইসবুক লাইভে সদস্য শিল্পীদের গান পরিবেশন, অতিথি ডেলিকেটদের গান ও অনুভূতি প্রকাশ, এছাড়া সকল ডেলিকেট সদস্যদের অসাধারণ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ তুলে ধরা হয়। লাইভ ও ভিডিও এর দায়িত্বে ছিলেন জননী সাহিত্য সংসদের সদস্য সচিব প্রভাষক মোশাররফ হোসেন ও জননী ফাউন্ডেশন এর সদস্য জান্নাত তালুকদার।

সন্ধ্যার পরপরই আমাদের গাড়ি সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। এর কিছুক্ষণ পর রাস্তায় ব্রিজের পাশে গাড়ি থামিয়ে অভিযাত্রীদলের সকলের পারফরম্যান্স কে উৎসাহিত করে নির্বাচিতদের পুরষ্কার দেয়া হয়।
পুরষ্কার বিতরনীতে অংশ নেন অভিযাত্রীদলের অতিথি ডেলিকেট বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কলামিস্ট সালেহ আহমেদ খসরু, সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট জালাল উদ্দীন, কবি অধ্যাপক বাসিত ইবনে হাবিব, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইউকে বাংলার চেয়ারম্যান মাহবুব লস্কর, ব্যবসায়ী ও সংগঠক লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জননী ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও জননী সাহিত্য সংসদের আহ্বায়ক কবি মোশাররফ হোসেন সুজাত।

ডেলিকেট সদস্যদের মধ্যে বিজয়ী পুরষ্কার প্রাপ্তরা হলেন জননী ফাউন্ডেশন এর সেক্রেটারি এডভোকেট জাবেদ আহমেদ, মোছাম্মত নাবিলা ফাতেমা, ইফ্ফাত জাহান, মোছাম্মত শিফা আক্তার, মোছাম্মত লাকি আক্তার, জান্নাতুল জামিলা মাইশা, সাদিয়া জালাল দিনা ও সাকিব জালাল গালিব। এছাড়া সকল ডেলিকেটদের জননী ফাউন্ডেশন ও সিলেটটাইম ২৪ডটকমের পক্ষ থেকে “ফাউন্ডেশন ও Sylhettime24” এর লগো সম্বলিত বলপেন একটা করে উপহার দেওয়া হয় এবং গাড়িতে সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

পরে ফিরতি যাত্রাপথে অভিযাত্রীদলের গাড়ি শহরতলীর তেমুখিতে পৌছলে অতিথি ডেলিকেট এডভোকেট জালাল উদ্দীন এর আহ্বানে ও উনার সৌজন্যে আবার এক সংক্ষিপ্ত কফি চক্রের অনুষ্ঠান হয় ফুলকলির শোরুমে।
জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের আহ্বায়ক কবি মোশাররফ হোসেন সুজাত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সার্বিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও সকলের পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি সংগঠনের আগামীদিনের কর্মসূচি নিয়ে প্রধান অতিথি হিসাবে দিক নির্দেশনা মূলক বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ফাউন্ডেশন এর সুধী লেফটেন্যান্ট কর্নেল অবঃ সৈয়দ আলী আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ও ডেলিকেট সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের পৃষ্ঠপোষক সদস্য জননী ফাউন্ডেশন এর সুধী বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ কলামিস্ট সালেহ আহমেদ খসরু, সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী জননী ফাউন্ডেশন এর সুধী এডভোকেট জালাল উদ্দীন, জননী ফাউন্ডন এর সুধী কবি অধ্যাপক বাসিত ইবনে হাবিব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষাবিদ ইউ-কে বাংলা ও বাফেট হাউসের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম লস্কর।

জননী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি এডভোকেট জাবেদ আহমেদ এর সঞ্চালনায় ডেলিকেট সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অনুভূতি শেয়ার করেন লেখক ও গ্রন্তাআলোচক মীম হোসাইন, কলামিস্ট জুই ইসলাম, গল্পকার তাসলিমা খানম বিথী, ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান, সিলেট জজ কোর্টের পেশকার নারজেল হোসাইন, এডভোকেট শিপার আহমেদ, জননী সাহিত্য সংসদের সদস্য সচিব প্রভাষক মোশাররফ হোসেন, জননী ফাউন্ডেশন এর সহসেক্রেটারি নজমুল ইসলাম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল আহমেদ, ফাউন্ডেশন এর সদস্য শিক্ষানবিশ এডভোকেট ফাতেমাতুজান্নাত ডলি ও শিক্ষানবিশ এডভোকেট মোঃ হাফিজুর রহমান, সাফা এয়ার সার্ভিস ম্যানেজার আব্দুল মুকিত, সিলেট টাইম২৪.ডটকমের রিপোর্টার নজরুল ইসলাম, লাভলী রহমান, সদস্য তাজুল ইসলাম, আইনুল হক আপন, ইফফাত জাহান, আমিনা খানম, মিজান আহমেদ মিজু, মুজিবুর রহমান, সালেহা খানম, রত্না বেগম, প্রতিমা নাথ, ইঞ্জিনিয়ার রিপন, জান্নাত তালুকদার, রোজিনা রেমা প্রমুখ।

পরে জননী ফাউন্ডেশন ও জননী সাহিত্য সংসদের “প্রকৃতির রূপ দর্শন ২০২০” এর আহ্বায়ক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি কবি ও সাংবাদিক মোশাররফ হোসেন সুজাত সকল ডেলিকেট সদস্য ও অতিথি ডেলিকেটদের জননী ফাউন্ডেশন কে এতো সুন্দর একটা “ভ্রমন ডে” উপহার দেয়ার জন্যে আন্তরিক মোবারকবাদ ও আগামীতে ফাউন্ডেশন এর পাশের থাকার আহবান জানিয়ে দিনের কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


  • 19
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    19
    Shares

পরবর্তী খবর পড়ুন : মানুষরূপী একটি কুকুর

আরও পড়ুন