জগন্নাথপুরের লন্ডনি গফুরকে খুন করে লাশ জৈন্তাপুরে মাটিচাপা

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জগন্নাথপুরের লন্ডন প্রবাসী আবদুল গফুরকে খুন করে লাশ মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল জৈন্তাপুরের মোকামটিলায়। প্রায় ১৮ মাস আগে প্রবাসী গফুর খুন হলেও পুলিশ তার সন্ধান পাচ্ছিল না। গফুরকে খুনের পর খুনি আবুল কালাম তার মোবাইল ফোনটি বিক্রি করেছিল নগরীর করিমউল্লাহ মার্কেটের এক মোবাইল দোকানে। ওই মোবাইলটি পরে আরেকজন ক্রেতা ক্রয় করে নিয়ে যান। পরে পুলিশ মোবাইল ফোনের আইএমওর সূত্র ধরে আবুল কালামকে আটক করলে খুনের ঘটনার পুরো রহস্য উদঘাটন হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ আবুল কালামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। জগন্নাথপুরের পৌর এলাকার বাসিন্দা লন্ডন প্রবাসী আব্দুল গফুর। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে তিনি ছুটি কাটাতে লন্ডন থেকে সিলেটে এসেছিলেন।
গফুরের পরিচিত নুরুল হকের পরিচয়ের সূত্র ধরে জৈন্তাপুরের সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের অফিস সহকারী আবুল কালামের সঙ্গে পরিচয় হয় আব্দুল গফুরের। গত ২০১৭ সালের ৮ই মে নগরীর দরগাহ গেইটস্থ হোটেল রাজধানীতে লন্ডনি গফুরের সঙ্গে দেখা করতে যান আবুল কালাম। এরপর থেকে গফুরের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। খবর না পেয়ে সম্ভাব্য সব স্থানে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজিকরে। একপর্যায়ে গফুরের ভাতিজা লাল মিয়া একটি মোবাইল নম্বর উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যান। রোববার বিকালে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের সহায়তায় জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাটে অভিযান পরিচালনা করে ৩ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারী সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর সদর বাক্ষণগাঁও উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত মর্তুজ আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ, তার জামাতা জৈন্তাপুর দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার শিক্ষক, কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার দত্তেরকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে আনোয়ার হোসেন, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট মোকামটিলা গ্রামের মো. ইদ্রিছ আলীর ছেলে মো. জুনাব আলী। পুলিশি জিজ্ঞাসাদে আটককৃতরা ঘটনার কথা স্বীকার করে এবং মাটিচাপা দেয়ার স্থান পুলিশকে দেখিয়ে দেয়। পুলিশ স্থানটি লাল পতাকা পুঁতে চিহ্নিত করে রাখে এবং পাহারাদার নিযুক্ত করে। তাদের দেয়া স্বীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ সিলেট দরগা মহল্লাস্থ হোটেল রাজরানী হতে নিহত আব্দুল গফুরের ব্যাগ উদ্ধার করে এবং আবুল কালামের বাড়ী থেকে প্রবাসীর পাসপোর্ট উদ্ধার করে। এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদায়ক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং মূলহোতাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- টাকার লোভে প্রবাসীকে হত্যা করে লাশ জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামটিলায় মাটিচাপা দেয়া হয়। আদালতের নির্দেশ পেলে আমরা লাশ উত্তোলন করব। জৈন্তাপুর থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, ঘটনার কারণ এবং মূলরহস্য উদঘাটনের জৈন্তাপুর ও জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। ইতিমধ্যে রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হবে। সুত্র মানবজমিন


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কামরানের ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী আসাদ উদ্দিন যা বললেন

         কামরানের মেয়র প্রার্থীর ব্যাপারে মেয়র...

সুরমা মার্কেট থেকে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

         সিলেট নগরীর সুরমা মার্কেট আহার...

‘ডেঞ্জারজোন’ টিলাগড়ে লাল নিশান উড়িয়ে সন্ত্রাসী ও গডফাদার মুক্ত করার দাবি

10        10Sharesসিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক ঐতিহ্যবাহী এমসি...

কাউন্সিলর আজাদ কাপ ফুটসালের তৃতীয় রাউন্ডের পানতুমাই গ্রুপের খেলা সম্পন্ন

         কাউন্সিলর আজাদ কাপ ফুটসাল টুর্নামেন্টের...