“জকিগঞ্জ উপজেলাকে বন্যাদূর্গত এলাকা ঘোষনার জোর দাবী জানিয়েছেন দিদার লস্কর”

প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে  
  

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলাকে বন্যাদূর্গত এলাকা ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ দফতর সম্পাদক দিদার ইবনে তাহের লস্কর|
গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গেলো কয়েকদিন থেকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা-কুশিয়ারায় পানি মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর এ পর্যর্ন্ত ২৫টি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বন্যার পানি প্রবেশ করে জকিগঞ্জ পৌর এলাকা সহ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে। তলিয়ে গেছে এসব এলাকার বাড়িঘরসহ রাস্তাঘাট। পানিবন্দী রয়েছে উপজেলার শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। একাধিক স্থানে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ডুবে যাওয়ায় ঈদের দিন বিকেল থেকে অনেক স্হানে গাড়ী চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সরকারী ত্রাণ সামগ্রী পৌছেনি| সরকারী যে ত্রান দেয়ার কথা বলা হচ্ছে প্রয়োজনের তুলনায় তা কেবল নামমাত্র| তাই দ্রুত সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণের জন্য তিনি সকলের নিকট আহবান জানান|
তিনি বলেন, উপজেলার জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, কাজলসার ইউনিয়ন, বারহাল ইউনিয়ন, বিরশ্রী ইউনিয়ন, মানিকপুর ইউনিয়ন, বারঠাকুরী ইউনিয়ন ও কসকনপুর ইউনিয়ন পুরোপুরি ও পৌর এলাকার একাধিক ওয়ার্ড, সুলতানপুর ও খলাছড়া ইউনিয়নের অনেক এলাকা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে অন্তত ২৫টি স্থান দিয়ে এবং প্রতিরক্ষা বাঁধ (গার্ডওয়াল) উপচিয়ে নানা স্থানে হু হু করে পানি ঢুকছে জকিগঞ্জে। নতুন নতুন এলাকা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে পানি ঢুকে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রবল বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ইদের পূর্বে গত বুধবার দিবাগত রাতে আকষ্মিক ভারতের বরাক ও লোভা নদীর পানিতে সুরমা কুশিয়া গর্জে উঠে। সুরমা কুশিয়ারা নদী থেকে হাওরের সংযোগকারী ৩৭টি খালনালা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থানে ডাইক ভেঙ্গে জনবসতি প্লাবিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড সবকয়টি সুইচ গেট বসিয়ে পকেট ভাড়ী করলেও নির্মানের এক বছরের মধ্যেই সব সুইচ গেট অকার্যকর হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয় চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড ডাইক মেরামতের প্রকল্প হাতে নিলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আউস ক্ষেত ও আমনের চারা, মৌসুমী শাক সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় এলাকার সাথে জেলা ও উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে| বানবাসী মানুষের খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের আশংকা করা হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকারী ভাবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়নি|
দূর্গত এলাকার করুণ পরিস্হিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে হলেও অনতিবিলম্বে তিনি জকিগঞ্জ উপজেলাকে বন্যা দূর্গত এলাকা ঘোষনা করে প্রয়োজনীয় সহায়তার যথাযথ ব্যবস্হা গ্রহনে সরকারের নিকট জোর দাবী জানান এবং পাশাপাশি বন্যা পরবর্তী পূর্ণঃবাসনের ব্যবস্হা এবং নদীর ডাইক গুলো দ্রুত মেরামত করার দাবী জানান|

আরও পড়ুন