ছড়াকার কামরুল আলমের ৪০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সাহিত্য আড্ডা

,
প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২০     আপডেট : ৩ মাস আগে
  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    35
    Shares

ছড়াকার ও কথাসাহিত্যিক কামরুল আলমের ৪০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রৈমাসিক নক্ষত্রের উদ্যোগে ২৫ নভেম্বর বুধবার সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসর কক্ষে এক মনোজ্ঞ সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়।

ত্রৈমাসিক নক্ষত্রের উপদেষ্টা ও সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি গোলজার আহমদ হেলালের সভাপতিত্বে সাহিত্য আড্ডায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কবি সৈয়দ আলী আহমদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী, বিশিষ্ট কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সহসভাপতি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিম আউয়াল, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ মহা-ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম, কবি ও কলামিস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হক।

নক্ষত্র সম্পাদক গল্পকার জুনায়েদুর রহমান ও ছড়াকার নাঈমুল ইসলাম গুলজারের যৌথ সঞ্চালনায় সাহিত্য আড্ডায় কামরুল আলমকে নিবেদিত ছড়া ও কবিতা পাঠ এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন ঔপন্যাসিক শাহীন শাহ, ছড়াকার নজমুল হক চৌধুরী, গল্পকার তাসলিমা খানম বীথি, কলামিস্ট মাজহারুল ইসলাম জয়নাল, ছড়াকার ও চিত্রশিল্পী কবির আশরাফ, কবি আজমল আহমদ, কবি মাহফুজজোহা, কবি মো. আব্দুল বাছিত, শিশুসাহিত্যিক আবিদ সালমান, কবি ইফতেখার শামীম, শিশুসাহিত্যিক মাহবুব এ রহমান, কবি মোয়াজ্জিম আল হাসান, ছড়াকার মুয়াজ বিন এনাম, কবি জেনারুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম সাদী, গল্পকার রুহুল আমিন দিনার, বাছিত মোহাম্মদ, আমিনা খানম, আহমদ জুয়েল, কেএম জুমায়েল বক্স, সালাউদ্দিন শাহরিয়া, তালহা কাদির, আহমেদ জাকির প্রমুখ। পুরো অনুষ্ঠানটি একঝাঁক তরুণ লেখকের পদচারণায় মুখরিত ছিল। সাহিত্য আড্ডার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও পরে সংগীত পরিবেশন করেন আহমদ কায়েছ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কামরুল আলমের কথাাহিত্য ও ছড়াসাহিত্যের বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, কামরুল আলম নামের সঙ্গে ছড়া শব্দটি অনিবার্যাভাবেই চলে আসে। তিনি ছড়ার কবি। ছড়া ছাড়াও শিশুদের জন্য তার রয়েছে অনেকগুলো গল্পের বই। কামরুলের রচনায় ব্যতিক্রমী কিছু রয়েছে। ছন্দে অলঙ্কার ও পৈুণ্য রয়েছে। ‘পেছনের দরজা’ উপন্যাস লেখার মাধ্যমে সম্প্রতি কামরুল আলম প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি কেবল একজন ছড়াকার নন, উপন্যাস, গল্পসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও তিনি সিদ্ধহস্ত। কবি সৈয়দ আলী আহমদ বলেন, লেখালেখির মাধ্যমে কামরুল আলম তার নিজস্ব অনুসারী লেখক-পাঠক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন; আজকের এই মিলনমেলা এটাই প্রমাণ করে।
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি মুহিত চৌধুরী বলেন, কামরুল আলম প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করে যাচ্ছেন। তার ছড়া ও শিশুসাহিত্য বাংলাসাহিত্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

কলামিস্ট ইনাম চৌধুরী বলেন, কামরুল আলম একজন সৃজনশীল কবি, একজন সুসাহিত্যিক। একজন লেখকের যে গুণাবলি থাকা দরকার এর সবই তার মধ্যে রয়েছে।

কথাসাহিত্যিক ও গবেষক সেলিম আউয়াল বলেন, কামরুল আলম বেঁচে থাকবেন তার সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে। বয়স বিবেচনায় নয়, কাউকে মূল্যায়ন করতে হলে তার সৃষ্টিকর্ম দিয়েই মূল্যায়ন করা উচিত। কামরুল আলম যেভাবে লেখালেখির মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরছেন, অন্যান্য তরুণ লেখকদেরকেও এভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ মহা-ব্যবস্থাপক কবি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, চল্লিশ একটি গুরুত্বপুর্ণ সংখ্যা। অধিকাংশ নবী-রাসূল (আ.) চল্লিশ বছর বয়সে নবুয়্যত লাভ করেছেন। এদিক থেকে বলা যায় কামরুল আলমের সাহিত্য জগতে পরিপক্কতা অর্জনের বয়স হয়ে গেছে। এখন সম্মুখে এগিয়ে যাওয়ার পালা।

কলামিস্ট মোহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, একজন শক্তিমান ছড়াকার কামরুল আলম যে একজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিকও তা বুঝার জন্য আমাদেরকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। প্রায় কুড়ি বছর ছড়া ও শিশুসাহিত্য নিয়ে পড়ে থাকা কামরুল আলম চল্লিশে পদার্পণ করেই প্রকাশ করেছেন উপন্যাস ‘পেছনের দরজা’।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাজার আহমদ হেলাল বলেন, সাহিত্য জীবনের কথা বলে। তরুণ সাহিত্যিক কামরুল আলম চল্লিশ পেরিয়ে একচল্লিশে পা রেখেছেন জীবনের গান গাইতে গাইতে। আমাদের প্রত্যাশা কামরুল আলম একদিন বাংলা সাহিত্যে একজন শক্তিমান সাহিত্যিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জুনায়েদুর রহমান সম্পাদিত কামরুল আলমকে নিবেদিত ত্রৈমাসিক নক্ষত্রের বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।


  • 35
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    35
    Shares

আরও পড়ুন