ছাত্র বন্ধু নুরুল হক নূর

,
প্রকাশিত : ০৫ এপ্রিল, ২০১৯     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তানজিয়া শিশির পুষ্পাঃ

“স্বপ্ন দেখি নতুন করে
গড়ব মোরা সোনার বাংলা
নুরু ভাইয়ের হাত ধরে””

রাজপথের অকুতোভয় বীর; তারুণ্যের প্রেরণা ; ছাত্রসমাজের আশার আলো।বাংলার প্রতিটি শিক্ষার্থীর হৃদয়ের গহীনে যার নাম আজীবন থাকবে।ভুলতে পারবে না শিক্ষিত সমাজসহ সাধারন জনগণ। তাকে নিয়ে আজকের তরুণ প্রজন্ম দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে। হ্যাঁ, আমি আমাদের বীর সৈনিক নুরু ভাইয়ার কথা বলেছি। যিনি ঢাবির ৯৩তম ব্যাচের ইংলিশ বিভাগের শিক্ষার্থী। বরিশাল জেলার পটুয়াখালী উপজেলার গলাচিপায় এই বীরের জন্ম।
আমরা সকলেই জানি ,দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই সরকারি চাকুরিতে ৫৬% কোটা বহাল আছে। বিশেষ করে মুক্তযোদ্ধা কোটা ৩০%, যেখানে মুক্তিযোদ্ধার নাতিরা ও উপভোগ করতে পারে এই সুবিধা।এই প্রহসনের স্বীকার হচ্ছিল মেধাবী শিক্ষার্থীরা কিন্তু প্রতিবাদ করার খুবই অভাব ছিল।অজস্র মেধাবীরা যখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছিল, তখনই ছাত্র সমাজ কোটা সংস্কারের দাবি তুলে । ঢাবির শিক্ষার্থী হাসান আল মামুন ভাইয়ার নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী গড়ে ওঠে “বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ” । নুরু ভাইয়া এটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ধীরে ধীরে এ দাবি জোরালো হয়। দেশের সকল শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নেয়। বিশেষ করে পাবলিক ও প্রাইভেট ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে নেতৃত্ব দে “সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ”-এর ব্যানারে।।তাদের আন্দোলনে বিশেষ গোষ্ঠী নানাভাবে বাধা দেয়। পুলিশ মোতায়েন করা হয় কিন্তু তাদেরকে দমানো যায় নি। ১১ই এপ্রিল ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান জাতীয় সংসদে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের প্রতি সম্মতি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার নির্দেশ দেন। শুরু হয় এখানে কারচুপি, জারি হয় নি প্রজ্ঞাপন। সরকারের দেয়া নির্দিষ্ট তারিখ অতিক্রম করলে আবার ও ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে। এবার ঘটে আর ও ভয়ংকর কাহিনী। আন্দোলনে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেয়া প্রায় সকল ভাইয়ার ওপর মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। তাদেঁর গ্রেফতার করা হয়, টানা 15দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাশেদ ভাইকে। নির্মম অত্যাচার করে, জামাত-শিবির বলে আখ্যায়িত করে। ৩০ই জুন লাইব্রেরির সামনে নুরু ভাইকে মেরে রক্তাক্ত করে। ৩৬ ঘন্টা পর্যন্ত ভাইয়া কিছু খেতে পারে নি। অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল লাইব্রেরির সামনে সেখান থেকে হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হয় নি। রাখা হয়েছিল বারান্দায়, তারপর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্হা করা হয়। আজ ও মনে পড়ে ‘ভাইয়া প্রতিটি লাইভে এসে বলত এটাই হয়ত আমার শেষ লাইভ, আমাকে পুলিশ হয়ত ধরে নিয়ে যাবে, তোমরা আন্দোলন চালিয়ে যায়, ন্যায্য অধিকার আদায়ের আগে একটু পিছপা হবে না, আমাদের শরীরে একফোঁটা রক্ত থাকতে আমারা বেঈমানি করব না । লাইভে থেমে থেমে কথা বলত, দেখলেই বুঝা যেত কতটা কষ্ট হচ্ছে কথা বলতে। এত কিছুর পর ও হার মানেন নি এই বীর । যে লাইব্রেরির সামনে রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিল, যে রাজপথ থেকে জেলে গিয়ে ১৫ দিনের রিমান্ডে ছিল রাশেদ ভাইয়া। মুক্তি পেয়ে বাসায় পৌঁছার আগেই সেই লাইব্রেরির সামনে আসে আবার আন্দোলনে নেমে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীর আন্দোলনের মুখে প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
আরেকটি কথা, দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা “ডাকসু” নির্বাচন। ডাকসু নির্বাচনে অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের মতই অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এই বাংলার সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সচেতন জনগণ তাকিয়ে ছিল বীর সেনানীদের প্যানেলের দিকে। আশা করছিল ভালো কিছু। অথচ তা হয় নি, নির্বাচনের দিন আমরা ভিডিও ফুটেজে দেখতে পাই একটি ছাত্রী হল থেকে সিল মারা ব্যালেট উদ্ধার করা হয়। তার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয় পরিবেশ , তখন নুরু ভাইয়া সহ তার প্যানেল রোকেয়া হলে প্রবেশ করতে গেলে তার উপর আক্রমণ করা হয়। অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় ভাইয়া, তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। ছাত্রলীগ অপপ্রচার চালাতে থাকে নুরুভাই অজ্ঞান হওয়ার ভাব করে সিমপ্যাথি নিচ্ছে। শুধু ছাত্রলীগ পরে সব দল ভোট বর্জন করে এবং পুন:নির্বাচন দাবি করে। এই উত্তপ্ত পরিবেশে ভোর রাতে প্রশাসন রেজাল্ট ঘোষণা করে। নুরু ভাইয়া ভিপি পদে তার প্রতিদ্বন্দির চেয়ে ২০০০ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় অর্জন করে। শত কারচুপির পর ও ঢাবিয়ানরা তাদের সঠিক নেতা বাছাই করে। নির্বাচনের পরের দিন আবার ও ভাইসহ তার প্যানেলের উপর হামলা করে। ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর ও পুন: নির্বাচন দাবি করে। প্রশাসন তাতে অসম্মতি জানায়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীর মতামতের ভিত্তিতে শপথ নেন। গত দুইদিন আগে এস এম হলে বহিরাগতদের তাড়াতে গিয়ে নুরু ভাই, ইমি আপু, সমাজসেবা সম্পাদক “আখতার হোসেন” ভাইয়া তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে ডিম মারে । সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ভাইয়াদের উপর ও ডিম মারতে থাকে। এত কিছুর পর ও ভাইয়া ও তার প্যানেল থেমে যায় নি , আজ ও রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার আদায়ে অবিচল।
এ পি জে আবুল কালাম বলেছিলেন ‘তুমি সূর্যের মত উজ্জ্বল হতে হলে তোমাকে আগে সূর্যের মত পুড়তে হবে। যেটা নুরূকে দেখলে বুঝা যায়।সূর্যের মত পুড়ে কিভাবে উজ্জ্বল হতে হয় সেটা তুমিই দেখিয়ে দিয়েছ। সত্যি নুর এক বীর নেতা যার হাত ধরেই ছাত্র সমাজ এগিয়ে যাবে।

ড. আসিফ নজরুল স্যারতো বলেই দিয়েছেন, “নুরূর মাঝে তরূণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখতে পান”। হ্যাঁ আমরা ও সেটা অনুভব করি। নুরু ভাইয়ের মধ্যে দিয়েই আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চাই। স্যালুট ভাইয়া, এই সোনার বাংলায় আপনার মত নেতা গড়ে উঠুক, প্রতিটি মায়ের এমন একটি সন্তান থাকুক।
স্যালুট ও বিনম্র শ্রদ্ধা ভাইয়ের বাবা-মায়ের প্রতি।

“””নুরুরা জন্মায় না বছর বছর
জন্ম নেয় শত বছর পরপর
চোখে আশার আলো নিয়ে
সকল অন্যায়ের মূলোৎপাটন করতে।

লেখিকাঃ তানজিয়া শিশির পুষ্পা
শিক্ষার্থী, বিএ অনার্স বাংলা প্রথম বর্ষ
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাস্থল পরিদর্শন

         সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী...

বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হলো ২১শে ফেব্রুয়ারি

         ইফতেখার শামীম: রক্তে কেনা বাংলাদেশের...

সিনিয়র নেতাদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী...