ছাতকে প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুর রবের বিরামহীন পথচলা, রয়েছে তার অজানা কথা

,
প্রকাশিত : ০১ জুন, ২০২১     আপডেট : ৮ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেলিম মাহবুব,ছাতকঃ
ছাতকের এক প্রবীণ শিক্ষক আব্দুর রব। যিনি প্রায় আশির কোটায় পা রাখলেও এখনো থেমে নেই শিক্ষা কাজ থেকে। তিনি সিলেট সরকারি পাইলট স্কুল থেকে এসএসসি ও সরকারি এমসি কলেজ থেকে এইচএসসি, বিএসসি (অর্নাস) সহ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি (গণিত) পাশ করেন। পড়া-লেখার খরচ যোগিয়েছেন বৃত্তির টাকা ও প্রাইভেট পড়িয়ে। ১৯৭৫ সালে সিলেট সদরের রাখালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় দিয়ে শিক্ষকতা শুরু। ১৯৭৯ সালে তিনি সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র ৪’শ টাকা বেতনে যোগদান করেন। ১৯৮৪ সালে ডেপুটেশনে ছাতক মহাবিদ্যালয় (ছাতক সরকারি কলেজ) গণিত প্রফেসর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিসিআইসি’তে চাকুরী করার কারনে তিনি খুলনা কেএনএম হাইস্কুল, ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী হাইস্কুল ও সর্বশেষ এস.পি.পি.এম হাইস্কুল থেকে চাকুরী জীবনের ইতি টানেন। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালে পাল্প এন্ড পেপার মিল বন্ধ হয়ে যায়। ওই কারনে মিলের সাথে এস.পি.পি.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আশপাশ এলাকায় আর কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ওই সময় ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা অর্জনে বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষক আব্দুর রব নিজকে সামলে রাখতে পারলেন না। সংসার ও আর্থিক বিষয়াদি সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে বিদ্যালয়টিকে কিভাবে এমপিও ভুক্ত করা যায় সে জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে যান। সকল বাঁধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের প্রচেষ্ঠায় অবশেষে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। শিক্ষকতার সকল যোগ্যতা থাকার পরও বি,এড না থাকার কারনে আব্দুর রব তার হাতে গড়া এমপিও ভুক্ত স্কুলে প্রধান শিক্ষক হতে পারেননি। উল্লেখ্য, ওই সময় বাংলাদেশ ক্যামিকেল ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) অধীনে প্রধান শিক্ষক হতে বি,এড প্রয়োজন ছিলোনা। যার কারনে সকল শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও তিনি বি,এড না থাকার কারনে এমপিও ভুক্ত স্কুলে প্রধান শিক্ষক হতে পারেননি। জীবনে কখনো কারো কাছে মাথা নত করতে শিখেননি। তাইতো এই মহান শিক্ষক জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মনে অসীম শক্তি নিয়ে ২০০৬ সালে বি,এড পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে উর্ত্তীণ হন। ভেবে ছিলেন এবার বুঝি তাকে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক করা হবে। কিন্তু তাতেও মন গলাতে পারেননি সমাজের কিছু স্বার্থপর মহলের। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কারনে তিনি প্রধান শিক্ষক হওয়াতো দূরের কথা বি,এড স্কেল থেকেও বঞ্চিত হন। কর্মক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন না পেয়ে হতাশার গ্লানি নিয়ে চাকুরী জীবনের ইতি টানেন শিক্ষক আব্দুর রব। কিন্তু পিছিয়ে নেই শিক্ষাদানে। প্রায় ৮০ বছর বয়সে এসেও নিয়মিত প্রাইভেট পড়িয়ে বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের শিক্ষা অর্জনে তার আপ্রাণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে তিনি ছেলে মেয়েদের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ান। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন, বিদ্যালয়টিকে এমপিও ভুক্তি করতে গিয়ে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। পেপারমিলের তৎকালীন এমডি এস.কে স্যানাল বিদ্যালয়টি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেন। স্কুলের দায়িত্ব না ছাড়ার কারনে একপর্যায়ে আব্দুর রবের আবাসিক কোয়াটারের পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে তাকে মিলের বাসা থেকেও বের করে দেয়া হয়। ওই সময় বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য এলাকার কোন সুহৃদয় লোকজনের সহায়তাও তিনি পাননি। তার পরও মানসিক দিক দিয়ে ভেঙ্গে না পড়ে মুষ্টিমেয় প্রাক্তন কিছু ছাত্রদের নিয়ে তিনি বিদ্যালয়টিকে এমপিও ভুক্তি করনের জন্য কাজ করে যান। শিক্ষক জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হতে দেখে তার মনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে বলে জানান।##


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

টুলটিকর ইউনিয়ন আ” লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

        টুলটিকর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক...

একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ (বাজেট) অধিবেশন আজ

        একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ (বাজেট)...

আলী আহমদের মৃত্যুতে সিলেট সমাজকল্যাণ পরিষদের শোক

        সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক জাতীয় যুব...