চিকিৎসকের কক্ষে কিশোরী ধর্ষিত: হাসপাতালে তোলপাড়

প্রকাশিত : ১৭ জুলাই, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্তৃক রোগীর সঙ্গে থাকা কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকামে মাহমুদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তরুণীর পিতার দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গত রোববার দিবাগত রাতের এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, নগরীর বনকলা পাড়া এলাকার বাসিন্দা এ কিশোরীর (১৬) অসুস্থ নানী গত তিন দিন ধরে ওসমানী হাসপাতালে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। নানীর সাথে অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে তার নাতনী হাসপাতালে অবস্থান করেন। সেই ওয়ার্ডে চিকিৎসক না থাকায় রোববার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওই কিশোরী প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসকের কক্ষে যান। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকামে মাহমুদ এ কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। গতকাল সোমবার সকালে কিশোরীর বাবা-মা হাসপাতালে এলে কিশোরী বিষয়টি তাদের অবগত করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালে তোলপাড় শুরু হয়। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে ওই কিশোরীকে ওসমানী হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)-এ ভর্তি করা হয়।
কিশোরীর বাবা-মা গতকাল সোমবার সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকামে মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও ভিকটিমের স্বজনদের মধ্যে এ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত বৈঠক চললেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। বেলা ২টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসককে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাহবুবুল হক অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসককে পুলিশে সোপর্দ এবং ভিকটিমকে ওসিসিতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেই সাথে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি হবে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি আরো জানান, হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ফুটেজ সংগ্রহ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ওসিসি’র একটি সূত্র জানায়, ওই কিশোরীর ডিএনএ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের পর বেলা ৩টার দিকে তাকে রিলিজ দেয়া হয়।
কতোয়ালী থানার সহকারী কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর জানান, অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতের মাধ্যমে গতকাল সোমবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
কতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোশাররফ হোসেন জানান, গতকাল বিকেলে নির্যাতিত কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে কতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-২৬। এতে একমাত্র আসামী করা হয়েছে শিক্ষানবীশ চিকিৎসক ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা এলাকার মোখলেছুর রহমানের পুত্র মাকামে মাহমুদকে।
গতকাল সোমবার রাত ১০ টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ- পরিচালক ডা: দেবপ্রদ রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, তদন্ত দল ইতোমধ্যে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত মাকামে মাহমুদ ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

কামরানের জন্য শাহজালাল মাজারে দুআ মাহফিল

         সিলেট সিলেট সিটি র্কপোরেশনের সাবেক...

২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সিলেটের সকল প্রেস বন্ধ

         নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সিলেটের...