চা বাগানের এস.এস.সি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

প্রকাশিত : ২২ জুন, ২০১৯     আপডেট : ১০ মাস আগে  
  

চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে আজ চা বাগানের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বিকাল ৩টায় মালনীছড়া চা বাগানের মান্ডব প্রাঙ্গণে সংবর্ধন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট অঞ্চলের প্রায শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের শুরুতেই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এর পর শুরু হয় আলোচনা সভা। অধীর বাউরীর সভাপতিত্বে এবং রানা বাউরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন শাবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সরকার সোহেল রানা, সাংবাদিক সজল ছত্রী, চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের উপদেষ্টা ও চা শ্রমিক নেতা হৃদেশ মুদি,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস, সংগঠক বিশ্বজিৎ চন্দ্র শীল,বাদল বাউরী,সুচিত্রা দাস প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আপনারা জানেন গত ৬ মে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সেই ফলাফলে দেখা যায় পাহাড় প্রমাণ বাঁধা অতিক্রম করে চা বাগানের অনেক বন্ধুরা এবারের এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে । রাষ্ট্রীয় নীতি এবং বাগান কর্তৃপক্ষের অবহেলার মধ্যেও যারা এই ফলাফল অর্জন করেছে আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই। আপনারা জানেন একটা রাষ্ট্রে শিক্ষার দায়িত্ব ঐ রাষ্ট্রই বহন করার কথা । কিন্তু আমাদের দেশে চলছে ‘ টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতি। বলছিলাম চা বাগান গুলোর কথা। চা বাগানগুলোকে অনেকটা আলাদা হিসেবে দেখছে সরকার। একটু খেয়াল করলে দেখা যায় বাংলাদেশে প্রায় ১৬৬টি চা বাগান আছে। তার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ১২/১৪ টিতে। অন্যদিকে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ১০২টাকা! এ দিয়ে দুই কেজি চাল কিনলে আর কিছু থাকেনা। সেখানে লেখাপড়া চালানো তো অসম্ভব। অথচ সংবিধানের ১৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। সংবিধানের এ ঘোষণা চা বাগানে আজও কার্যকর হয়নি, শুধু তাই নয় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ কর্মসূচিও চা বাগানে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপরও যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে চূড়ান্ত আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার উপকরণই তারা ক্রয় করতে পারে না। ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষা বঞ্চিত হয় চা বাগানের শিক্ষার্থীরা। আবার অল্প যে ক’জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বা উচ্চ শিক্ষায় যায় তাদের বাস্তবে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তারা ছুটির দিনে বা কখনও কখনও স্কুল/কলেজে না গিয়ে কাজ যায়,আর এই উপার্জনের টাকা দিয়ে তাদের শিক্ষা জীবন চালাতে হয়। সেই দুরবস্থা থেকে বাগানের ছাত্র ছাত্রীরা এত বাধাঁকে অতিক্রম করে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু যারা উত্তীর্ণ হলো তাদের মধ্যে কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা এ ধরণের ভয়, আশংকা কাজ করছে। কারণ হাজার হাজার টাকার ভর্তি ফি দিয়ে ভর্তি হতে হবে, যা অনেকের কাছে নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কি? তার জন্য চা বাগানের শিক্ষার সমস্যাকে তুলে ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

পরবর্তী খবর পড়ুন : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

আরও পড়ুন



মালয়েশিয়া যাচ্ছেন জমিয়ত নেতা মুফতি আল আমীন কাসেমী

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:যুব জমিয়ত বাংলাদেশের...

সেলিম আউয়াল ভাই

সাজন আহমদ সাজু যার কাছে...

আরও ২ করোনা রোগী শনাক্ত

দেশে নতুন করে আরও দুই...