চলে গেলেন এফআইভিডিবির প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক যেহীন আহমদ

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০১৮     আপডেট : ১ বছর আগে  
  

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:

গত চারদশকের বাংলাদেশ পর্বে সামাজিক অগ্রসরণে যারা নিরলস কাজ করে গেছেন তাদের একজন সিলেটের কৃতী ব্যক্তি যেহীন আহমদ। স্বনামখ্যাত উন্নয়নসংস্থা এফআইভিডিবি-র জন্মলগ্ন থেকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের আদর্শিক ভিত্তি নির্মাণ ও পরিচালনা কাঠামো প্রণয়নে যেহীন আহমদ তার মেধা, মনন ও সৃজনকুশলতার উৎকৃষ্ট নজির রেখে গেছেন। অত্যন্ত কর্মনিষ্ঠ এই গুণীজন ২৮ অক্টোবর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ কার্তিক ১৪২৫ বাংলা, ১৭ সফর ১৪৪০ হিজরি রোজ রবিবার ভোর ০৬.৫০ ঘটিকায় ঢাকার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে দেশের এনজিও ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন মহলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্বেচ্ছাশ্রমী সংগঠন ও কর্মীবাহিনী উন্নয়নে যেহীন আহমদের অবদান স্মরণ করে এরই মধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ শোকবার্তা প্রকাশ করছেন। প্রয়াতের আমৃত্যু কর্মস্থল এফআইভিডিবি-তে কর্মরত সহ¯্রাধিক কর্মীর মধ্যে বিরাজ করছে শোকস্তব্ধ পরিস্থিতি।
ব্যক্তিজীবনে অকৃতদার যেহীন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল সিলেট শহরের মীরের ময়দান এলাকায়। তার পৈতৃক ভিটা নবীগঞ্জ উপজেলার মোস্তফাপুর গ্রামে। তার বাবা মরহুম নজমুল হোসেন চৌধুরী এবং মাতা মৃত আনজুমন্নেছা চৌধুরী। সিলেটের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক তৎপরতার সঙ্গে এই পরিবারের ছিল ওতপ্রোত যুক্ততা। কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সভাপতি ও আজীবন সদস্য হিসেবে যেহীন আহমদ এর বাবা অবদান রেখেছেন। মরহুমের জেষ্ঠ্য ভ্রাতা মৃত মোশতাক হোসেন চৌধুরী ছিলেন সিলেটের প্রথম আইন মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্গাতা এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন তিনি নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে এফআইভিডিবি-র নেতৃত্ব দেয়া ছাড়াও অসংখ্য স্বেচ্ছাব্রতী সামাজিক সংগঠন নির্মাণে যেহীন আহমদ ভূমিকা রেখে গেছেন। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে একলা নয়, সংগঠিতভাবে অগ্রসর হতে হয়-এই প্রত্যয়ে আস্থাশীল যেহীন আহমদ আজীবন প্রত্যন্ত জনপদের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য তার সমস্ত কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব ডেভলাপমেন্ট এন্ড রিসার্চ (আইডিআর)- এর সিনিয়র ফেলো যেহীন আহমদ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্মেষকালীন আজীবন সদস্য হিসেবে ব্যাপৃত ছিলেন, এর মধ্যে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ(সিপিডি), ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন, এএলআরডি, আরডিআরএস প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি পেয়েছেন দেশবিদেশের স্বীকৃতি ও সম্মাননা। আইসিএই কানাডা তাকে ১৯৯৫ সালের জে.রবি কিড এওয়ার্ড প্রদান করেছিল অ-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের নকশা প্রণয়নে উদ্ভাবনী অবদানের জন্য।
সক্রিয় শিখন পদ্ধতিতে প্রাথমিক শিক্ষায় একটি বিশেষ শিক্ষণ প্রক্রিয়া প্রবর্তনায় তিনি অবদান রেখেছেন। নব্বইয়ের দশকে ফ্রেইরিয়ান তত্ত্ব সহজিকরণে দেশব্যাপী তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। বয়স্ক ও ব্যবহারিক সাক্ষরতার কর্মসূচি ও উপকরণ উন্নয়নে যেহীন আহমদের উদ্ভাবনী চিন্তা এদেশের সাক্ষরতার হার উন্নীতকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। সাহিত্য ও সংগীতের রসজ্ঞ হিসেবে তিনি ছিলেন পরিচিত ও আপনজনদের মহলে ব্যাপকভাবে গ্রাহ্য একজন ব্যক্তি। নির্মোহ চরিত্রের নির্লোভ এই সন্তপ্রায় ব্যক্তিটি চিরদিন বঞ্চিত মানুষের সঙ্গে মাটিবর্তী থেকে কাজ করে গেছেন।
যেহীন আহমদের মরদেহ রবিবার সন্ধ্যায় সিলেটে তার বাসভবনে আনা হবে। পরদিন সোমবার বাদ জোহর হযরত শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন



আজ মহান মে দিবস

আজ শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত...

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১’র জাতীয় শোক দিবস পালন

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : স্বাধীনতার মহান...