চক্রান্তকারীদের রুখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রকাশিত : 25 November, 2019     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে  
  

সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গেইট সংলগ্ন মাঠে বেলা ২টায় জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। তবে, সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও হট্টগোলের কারণে তা হয়নি। সূত্র জানায়, কমিটি গঠন নিয়ে কোন সমঝোতা না হওয়ায় হট্টগোল শুরু হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের সমর্থকদের স্লোগানে সম্মেলনে হট্টগোল শুরু হলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমাবেশ স্থল ত্যাগ করেন। নেতৃবৃন্দ পরে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান।
এদিকে, সম্মেলনের শুরুতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিলেট-১ আসনের এমপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। সিলেট সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যানের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শাহ মোশাহিদ আলী, মহিলা সম্পাদক নাজনীন হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুনন্নেছা এমপি।
উদ্বোধকের বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের এক বিস্ময়। এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে জনগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করেছিলেন বলে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের পিছনে ষড়যন্ত্রকারীরা রয়েছে। কিছুদিন পূর্বেও লবণ গুজবের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। তাই চক্রান্তকারীদের রুখতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একতা সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না।
তিনি বলেন, আগামী ২ বছর আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছর আমাদের মুজিব বর্ষ শুরু হচ্ছে। এসেময় আমরা সারা বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও কর্ম তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানানো হবে। বাংলাদেশের দরিদ্র দেশের যে পরিচিতি তা দূর করে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হবে। তাই নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব অনেক বেশি।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি যা ওয়াদা করেছিলেন তা সম্পূর্ণ করেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রে আমর ব্যাপক উন্নতি করেছি। জনগণ সেই সুফল পাচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের নেতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি দেশ ও জাতিকে উন্নয়নের সোপানে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি দেশ ও জনগণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারেন।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন জেলা সম্মেলনের একটি রিহার্সেল উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোলাপগঞ্জ ছাড়া সবগুলোতেই কমিটি হয়েছে। গোলাপগঞ্জে একটু সমস্যা হয়েছে। আজকের সম্মেলনে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা তরুণ-যুবকরা রয়েছেন, আছেন অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ প্রবীন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাসহ সবাই উপস্থিত আছেন।
তিনি দুর্নীতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া জেলে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন না। বাঁশি দিয়ে ক্ষমতা দখলের দিন শেষ। তিনি নিজেও চুরি করেছেন ছেলেকেও চোর বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রাতদিন কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দু‘একজনের বদনামের দায়িত্ব দল নিবে না। তাই তিনি দল থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। যিনি অন্যায় করবেন তার ছাড় নেই। তিনি সিলেটের মানুষের প্রশংসা করে বলেন, সিলেটের মানুষের নিকট থেকে তিনি মানবিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, অতিথিপরায়নতা শিখেছেন। সিলেটের মানুষ রাজনীতি সচেতন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্যায়ে কাউন্সিলে প্রার্থীদের নাম প্রস্তাব করা হয়। ১০ জন সভাপতি প্রার্থী ও প্রায় ১৪ জন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করার চেষ্টা করেন নেতৃবৃন্দ। কিন্তু, একক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি। এসময় কাউন্সিলে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানাতে থাকলে অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান। এরপর জেলা নেতৃবৃন্দও তাদের সাথে আলাপ করেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় তারাও পরে বেরিয়ে যান।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন চেয়ারম্যান বলেন, যথারীতি প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় অধিবেশনে কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় গোলযোগ। নেতৃবন্দ সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্মীরা নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানায়। ফলে নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাসদের লাল পতাকা মিছিল ও সমাবেশ সফলে প্রচারণা

মহান রুশ বিপ্লবের ১০২তম বার্ষিকী...

আইইবি সিলেট কেন্দ্রের ঈদ পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঙ্গলবার

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি)...

নগরীতে মশা নিধনে সিসিকের অভিযান

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট নগরীতে...

তুরকখলা হাড়িয়ারচরে ফুলতলী রহ.ইসালে সওয়াব মাহফিল আজ

সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক:  দক্ষিণ সুরমা...