ঘোষিত সীমানার বাইরেও বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্তির দাবি

প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট, ২০২০     আপডেট : ৩ সপ্তাহ আগে
  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বৃদ্ধির ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশের পর থেকে এক অন্যরকম আমেজ বিরাজ করছে ঘোষিত এলাকাগুলোতে। আবার এক সাথে পাশাপাশি বসবাস ও গ্রামীণ অবকাঠামো প্রায় একই হওয়া সত্বেও কেবল মৌজা’য় না থাকায় বাদ পড়েছে বেশ কিছু এলাকা। এমন এলাকার বাসিন্দারা সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। এমনকি দক্ষিণ সুরমার ১০টি ইউনিয়নকেই অন্তর্ভুক্তির দাবি উঠেছে। এই দাবির স্বপক্ষে অনেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। অন্যদিকে, ঘোষিত ‘গণবিজ্ঞপ্তি’র দেয়া তথ্য মতে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আপত্তি দাখিলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি সংক্রান্ত ‘গণবিজ্ঞপ্তি’ গত ১০ আগস্ট সোমবার প্রকাশ করে সিলেট জেলা প্রশাসন। গণবিজ্ঞপ্তিতে সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও ৮০, মইয়ারচর ৮১ (দাগ নম্বর ৭৭, ৮২, ৮৩, ৮৯, ৯০, ৯১ ব্যতীত), খুরুমখলা শাহপুর ৮২, আখালিয়া ৮৮, খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও ৮০, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর ১ম খন্ড ৯৩, টিলাগড় ৯৫, দেবপুর ৯৬, কসবা কুইটুক ১০০, সুলতানপুর চক ১০১, পেশনেওয়াজ ১০২, টুলটিকর ইউনিয়নের সাদিপুর ১ম খন্ড ৯৩, টিলাগড় ৯৫, দেবপুর ৯৬।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের হবিনন্দি ১০৭, মণিপুর ১০৮, আলমপুর ১০৯, গোটাটিকর ১১০, বরইকান্দি ইউনিয়নের পিরিজপুর ১১৪, ধরাধরপুর ১১৫, বরইকান্দি ১১৬, গোধরাইল ১২৬ এবং তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর ১১৫, বরইকান্দি (অবশিষ্টাংশ) ১১৬, বলদী ১২৫ (আংশিক) (দাগ নম্বর ২১৯৯-২৩৪৯, ৩৫০৯-৩৫১১, ৩৫১৩, ৩৫৩৫)। তবে পূর্বে এসব মৌজার যেসব অংশ সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলো বাদ দিয়ে বাকি অংশ এখন অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে আয়তন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় নগর কর্তৃপক্ষ। এরপর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সর্বশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এম আব্দুল মোমেনের চেষ্টায় ২য় দফা আয়তন বৃদ্ধি পাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের।
২০০২ সালে ২৬ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে যাত্রা শুরু করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। ঐ সময় দক্ষিণ সুরমার তিনটি ওয়ার্ড (বর্তমান ২৫,২৬ ও ২৭ নং ওয়ার্ড) অন্তর্ভুক্ত করতে গেলে বিরোধিতা করেন এলাকাবাসী। সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভূক্ত হবেন না মর্মে জানিয়ে সভা-সমাবেশ করতে থাকেন অনেকে। এমনকি জনশ্রুতি রয়েছে যে, সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রতিবাদী অনেকেই ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন। এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার পুরো দক্ষিণ সুরমা উপজেলাকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান। সম্প্রতি ‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি, সিলেট’ এর ব্যানারে তারা সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে তাদের দাবি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)’র আওতাধীন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করার। এই স্মারকলিপি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দপ্তরেও প্রদান করা হয়। দক্ষিণ সুরমার ১০ ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘সদর দক্ষিণ নাগরিক কমিটি সিলেট’র সভাপতি ও মোল্লারগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মো. মকন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর মোঃ আজম খান’। তাদের সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ সাইফুল আলম, বরইকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাবিব হোসেনসহ উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের মৌজা ধরাধরপুর ১১৫,বলদি ১২৫ আংশিক দাগ ২১৯৯,২৩৪৯,৩৫০৯,৩৫১১,৩৫১৩ ও ৩৫৩৫ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যা ইউনিয়নবাসী প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে ঐ ইউনিয়নের সচেতন সমাজও পুরো ইউনিয়নকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে স্মারকিলিপি দিয়েছেন।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত বিষয় অবগত করার লক্ষ্যে সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে মতবিনিময় সভা করেছেন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমদ। তিনি ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এতে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া না হওয়া নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মতামত তুলে ধরেন বিশিষ্টজনেরা। অন্যদিকে টুকের বাজার ইউনিয়নেরই ৩নং ওয়ার্ডের টুকের গাঁও, গৌরিপুর ও নোয়াগাঁওয়ের একটি অংশ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তির দাবীতে গতকাল শুক্রবার বিশাল মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। একইসাথে মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ তাদের দাবি যৌক্তিক বলে বক্তব্য দেন।
অপরদিকে, ‘গণবিজ্ঞপ্তি’তে ঘোষিত এলাকাসংলগ্ন অনেক পাড়ামহল্লা সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করেন এসব গ্রামবাসী। এলাকাবাসীর দাবি ঘোষিত এলাকার লাগুয়া গ্রামগুলো অন্য মৌজায় পড়লেও সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। তাদের দাবি উপযুক্ত নয় বলে মৌজা থেকে চিহ্নিত দাগগুলো বাদ দেয়া যেতে পারলে পার্শ¦বর্তী মৌজার উপযুক্ত পাড়ামহল্লা নেয়া যাবেনা কেন? তারা এ বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
গত ২০ আগস্ট বুধবার বিকেলে নগর ভবনে ‘আগামীর সিলেট’ প্রকল্প সংক্রান্ত এক সভায় আয়তন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে স্থানীয় সাংসদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে দ্বিগুণ নয়, আট গুণ বড় করা দরকার। তিনি বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) আয়তন দ্বিগুণ বাড়িয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সিটির আয়তন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বড় হবে। তবে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এই নগরীকে অন্ততঃ আট গুণ বড় করা দরকার ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন আরো বলেন, নগর বড় হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, উন্নয়নও বাড়বে। এতে উন্নয়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে। আপাততঃ সিটিকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। তবে আরও অনেক ইউনিয়ন আছে, যারা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। তারা তাদের দাবি তুলুক। ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিলেটের উপ পরিচালক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। গণবিজ্ঞপ্তিতে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখের মধ্যে আপত্তি জানানোর কথা বলা হয়েছে। অনেকেই আপত্তি বা দাবি জানাচ্ছেন। এ নিয়ে আলোচনা হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। তবে নতুন করে কতটি ওয়ার্ড সংযুক্ত হচ্ছে এটি এখনই বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।


  • 8
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    8
    Shares

আরও পড়ুন

সিলেট ৬টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিল

         আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে...

রাজকীয় বিয়ের আমন্ত্রন পেলেন ব্রিস্টলের নাছিম তালুকদার

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: প্রিন্স হ্যারি...

পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

         পুলিশের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা...