ঘুরে এলাম পৃথিবীর অন্যতম প্রলম্বিত সমূদ্র সেতু”বাহরাইন ব্রীজ”

,
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২০     আপডেট : ৬ মাস আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুহিউল ইসলাম মাহিম চৌধুরী:
৯ই অক্টোবর ২০২০ ইংরেজি,রোজ শনিবার। রাতের অাঁধার কেটে সুবহে সাদেকের পর সবে মাত্র সৌদী অারবের অাকাশ রং বদলাচ্ছে । খানিকটা পর চতূর্দিক থেকে মুয়াজ্জিনের কন্ঠে ছড়িয়ে পড়লো অাসসালাতু খাইরুম মিনান্নাউম । এমনি মুহুর্তে অাবকিকের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী প্রিয় সাহিদ ভাইয়ের ফোন । মাহিম ভাই নামাজ পড়ে তাড়াতাড়ি অাসুন অামার দোকানের সামনে। অামরা অাপনার জন্য অপেক্ষা করছি ।
অবশ্য গতকাল রাতেই কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল । অামি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিলাম বাহরাইন সেতু দেখতে গেলে ভাল হয় । তবে সিদ্ধান্তের অাগেই অামি রুমে চলে অাসি ।
অামাকে বলা হয়েছিল যেখানেই যাওয়া হউক না কেন অামাদের যাত্রা শুরু হবে ফজরের সালাতের পরপর । সূতরাং প্রস্তুত থাকবেন ।
অাজানের সাথে সাথে অামার ঘুম ভাঙ্গার অাভ্যাস দীর্ঘদিনের । এদিকে সাহিদ ভাইয়ের ফোন । তাড়াতাড়ি সালাত পড়ে বেরিয়ে পড়লাম । এসে দেখি অামার অাগে প্রায় সকলেই উপস্থিত । বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মর্তুজা খাঁন ভাই এসেছেন । এসেছেন দাম্মামের অাবকিক শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অাব্দুর রব ভাই । এসেছে ছোট ভাই সালমান । সকলে নিজ নিজ গাড়ী নিয়ে এসেছেন । সাহিদ ভাই বললেন, অাপনার প্রস্তাবের কারণে অাজকে যবো বাহরাইন ব্রীজ দেখতে। তাঁকে ধন্যবাদ দিলাম অার মনে মনে অনেক খুশীও হলাম।
অামরা দুটো গাড়িতে করে রওয়ানা দিলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ।
সৌদী অারবের রাস্তায় অাপনি সারাদিন জার্ণী করলেও তেমন ক্লান্তি অাসবেনা । কারণ,বিশাল বিশাল মোটরওয়েতে কোন খানাখন্দ নেই । রাস্তাগুলো অনেক মসৃণ । তাছাড়া ট্রাফিক পয়েন্ট ছাড়া সেখানে গাড়িকে তেমন ব্রেক করতে এবং হর্ণ বাজাতে হয়না বললেই চলে । সবমিলিয়ে কমফোর্টেবল জার্ণী বরাবরই লোকজনকে ভ্রমণে অাগ্রহী করে তোলে।
অামরা মাত্র ঘন্টা দেড়েকের ভেতরে পৌছে গেলাম খোবার এলাকায় বাহরাইন সেতুর টুল বক্সের পাশে । এখানে গাড়ী প্রতি বিশ রিয়াল করে পেইড করে অামরা চললাম কাংখীত সেতুর দিকে ।
অারব সাগরে ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু তৈরী করেছে সৌদি আরব আর দ্বীপ রাষ্ট্র বাহরাইন।সময়ের ব্যাবধানে এই সেতু এখন হয়ে উঠেছে লাখ লাখ ভ্রমণ পিয়াসীদের বিনোদন কেন্দ্র।
১৯৮১ সালে সৌদী এবং বাহরাইনে সড়ক যোগাযোগ সৃষ্টির জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়েছে দুই ধাাপে। সাগরের উপর দিয়ে বারো কিলোমিটার অতিক্রম করার পর প্রায় এক কিলোমিটার স্কয়ার নয়নাভিরাম এলাকা জুড়ে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম অাইল্যান্ড। এ অাইল্যন্ডকে অনেকে পাসপোর্ট দ্বীপ নামেও অভিহিত করেন । এরপর অারও বারো কিলোমিটার ব্রীজ ।
সেতুটি অতিক্রম করার সময় মোবাইল ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করলাম । দুই দিকে অারব সাগর তার জৌলুস অার গরিমা নিয়ে বহমান। অামার মনে হচ্ছিলো অামরা স্পিডবোটে করে সাগর জলে ভাসছি। কারণ ব্রীজের নিম্নাংশ পানির সাথে মিশে অাছে।
ব্রিজটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, দূরে থেকে দেখলে মনে হয় যেন পানির উপরেএকটি ভাসমান রেখা । যা এপার ওপারকে একীভূত করে রেখেছে । ব্রীজের মাঝখানটা ডলফিনের পিটের মত খানিকটা উঁচু ।
প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নির্মিত এ মৈত্রী সেতু ১৯৮৬ সালে সৌদী বাদশাহ ফাহাদ এবং বাহরাইনের বাদশাহ শায়েখ ঈসা বিন সালমান অাল খলিফার উপস্থিতিতে উদ্ভোধন করা হয় ।
অামরা যাত্রা বিরতি করলাম সৌদী অারব এবং বাহরাইনের মধ্যখানে দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম অাইল্যান্ডে। এখান থেকে বাহরাইনের অালজাসরা এলাকা দেখা যায়। অাবার বিপরীত দিকে তাকালে সৌদী অারবের অাল খোবারের অাজিজিয়া এলাকা অাপনার চোখে পড়বে । সৌদী অার বাহরাইনের মধ্যবর্তী সাগরবক্ষের এ কৃত্রিম ভূখন্ড সবুজ ঘাস অার ফুলের বাগানে সমৃদ্ধ করে রাখা হয়েছে । ভাবতে পারবেননা মরুময় কোন দেশে অাপনি অবস্থান করছেন । তবে দু”দেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে মাঝেমধ্যে মাথা উঁচু করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে অাছে অনেকগুলো খেজুর গাছ ।
কৃত্রিমভাবে গড়ে তোলা সাগর বক্ষের পাসপোর্ট দ্বীপে দাঁড়িয়ে যেদিকেই চোখ যাচ্ছিলো সেদিকেই সূন্দরের সমারোহ। কোনটা প্রাকৃতিক অাবার কোনটা মনুষ্য সৃষ্ট । সাগর পারে হাটাহাটি করলাম অনেক্ষণ। উপরে নীলাভ অাকাশ,সমতলে সাগরের অথৈ নীল জলারাশি,মৃদু উর্মিমালা অার প্রাতঃকালীন শান্তিদায়ক হিমেল হাওয়া দেহ-মনকে শিহরিত করছিল ।
এখানে অাছে ফিশিং পয়েন্ট । অাছে ওয়াচ টাওয়ার। কিন্তুু করনাকালীন সময়ের কারণে ফিশিং পয়েন্ট এবং ওয়াচ টাওয়ারের গেইট বন্ধ ছিল। রয়েছে ইমিগ্রেশন সেন্টার । অাছে অত্যাধুনিক হেটেল ও সুরম্য মসজিদ। খাবারের জন্য অাছ মেকডোকল্ড এবং সৌদী অালমারাই কোম্পানীর শোরুম ।
সমূদ্রের স্বচ্ছ জলে ছোটছোট মাছেদের জলকেলি দেখে মনে হল তারা তাদের জন্মভূমিতেই অাছে অার অামরা যেন শুধুই তাদের বাড়ীর দূরদেশী মেহমান।
সকাল দশটা পর্যন্ত অারব সাগরের বুকে দুইদেশের প্রান্তসীমায় নয়নাভিরাম কৃত্রিম ভূখন্ডের সৌন্দর্যে অবগাহন করে ফিরে অাসলাম অস্থায়ী ঠিকানার দিকে অার পেছনে পড়ে রইলো এরাবিয়ান দ্বীপদেশ কিংডম অব বাহরাইন।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরবর্তী খবর পড়ুন : পারি না তোমায় ভুলিতে

আরও পড়ুন

সিলেট জেলা বিএনপির বিশেষ জরুরী সভা সোমবার

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: সিলেট জেলা...

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন কামাল হোসোন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: আপিল শুনানি...

বাঁচানো গেল না স্কুল শিক্ষিকা এমেলিকে

1        1Shareশেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না...