গোয়াইনঘাট প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলা

Alternative Text
,
প্রকাশিত : ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ৪ বছর আগে

গোয়াইনঘাট (সিলেট) থেকে সংবাদদাতাঃ সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রতিপক্ষকে হয়রানী করতে পরিকল্পিতভাবে একাধিক মামলা দায়ের করছে মামলাবাজ একটি পক্ষ। ক্ষেতের জমি থেকে গো-খাদ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে মূল ঘটনা হলেও এ চক্রটি পরিকল্পিতভাবে গর্ভপাত ঘটিয়ে করেছে আরেকটি মামলা। বিজ্ঞ আদালত ও সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দায়েরকৃত বাদী ও বিবাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের ইসলামপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের পার্শ্ববর্তী পিয়াইন নদীর সন্নিকট জমি থেকে গো-খাদ্য (ঘাস) সংগ্রহকে কেন্দ্র করে ইসলামপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সোবহান, হান্নান ও একই গ্রামের সরাফত আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী ও জসিম উদ্দীনের মধ্যে গত ৩ আগষ্ট সকাল ১০টায় বাক-বিকান্ডা হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ঊভয় পক্ষের ৬/৭ জন লোক আহত হন। আহতদের মধ্যে আব্দুস সোবহান, ফরিদা খাতুন ও আব্দুল জব্বার, গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় আব্দুল মতিনের ছেলে সোবহান বাদী হয়ে মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর, জসিম, সাকিল ও শাহ আলমকে বিবাদী করে সিলেট আমল গ্রহনকারী ৬ নং আদালতে ১৪/০৮/২০১৮ ইং তারিখে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, সি,আর মামলা নং- ১৫৫/১৮, এই মামলায় হনুফা বেগমসহ আরো ৭ জন স্বাক্ষী ছিলেন। উক্ত মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় ২০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে সিলেট সিনিয়র জুটিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত (৬নং) আরেকটি সি,আর মামলা নং- ১৫৮/১৮, দায়ের করেন আব্দুল হান্নান। এ মামলায় আব্দুল হান্নান দাবী করেন ৩ আগষ্টের দিন ঘটে যাওয়া মারামারিতে তার অন্তঃসত্বা স্ত্রী হনুফা বেগমের গর্ভপাত নষ্ট হয়। তিনি এ মামলায় আব্দুল কাশেম, হানিফ, মনির, মোহাম্মদ আলী, জসিম ও শাহ আলমকে বিবাদী করে আদালতকে লিখিতভাবে জানান উক্ত বিবাদীরাই তার অন্তঃসত্বা স্ত্রীর গর্ভপাত নষ্ট করিয়াছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুটিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালত সিলেটের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আতিক হায়দার অফিসার ইনচার্জ গোয়াইনঘাট থানাকে এ এজাহারটি ঋওজ রজু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। অপরদিকে আসামী পক্ষ সিলেট পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আব্দুল হান্নানের স্ত্রী হনুফা বেগম পরিকল্পিতভাবে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে গর্ভপাত ঘটিয়েছেন বলে তারা দাবী করেন। ওই অভিযোগকারী সরাফত আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন আরো জানান ৩ আগষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় বিজ্ঞ বিচারকের আদালতে দায়েরকত সি,আর মামলা নং- ১৫৫/১৮, এতে হনুফা বেগম স্বাক্ষী ছিলেন। তারা বলেন হনুফা বেগম ১৫৮ নং মামলায় উল্লেখ করেছেন তিনি গোয়াইনঘাট মেডিকেল থেকে ৫দিন চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে হনুফা বেগম ৬ তারিখ পর্যন্ত কোনো মেডিকেল ও ভর্তি হন নি। আমাদেরকে হয়রানীর উদ্দেশ্যে ৭ আগষ্ট গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। ৮ আগষ্ট গোয়াইনঘাট মেডিকেল থেকে রেফার নিয়ে সিলেট ওমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক তথ্যের ভিত্তিত্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট পুলিশ সুপারকে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন। জানতে চাইলে আব্দুল মতিন ও সুবহানকে মোবাইল ফোনে বার বার ফোন দিলেও অপর পান্ত থেকে কেউ ফোন রিসিভ করেনি।


আরও পড়ুন

সিলেট প্রেসক্লাবে জরুরি সভা

 সিলেট প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক...

সাহিত্য চর্চা মানুষের চিন্তা-চেতনাকে সুন্দর করে

 সাইক্লোনের সাহিত্য আসরে বক্তারা বলেছেন,...

মহান স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে চর্চা করতে হবে

 সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি...