গোলাপগঞ্জের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন তামান্না

,
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২০     আপডেট : ২ মাস আগে
  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares

এক্সপ্রেস ডেস্ক :- বিয়ের ২ মাস পেরোইনি। হাতে রয়েছে মেহেদির রং। মেহেদির রং না শুকানোর আগেই জীবন দিতে হলো তামান্না বেগমকে। তামান্না বেগমের বাড়ি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের ফুলদি গ্রামে। তবে মা-ভাই-বোন ও পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার এমসি একাডেমি সংলগ্ন একটি বাসায় ভাড়া থাকেন। তামান্না গোলাপগঞ্জ উপজেলার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

এদিকে প্রায় ২মাস আগে সিলেট নগরীর একটি জিন্দাবাজারস্থ আল-মারজান শপিং সেন্টারের ঐশি ফেব্রিক্স নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. আল মামুনের সাথে জাঁকজমক ভাবে বিবাহ হয় তামান্না বেগমের।

ঘাতক আল-মামুন এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামুনের বিরুদ্ধে আগের স্ত্রীর দায়ের করা মামলাও রয়েছে। আগের স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে মামুনের।

সিলেট নগরীর উত্তর কাজীটুলার এলাকার অন্তরঙ্গ ৪/এ বাসার দুতলার একটি কক্ষ থেকে সোমবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর দেড়টায় দক্ষিণ সুরমা থানার ফুলদি এলাকার মেয়ে নববধূ সৈয়দা তামান্না বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই মাস আগে এই বাসায় এই দম্পত্তির বিয়ে হয় এবং কিছুদিন আগে এই বাসায় উঠেন। তার স্বামী আল মাসুম জিন্দাবাজারের আল মারজান মার্কেটে ফ্রেব্রিকস এর ব্যবসা করেন। বর্তমানে স্বামী পলাতক রয়েছেন। তামান্না লালাবাজার এলাকার সৈয়দ ফয়জুল হোসেন মেম্বারের মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসএমপির মূখপাত্র এবিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তামান্না বেগমের ঘরের দরজা তালাবদ্ধ দেখে বাড়িওয়ালা ও প্রতিবেশিদের সন্দেহ তৈরি হলে তারা পুলিশকে খবর দেন। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তামান্না বেগমের লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেম এর জন্য ওসমানী হাসপাতাল মর্গে পাঠান। । তবে তার স্বামী আল মামুন পলাতক রয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তামান্নার স্বামী মো. আল মামুনের জন্মস্থান বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার হোগলারচরে। তবে তার ভোটার আইডি কার্ডে ঠিকানায় রয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বারুতখানা এলাকার নাম। তিনি বারুতখানা এলাকার আবুল কাশেম সরদার ও আমম্বিয়া বেগমের ছেলে।

তামান্নার খালাতো ভাই মো. ইকবাল হোসেন জানান, মামুন আগেও একটি বিয়ে করেছে। সেই বিয়ের বিষয়টি গোপন করে সে তামান্নাকে বিয়ে করে। এ ক্ষেত্রে মামুনকে সহায়তা করেন মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্সের শাহনাজ পারভিন নামের এক মহিলা কর্মকর্তা।

ইকবাল আরও বলেন, ওই মহিলা মামুনকে তার চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দেন এবং তামান্নার পরিবারে বিয়ের জন্য পীড়াপিড়ি করতে থাকেন। বিয়ের সময় টাকা দিয়েও শাহনাজ পারভিন সাহায্য করেন তামান্নার পরিবারকে। এসময়ের শাহনাজ পারভিনের আচরণই আমাদের কাছে সন্দেহজনক ছিলো। এ বিয়েতে তামান্নার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদের অসম্মতি ছিলো। কিন্তু শাহনাজ পারভিনের পীড়াপিড়িতেই এ বিয়েটি হয়।
মামুনের বিরুদ্ধে তার আগের স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলাও রয়েছে জানান তামান্নার খালাতো ভাই ইকবাল। সে স্ত্রীর ঘরে একটি সন্তানও রয়েছে মামুনের।
এদিকে, সৈয়দা তামান্না বেগমকে হত্যার অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের ভাই সৈয়দ আনোয়ার হোসেন রাজা বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় এই মামলা দায়ের করেন (মামলা নং ৫৮)। মামলায় নিহতের স্বামী মো. আল মামুনসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- এমরান, পরভীন, মা্হবুব সরকার, বিলকিস ও শাহনাজ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ নং আসামি এমরান (৩০)-কে সোমবার (২৩ নভেম্বর) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছেন।


  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    21
    Shares

আরও পড়ুন

জুড়ী এসোসিয়েশন পুলিশ এর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: জুড়ী এসোসিয়েশন...

লায়ন্স ক্লাব কুশিয়ারার শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

         লায়ন্স প্রাক্তন জেলা গর্ভনর লায়ন...

বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হলেন মাহবুব আলী

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক :একাদশ জাতীয়...