গল্প:: লাশের মিছিলে

প্রকাশিত : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮     আপডেট : ২ বছর আগে
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুহুল আমিন দিনার: নাবিল কে তাঁর দাদু বিরাট বড় এক দুঃসাহসিক কাজ দিয়ে রেখেছেন। কাজটা হলো লাশ গুনে রাখা। তাদের বাসায় দৈনিক দুটা খবরের কাগজ আসে,এখান থেকে প্রতিদিনকার ঘটে যাওয়া মৃত্যুর সংখ্যা লিখে রাখা। এটা বছর শেষে দাদুকে রিপোর্ট বুজিয়ে দিতে হবে। এর আগে দিয়েছিলেন দুর্নীতির তালিকা করতে,সেটা শেষ হয়েছে এ বছর, এখন দিয়েছেন এটা। আগের টা বেশ জটিল মনে হয়েছিল নাবিলের কাছে,কারণ সংবাদ পুরোপুরিভাবে পড়ে তাঁরপর বোঝতে হতো এটা দুর্নীতি সংবাদ কিনা। এখন তাঁর ধারণা যেটা দিয়েছেন সেটা আগেরটার চেয়ে সহজ হবে। কিন্তু কাজটা যত সহজ বেভেছিলো সেটা এতটা সহজ নয়,প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হচ্ছে। কোনোটা আবার বেশ কয়দিন নজর ধারি করতে হচ্ছে আহত লোকটির জন্য, মরল কি মরলনা। আবার কখনো খবরটির গুরুত্ব ক্ষমে গেলে সেটা পত্রিকাওয়ালারা ছাপায়না। তাই বলা যায় তাঁকে খুব সচেতনতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হচ্ছে।

জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন,নাবিল অপেক্ষায় আছে পত্রিকার জন্য। সকাল নয়টার দিকে পত্রিকা এসে দিয়ে যায়। আজ একটু ল্যাট করে ফেলেছে। যাহোক পত্রিকা হাতে হাতে পেয়ে পড়তে শুরু করলো। হাতে সময় আছে এক ঘন্টা,দশটার দিকে বাবা উঠেন,তারপর দাদু পত্রিকা খুলে বসেন। আজ লাশ হয়েছে পনেরোজন। নাবিল লিখে রাখলো। সব গুলো ঘটনার সবিস্তর বর্ননা পড়তে হয়েছে তাঁর। রাতে ঘুম হলোনা তাঁরর, বারবার ঘটনা গুলো চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ইঠতে দেখেছে। খুব মশকিলে পড়েছে সে রাতে কোনো ভাবেই ঘুম ভালো হলো না তাঁর। ভয় কাজ করেছে সারাটা রাত্রি। সকাল হলে আবার নাবিল পত্রিকা খুলে বসল। মানুষের করুন মৃত্যু থাকে যন্ত্রনা দিতে লাগলো,সব গুলো ভয়ংকর বস খুন পড়তেছে। দেশের কি হলো এত খুন, নাকি এটা সব দেশে একটা কমন ব্যাপার। নদিতে বেসে উঠছে লাশ,রাতের আধারে খুন হচ্ছে মানুষ। লাশ আর লাশ। আগুল দেখলে যেমন পতঙ্গ জাপদেয় তেমনি ভাবে মানুষ যেমন লাশ হবার জন্য যাপ দিচ্ছে।

বছরের আজ শেষ দিন, নাবিএ দাদুর সাথে খেতে বসেছে। কথায় কথায় নাবিল বলল,দাদু একটা ভালো মিছিল করতে হলে কতজন লোক দরকার। হাজার হলে ভালো হয়। তবে আমাদের দেশে শত মানুষের মিছিল হলে সেটাকে ধরাহয় বেশ বড় মিছিল। কেনো?ও কথা বলছ দাদু ভাই।
দাদু আজ কিন্তু আপনাকে লাশের রিপোর্ট জমাদেয়ার দিন। বিকেলে বস কিছু জমাদেবো।
সামাদ সাহেব ভ্রুকুচকে থাকালেন। কবে কখন দায়িত্ব দিয়েছিলেন তার টিক মনে পড়ছেনা। দিয়েছিলেন হয়তো,হতে পারে। এখন অভাক লাহগছে এত বড় একটক ভয়ংকর কাজে থাকে ইনবল্ব করেছেন। কাজটা মোটেও টিক হয়নি।

বিকেলে নাবিল ফিরে আসছেনা, সামাদ সাহের তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। স্কুল ছুটি হয় বেলা তিনটায়,এখনি ফেরার কথা। দেরি হচ্ছে কেনো?সামাদ সাহেব নাবিলের মাকে ডাকলেন,নাবিল ফেরেনি এখোনো সেটা জান্তে তাড়ানা দিলেন। সামাদ সাহেব কথা শেষ করতে পারলেননা,সামনে গেইট দিয়ে দেখলেন একটা এমবুল্যান্স ডোকতে। সামাদ সাহেবের হ্নদয়টা ক্ষেপে উঠলো। এটুপর দেখা গেলো একটি লাশ বের হয়ে আসতে, লাশটি নাবিলের। আজ বিকেলেই সে আক্সিডেন্ট করেছে।

সকালে, নাবিলেররিপোর্টের খাতাটা পাওয়া গেলো, লিখা আছে নয়শ নিরানব্বই টি লাশ। সামাদ সাহেব আরেকটি লাশ যোগ করলেন। হাতটা তাঁর কাপছিলো। ৩১/০৮/১৮


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও পড়ুন

জাতীয় শোকদিবসে সিকৃবিতে রক্তদান কর্মসূচি

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক : জাতির জনক...

পরিবর্তন এর উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

         সিলেট এক্সপ্রেস ডেস্ক: পরিবর্তন সিলেটের...

সিলেট-১ আসনে জমিয়তের মনোনয়ন কিনলেন আলহাজ্ব রইছ উদ্দিন

         সিলেট এক্সেপ্রেস ডেস্ক : আসন্ন...

আবারো মানবতার সবজি বাজার নিয়ে সিলেট মহানগর যুবলীগ

           করোনাভাইরাসের আতঙ্কে যখন সারা...